ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ফিলিস্তিন সংকট যেখানে শেষ হতে পারে

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৬, ২০২৩ ১১:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বলে বিবেচনা করা হয় ফিলিস্তিন – ইসরায়েল যুদ্ধ। বিশেষ করে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় বেলফোর চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর থেকে এই সংকটের শুরু হিসেবে মনে করা হয়। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে আরব বিশ্ব কোন দিন ফিলিস্তিনের মাটিতে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা ভালো চোখে দেখেনি। মনে করা হয় ইসরায়েল মধ্য প্রাচ্যের জন্য একটি বিষফোড়া। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে আরব বিশ্ব ইসরায়েল এবং পশ্চিমা বিশ্বের সহায়তায় সূচনীয়ভাবে পরাজয় লাভ করে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধেও তারা পরাজয় বরণ করে। ১৯৯৩ সালে আসলো চুক্তির মাধ্যমে দুটি রাষ্ট্র হওয়ার কথা থাকলেও মূলত ইসরায়েলের অসৈজন্যতার কারণে আবারও সংকটে রূপ নেই। মুসলমানদের এই দূর্দশার কারণে মুসলমানদের বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মানুষের মুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় হামাস ( ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য মুক্তিকামী সংগঠন) । যারা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরায়েল কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে আসছে এবং সেই সাথে ফিলিস্তিনের দুই অংশের মানুষ গাজা এবং পশ্চিম তীরে ধ্বংসলীলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র পশ্চিমা শক্তি বলতে গেলে আমেরিকা ফিলিস্তিনিদের ধ্বংসের জন্য উঠেপড়ে লাগে। বিশেষ করে ২০০৬ সালের নির্বাচনে  আমেরিকার সমর্থন প্রাপ্ত ফাতাহ সরকার হামাসের কাছে নির্বাচনে হেরে ফাতাহ (ফিলিস্তিনের একটি রাজনৈতিক দল) সহ তাদের মিত্র ইসরায়েল – আমেরিকা হামাসের ( ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন)

কাছে পরাজয় বরণ করে ফলে তারা ডেমোক্রেসি প্রমোশনের নামে হামলা চালিয়ে হাজার মানুষ হত্যা করে। আমরা যদি রোহিঙ্গা সংকটের কথা বলি বাংলাদেশ সরকারও তাদেরকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য  একটি ট্রেট হিসেবে দেখলেও বাংলাদেশ সরকার কিন্তু ওপেনডোর নীতি অবলম্বন করে ফলে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ এখন বাংলাদেশে রিফিউজি হিসেবে বসবাস করছে। অপর দিকে আমরা যদি ফিলিস্তিনের দিকে তাকায় তাহলে আরব নেতারা সীমান্ত কোন দিন খোলে দিবেনা বলছে। গাজার সাথে মিশরের সীমান্ত এবং পশ্চিম তীরের সাথে জর্ডানের সীমান্ত

কিন্তু এই দুই অংশের সাথে যেসব দেশের সীমান্ত, মিশর ও জর্ডান তাদের কেউ এসব মানুষকে ঠাঁই দিতে রাজি না।

এনিয়ে জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেছেন “জর্ডানে কোনো শরণার্থী নয়, মিশরে কোনো শরণার্থী নয়। এই মানবিক সংকট গাজা এবং পশ্চিম তীরের ভেতরেই সামাল দিতে হবে। এবং ফিলিস্তিনি সংকট ও তাদের ভবিষ্যৎ অন্যদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া বা চেষ্টা করা যাবে না। গত ৭ অক্টোবরের  ফিলিস্তিনের হামাসের

হামলাকে অনেকে অফেনসিভ হিসেবে দেখলেও অনেক বিশ্লেষক এটাকে ডিফেন্সিভ হামলা হিসেবে দেখছে, যার মূল কারণ হলো ফিলিস্তিনের মানুষ প্রায় ৭৫ বছর ধরে নির্যাতিত হয়ে আসছে তাহলে তারা ডিফেন্স করবেনা কেন? সব সময় ডিফেনসিভ একটরের ভুমিকা পালন করে আসছে হামাস এবং তারা যে হামলা চালিয়েছে তাও তাদের ডিফেনসিভ ওয়েতে চালায় কারন তারা বহুদিন থেকে ইসরায়েল সৈন্য দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছে।

আমার কাছে মনে হয়েছে  আরব বিশ্বের সীমান্ত খোলে না দেয়া এটা একটা কৌশল। কারণ গাজা থেকে এবং পশ্চিম তীর থেকে যদি এভাবে ফিলিস্তিনের মানুষ বের হয়ে যায় তাহলে তো ইসরায়েল সহজেই তা দখল করে ফেলবে। হামাসের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করার পরেও মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ঐসব দেশের সীমান্তে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা যদি মুদ্রার অপর পিঠ দেখি তাহলে রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে পশ্চিমা মোডলরা হিউম্যান রাইটস ভায়ওলেশনের কথা বললেও সেই পশ্চিমারা ফিলিস্তিনের পক্ষে সাইনিসিজমের ভূমিকা পালন করছে। করবেনা কেন? ইউনিভার্সেল হিউম্যান রাইটস ডিকলারেশন ঘোষণা করা  হয় ১৯৪৮ সালে সেই ইসরায়েলের ইহুদিদের ফিলিস্তিনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।  তাহলে প্রশ্ন হলো কেন ইউএনএইচসিআর-এর

প্রতিষ্ঠা করে  মানবতার কথা বলছেন? যদি মানবতা দেখাতে যেয়ে পক্ষপাত দুষ্টের আশ্রয় নিতে হয়। তবে  ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান বের করে পশ্চিমা বিশ্বের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা করছি। শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. ইউনূস মনে করেন

“একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়। আর এটি প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ কাজে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত অগ্রসর হলে অন্যরাও তাকে অনুসরণ করবে। বাইডেন প্রশাসনকে অবিলম্বে এই অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটিতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে হবে।” ড. ইউনূসের সাথে মনে হয় সমস্ত বিশ্লেষক একমত পোষণ করবেন। কারণ হলো ফিলিস্তিনি সংকট সমাধানে দুটি আলাদা রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে হবে।  যদিও এ বিষয়ে জাতিসংঘের একটি সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বাস্তবায়িত করা হয়নি। এই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনে জাতিসংঘের এই দীর্ঘ-উপেক্ষিত সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। নতুবা পরিস্থিতি কোথায় নিয়ে যাবে, তা কেউ জানে না। বর্তমান পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে গোটা পৃথিবীতে।

মো. রুকন উদ্দিন

শিক্ষার্থী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিভাগ : শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন

০১৮৮৪৯৮৪৯০৩

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial