ঢাকাশনিবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

এন্টি ফেমিনিস্ট নাকি এন্টি ফিমেল

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৮, ২০২৩ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

এন্টি ফেমিনিস্ট নাকি এন্টি ফিমেল :
এই বিষয়টা পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য আমাদের সর্বপ্রথম ফেমিনিস্ট কি বা এটা বলতে কি বোঝায় সেটা বুঝতে হবে।এবং এন্টি ফেমিনিস্ট সম্পর্কে ও জানা জরুরি।১৮৩৭ সালে ফরাসী দার্শনিক ও ইউরোপীয় সমাজবাদী ‘চার্লস ফুরিয়ে’ প্রথম নারীবাদী শব্দটির প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যবহার করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।নারীবাদ ( Feminism) এবং নারীবাদী ( Feminist ) । শব্দদুটি ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭২ এ, যুক্তরাজ্যে ১৮৯০ এ, এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৯১০ এ।ফেমিনিজম হলো একটা দর্শন যা নারীর জন্য সব ক্ষেত্রে পুরুষের সমান অধিকার ও স্বাধীনতাকে সমর্থন করে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে নারী – পুরুষের মধ্যে সাম্যাবস্থা নিয়ে আসা। এখন কথা হচ্ছে এটা ফেমিনিজম বা নারীবাদ না হয়ে এটা হিউম্যানিজম বা ইক্যুলিজম হতে পারতো।কিন্তু ইক্যুলিজমে নারী পুরুষ উভয়ের দাবি আদায়ের উদ্দেশ্য চেষ্টা করা হয় কিন্তু এখানে শুধুমাত্র নারীদের বিষয় গুলোই প্রাধান্য পায়। নারীবাদ বা নারীবাদী সম্পর্কে আমাদের সমাজে যে প্রচলিত ধারণা আছে তা পুরোপুরি সঠিক নয়।আবার এখানে অনেক নারীরা এই বিষয়গুলো নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেন।আর কতিপয় কিছু পুরুষ সমাজ বিষয়টাকে অস্বাভাবিক ভাবে উপস্থাপন করে থাকেন।

 

কিন্তু আসল বিষয় হলো আমাদের সমাজব্যবস্থা যদি নারীদের অনুকূলে থাকতো তাহলে এসব চিন্তা ভাবনা আমাদের সামনে আসতো না।নারী তার অবস্থান শক্ত করার জন্য, তার অবহেলিত জীবনে সম্মানের ছিটেফোঁটা বজায় রাখতে নিজের কোমলতা বিসর্জন দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। উদ্দেশ্য একটাই কেউ যেন আঙুল তোলার সাহস না পায়।নারী তার নিজেকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেই এত ঝুঁকি নেয় কিন্তু সমাজ যদি ইসলাম অনুযায়ী নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হতো তাহলে এসবের কোন প্রয়োজন ই ছিলো না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি নারী বা পুরুষ কেউ ই কারো সমকক্ষ হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।কারণ একজন নারী রাজমিস্ত্রী বা রোড কনস্ট্রাকশনের কাজ যেমন করতে পুরোপুরি সক্ষম নয় তেমনি একজন পুরুষ ও সন্তান জন্মদান বা ব্রেস্টফিডিং করতে অসম্ভবপর।এখানে দুজনকে ছাড়া দুটো সিস্টেমের পুরোটাই অচল।শুধু মাত্র নারী বা শুধু মাত্র পুরুষ দিয়ে পুরো সমাজব্যবস্থা সুচারু রুপে পরিচালনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে নারীবাদের দোহায় দিয়ে কিছু নারী অশ্লীলতা এবং বেহায়পনার আশ্রয় নিয়ে থাকে।এটা কখনোই নারীর অধিকার হতে পারে না। সমাজব্যবস্থায় প্রত্যেকটা নারী বা পুরুষকে একটা পরিমিতি পর্যায় পর্যন্ত থেমে যেতে হয় এর উপরে গেলে বিষয়টা আর স্বাভাবিক থাকে না।আমরা বর্তমানে নারীবাদী বললেই যে চিত্র গুলো আমাদের দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে সেগুলো অনেকটা এমন বিড়িখোর,নেশাখোর, ছোট চুলওয়ালা,পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা বখে যাওয়া নারী।কিন্তু হিজাব ইস্যুতে যে নারী নিজের অধিকার ফিরে পেতে চায় সেটাও নারীবাদ বলে আমি মনে করি।এককথায় নারীবাদ হলো নারীর ন্যায্য অধিকার। কিছু অশ্লীল নারীকে পরখ করে আমাদের ভ্রাতৃসম্প্রদায় পুরো নারী জাতীর দিকে অবিশ্বাসের তীর ছুড়ে। আজকাল ফেসবুক, ইন্সটা খুললেই দেখি নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ছড়াছড়ি।বিষয় হলো সব মেয়ে তো আর অধিকার নিয়ে মাঠে নামে না,লিফলেট বুকে দাড়ায় না,প্রেস কনফারেন্স করে না,পোশাকের স্বাধীনতা দাবি করে না।তারা তো হিজাবের স্বাধীনতার জন্যও আন্দোলন করে। তাহলে ভালো দিক গুলো দূরে ঠেলে আপনারা কেন শুধু তাদের খারাপ টায় পর্দায় আনতে চাইবেন? এটা তো এন্টি ফেমিনিস্ট না এটা এন্টি ফিমেল। এখানে পুরো নারীজাতিকে অবজ্ঞা – অবমাননা করা হয়ে থাকে। এই নারীরাই আপনাদের কারো বোন,কারো মা,কারো স্ত্রী বা কারো আদরের কন্যা।

 

 

তাই আমাদের এই সমৃদ্ধির পথে পুরুষ বা নারীর কার অবদান বেশি আর কার পিছুটান বেশি এসব মৌলিকতা পিছনে ফেলে আমাদের জাতীয় কবির সাথে সুরে সুর মিলিয়ে বলি,
“আমার চোখে পুরুষ রমনী কোন ভেদাভেদ নাই,,।বিশ্বে যা কিছু মহান চির কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”তবেই সমাজ পাবে এক সম্প্রীতীর বন্ধন আর নারীপুরুষ উভয়ই পাবে শান্তি এবং স্বস্তি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা একদিন আমাদের কাঙ্খিত সেই স্বপ্নের পৃথিবী গড়ার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মহাসড়কে উত্তরন করবো বলে আশা রাখি।আসুন না,রেষারেষি ভুলে মানুষ হিসাবে বাঁচি।

 

শাম্মী আক্তার
ইতিহাস বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial