ঢাকাশুক্রবার , ২৭ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

জাতিসংঘ কি আদৌ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে?

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৭, ২০২৩ ২:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত। এ যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসে জাতিপুঞ্জ নামক সংগঠন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা তৈরি করেন। এতে সর্বমোট ১৪টি দফা ছিল। কিন্তু দেখা গেছে যে, ১৯৩৯ সালের শুরুতে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের দামামা শুরু হয়ে যায়। যা ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল অর্থাৎ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় নতুন আরেকটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা লাভ করে, যেটি মূলত জাতিসংঘ নামে পরিচিতি লাভ করে। এতে করে ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিপুঞ্জ সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পরিণত হয়। এদিকে ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা একত্রে বৈঠক করে। সম্মেলনে গৃহীত হয় জাতিসংঘ সনদ। অতঃপর ২৪শে অক্টোবর সংগঠনটি বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে।

তবে জাতিসংঘ যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে পথচলা শুরু করে তারমধ্যে যতটা না সফল হয়েছে, তারচেয়ে বেশিই ব্যর্থ হয়েছে। উদহারণ হিসেবে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট, ভারত-পাকিস্তান সংকট, সিরিয়া সংকট অধিকতর দৃশ্যমান। এসব সংকটের কোনো সমাধানের পথে এগোচ্ছে না জাতিসংঘ। বরং দেখা যায়, এসব সংকটে বিশ্বের পরাশক্তির দেশগুলো নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে, উক্ত দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। যা বিশ্বের জন্য মারাত্মক হুমকিসরূপ। আন্তর্জাতিকতার এ বিশ্বে চলছে প্রতিযোগিতা, শক্তি প্রদর্শন ও নিজেদের স্বার্থ হাসিলের রাজনীতি। বিশ্বের বৃহৎ সামরিক শক্তির দেশগুলো অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে যাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষণ নয়।

বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণে মধ্যপ্রাচ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানের সমস্যাও প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন সংকটকে বর্তমানে জটিলভাবে দেখা হচ্ছে। ইতিহাস থেকে জানা গেছে, ১৮৯৬ সালে বুদাপেস্টবাসী ড. থিওডর হার্জেল ইহুদিবাদকে রাজনৈতিক রূপ দেন। পরবর্তীতে ১৮৯৭ সালে তার নেতৃত্বে সুইজারল্যান্ডের বাসল নামক শহরে সর্বপ্রথম ইহুদিদের কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এ কংগ্রেসে ইহুদিদের সংহতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনে তাদের বাসভূমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তা বাস্তবায়নের জন্য ‘ওয়ার্ল্ড জায়ানিস্ট অর্গানাইজেশন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে ইহুদিরা আন্দোলনের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে তুর্কি অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে। ১৯০৫ থেকে ১৯১৪ পর্যন্ত অর্থাৎ ১ম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ইহুদিদের সংখ্যাটা ছিল অল্প (মাত্র কয়েক হাজার)। কিন্তু দেখা গেছে ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ এর দিকে আস্তে আস্তে বেড়ে যাচ্ছে (২০ হাজারের মতো)। ১৯২১, ১৯২৯, ১৯৩৬ সালের দিকে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। অবশেষে ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ফিলিস্তিনকে দ্বিখন্ডিত করার সিদ্ধান্ত পাশ হয়। এতে উল্লেখ ছিল, ভূ-খণ্ডের ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিন আর বাকি ৫৫ শতাংশ ইহুদিদের জন্য নির্ধারিত হবে। এভাবে জাতিসংঘের মাধ্যমে ইহুদিদের সহযোগিতা ও ফিলিস্তিনের মুসলমানদের বিপর্যয় ঘটায়।

যার ফলে আরব-ইসরাইলের মধ্যে মোট ৪ বার যুদ্ধ সংঘটিত হয় (১৯৪৮, ১৯৫৬, ১৯৬৭ ও ১৯৭৩)। জাতিসংঘের গৃহীত সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে ইসরাইল বার বার ফিলিস্তিনের স্বাধীন ভূ-খন্ডকে দখল করার মাধ্যমে ইসরাইলকে সম্প্রসারিত করতে থাকে। এরা আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে একে একে ফিলিস্তিনের স্থাপনাগুলো দখলে নিয়ে আসে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও ইসরাইলকে সহযোগিতা করার ফলে দেখা গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের নিকট বিষফোঁড়া হিসেবে পরিণত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে প্রভুত্বের ভূমিকা পালন করছে।

ফিলিস্তিনের সমস্যা নতুন নয়, এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে জেরুজালেম নিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে টানাপোড়েনের আশঙ্কা দেখা দেয়। একদিকে ফিলিস্তিনের জনগণ দাবি করছে যে, জেরুজালেম তাদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান। এটা ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি। এটা তাদের নিজস্ব ভূমি। অথচ আবার ইসরাইলও মনে করে এটা (জেরুজালেম) তাদের ধর্মের পবিত্র ভূমি। এটা তাদেরই অধিকারে থাকবে। এমন সংকটকালে জাতিসংঘের কোনো ভূমিকাই দৃশ্যমান হচ্ছে না। নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতায় ইসরাইলের সামরিক শক্তি চাঙ্গা হচ্ছে।

২০১৭ সালের ৬ই ডিসেম্বর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবিভক্ত জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করা ও সেখানে ২০১৮ সালের ১৪ই মে দূতাবাস উদ্বোধন উদ্যোগ গ্রহণ করলে সংকট আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করে। এতে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘর্ষ প্রকট আকার ধারণ করে। এজন্য ফিলিস্তিন এ ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তাদের নিজ বাসভূমির স্বাধীনতা ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য গণপ্রতিরোধ ও আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে থাকে। এভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ সহযোগিতা ও সমর্থনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের জনগণের উপর ইসরাইল কতৃক বার বার বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। মোদ্দকথা হচ্ছে, জাতিসংঘের মতো একটি বিশ্বমানের সংগঠন আজও ফিলিস্তিন সংকটের চূড়ান্ত সমাধান দিতে পারে নি। এতে এ সংগঠনের ব্যর্থতা দৃশ্যমান হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘর্ষে বিশ্বের পরাশক্তির দেশগুলোর মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। ক্ষমতার রাজনীতিকে পুঁজি করে বিশ্বে নিজেদের স্বার্থ হাসিল নিশ্চিত হচ্ছে।

চলমান ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকটে জাতিসংঘ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে কী বার্তা দিচ্ছে? জাতিসংঘ কি আদৌ বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে? ফিলিস্তিন ও ইসরাইলে মানবিকতার ব্যাপক বিপর্যয় ঘটছে। নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, জীবনের তাগিদে মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, দেখার কেউ কি নেই? যদি এসব সংকটের কোনো সমাধান না দিতে পারে তাহলে অকপটে বলা যায় যে, জাতিসংঘ তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।

মো. আকিব হোসাইন
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial