ঢাকাশুক্রবার , ২৭ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ফিলিস্তিন যেন উম্মুক্ত কারাগার 

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৭, ২০২৩ ২:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভৌগোলিক রাজনীতির জন্য ফিলিস্তিন এক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যা ভূমধ্য সাগরের জর্ডান নদীর মাঝে অবস্থিত। এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপ এই তিন মহাদেশের জন্য ফিলিস্তিন একটা ভৌগোলিক মধ্যমণি।একসময় ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড অনেক থাকলেও কালের পরিক্রমায় তা দখলদার ইজরায়েলির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দীর্ঘ ৬ যুগ ধরে নিজেদের ভূমি রক্ষার জন্য ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীরা এই দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে আসছে।
চলুন জেনে আসি ফিলিস্তিনকে কেন উম্মুক্ত কারাগার বলা হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে বিশ্বের আনাচে-কানাচে ইহুদিরা বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করে আসছিলো।বর্বরতা,খুন,রাহাজানি, শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী হিসেবেই ইহুদিরা খুব বেশি সুনামের অধিকারী ছিলো।প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তিকে সহায়তা করার বদৌলতে বিশ্ব মোড়লরা ১৯১৭ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীতে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করে।তৎকালীন  বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর, তার নামানুসারে চুক্তিটির নাম হয় বেলফোর চুক্তি। এ চুক্তি ঘোষণার ফল হলো যাতে পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়।এ ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিন এলাকায় ইহুদি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয় এবং বিপুল সংখ্যক ইহুদি ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন করতে থাকে।যে ভূমিকে ইহুদি খ্রিস্টানরা তাদের পূর্ব পুরুষদের দেওয়া ভূখণ্ড এবং পবিত্র ভূমি হিসেবেও দাবি করতো।
ইহুদিদের ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপনের আরেকটা কারণ হলো মুসলিমদের খেলাফত ব্যবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়া এবং এই সুযোগে ইহুদি এবং খ্রিস্টানরা মিলে চরম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বেলফোর নামক গাদ্দারি চুক্তির মাধ্যমে মুসলিমদের সাথে গাদ্দারি করে তাদের বসতি উচ্ছেদ করার পায়তারা করতে থাকে এবং ইজরায়েল রাষ্ট্রের ভীতটা মজবুত করে।
১৯২৪ সালে উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় মুসলিমদের একক নেতৃত্ব থাকে না যার ফলে মুসলিম দেশগুলো অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।এ সুযোগে ইহুদিরা নড়বড়ে অবস্থায় যতটুকু ভূমি দখল করে খেলাফত বিলুপ্ত হওয়ায় তার চেয়েও বেশি ভূমি দখল করতে উঠেপড়ে লাগে।এতে ফিলিস্তিন বাসীর উপর ইজরায়েলের অত্যাচার,নির্যাতন বহুগুণে বেড়ে যায়।অবস্থা বেগতিক হলে ১৯৪৮ সালে শুরু হয় আরব ইজরায়েল প্রথম যুদ্ধ। কিন্তু বিশ্ব মোড়লদের একক  সহায়তায় ইজরায়েল আরব-ফিলিস্তিনদের পরাজিত করে। এভাবে ক্রমান্বয়ে ৪টি আরব ইজরায়েল যুদ্ধ সংগঠিত হয়।প্রতি যুদ্ধেই আরবরা ইজরায়েলের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।ফলে আরবদের উপর বিশেষ করে ফিলিস্তিনবাসীর উপর নেমে আসে ঘোরতর অন্ধকার। নির্যাতন,জুলুম, ধর্ষন,নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যাসহ ভূমি দখলের এক নৃশংস কাজে নামে ইজরায়েল। এমন কোন নির্যাতন নেই যা ফিলিস্তিনের উপর করা হয় না।এই দখলদার বাহিনী কতৃক ফিলিস্তিনিদের ওপর নৃশংস নির্যাতন তা পুরো বিশ্ববাসী দেখছে।কিন্তু মানবিকতার দিক থেকে আমরা তাদের জন্য কিছু করতে পারছি না।বরংচ যতটুকু সাহায্য সহযোগিতা আসে তা ইজরায়েল বাহিনী কতৃক বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিলিস্তিনের কাছে মানবিক সহযোগিতা পৌঁছায় না। এর ফলে তারা নূন্যতম মৌলিক অধিকারবিহীন দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। যার বেশির ভাগই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারী এবং শিশুরা।যুগ যুগ ধরে ইজরায়েল কতৃক ফিলিস্তিনিদের উপর এ জুলুম নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণা করছে যা বর্তমানেও চলমান। পাশাপাশি স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনিরা তাদের মাতৃভূমি ও অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টায় যুগ যুগ ধরে লড়াই করে যাচ্ছেন।এ লড়াই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফিলিস্তিনের মধ্যে গড়ে উঠা বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী সংগঠন। যাদের মধ্যে অন্যতম হলো হামাস।
ইজরায়েল কতৃক সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের নির্যাতনের পাল্টা জবাব হিসেবে হামাস ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে এক আত্মঘাতী বিমান হামলা চালায়।যার ফলে ইজরায়েলের অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও নামকরা গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রশ্নের মুখে পড়ে।এর পরিক্রমায় ইজরায়েল ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর ওপর চালায় অতর্কিত এক হামলা,এতে নিহত হয় বেশিরভাগই নারী,শিশু এবং বৃদ্ধ। যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন হওয়া সত্বেও বিশ্ব মোড়লরা যারা মানবাধিকারের বুলি আওড়ায় তারা সন্ত্রাসবাদী ইজরায়েলকে সর্মথন করে আসছে।আর মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করছে যে নিরীহ ইজরায়েলের ওপর সন্ত্রাসী হামাসের এক পরিকল্পিত হামলা।
বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনিরা নিজ ভূমিতে জুলুম নির্যাতনের শিকার হওয়া দখলদার ইজরায়েল বাহিনীর নির্যাতনের পাল্টা জবারকে বলা হলো সন্ত্রাসী হামলা। অন্যের ভূখণ্ড জোড় করে দখল করে সেখানকার মানুষের উপর অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন,ভূমি দখলকে বলা হয় শান্তি প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান।আর নিজ ভূমিতে জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মার খাওয়া ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভূমি অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করলে,প্রতিবাদ করলে তারা হয়ে যায় জঙ্গী,সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। বিশ্ব মোড়লরাই যদি হয়ে যায় দখলদার ইজরায়েল বাহিনী  ইহুদিদের হাতের দাবার গুটি,যারা বিশ্বে শান্তি রক্ষার চুক্তিতে আবদ্ধ, তারাই যদি জুলুমকারীদের সমর্থন করে, তাহলে এ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের স্বাধীনতাকামী দেশগুলো যারা অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নিজেদের ভূমি রক্ষার জন্য, তারা আজীবন চির আবদ্ধই থেকে যাবে।বাড়বে শুধু যুদ্ধ, হত্যা,গুম,নির্যাতন।
ইজরায়েল ফিলিস্তিনের এই যুদ্ধ, এই মৃত্যুর মিছিলের সমাধান কোথায়? দ্বি-রাষ্ট্র চুক্তিতে কি শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে দুই দেশের মধ্যে? নাকি বিশ্ব মোড়লরা মোড়লের আসনে বসে রচনা করে যাবে এমন হাজারো যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব? আজীবনই কি উন্মুক্ত কারাগারই থেকে যাবে ফিলিস্তিন? যাকে বর্হিবিশ্বে দেখানো হবে সন্ত্রাসবাদী ফিলিস্তিন আর ভিতরে বসে রস চুষে অসার করবে বারংবার। ফিলিস্তিনবাসীর এ থেকে মুক্তির উপায় কি? সবই পর্দার আড়ালে।

হাবিবুর রহমান
দর্শন বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial