ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় কবি মাহমুদ দারবিশ

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৬, ২০২৩ ১১:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

“জেরুজালেমে, আমি বুঝাতে চাই প্রাচীন প্রাচীরের অন্দরে

আমি ঘুরছি কাল থেকে কালান্তরে স্মৃতিহীন

এখানে নবিগণ ভাগাভাগি করেছেন জেরুজালেমের ইতিহাস….  আরোহন করছেন আকাশপানে ”

অথবা ,

“খেজুর গাছের বিনুনিতে ঝুলিয়ে রেখো আমারে

আমাকে ফাঁসি দাও প্রয়োজনে….আমি খেজুর গাছের সাথে

কখনই বিশ্বাসঘাতকতা করবো না!”

এভাবেই ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মাহমুদ দারবিশ  প্রিয় শহর জেরুজালেম কিংবা মাতৃভূমি ফিলিস্তিন কে নিয়ে কবিতা লেখার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রিয় জন্মভূমির অসহায়ত্ব , দখলদারত্ব ও শোষণ উৎপীড়ন। তিনি ছিলেন ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা , মুক্তিকামী যোদ্ধা , ফিলিস্তিনীদের ক্ষত হৃদয়ের শুশ্রূষা। তেমনি তিনি ছিলেন শান্তির দূত , আরব সাহিত্যের দুলাল অথবা সাহিত্যযোদ্ধা। যার কবিতা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে ফিলিস্তিনের মুক্তকামী জনগণকে , শিশুদের হত্যাকারী খুণীদের বিরুদ্ধে জুগিয়েছে প্রতিবাদের মনোবল। তিনি আরব বিশ্বের সাহিত্যসিংহ মাহমুদ দারবিশ।

জন্ম ১৯৪১ সালের ১৩ই মার্চ উত্তর ফিলিস্তিনে।পাশ্চাত্যের অন্যায় সিদ্ধান্তের ফলে ১৯৪৮ সালে সৃষ্ট ইসরায়েল রাষ্ট্রে নিজ জন্মভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে সপরিবারে লেবাননে উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে নিজ জন্মভূমির ধ্বংসস্তুপ দেখে তিঁনি অত্যন্ত দুঃখ পান এবং এই দুঃখই পরবর্তীতে তাকে সাহিত্য যুদ্ধে নিয়ে আসে। হায়ফা তে তিনি পরিচয় গোপন রেখে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯ বছর বয়সে কবির বিখ্যাত এবং প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ডানাহীন পাখি সব’ প্রকাশিত হয়। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি সোভিয়েতে পাড়ি জমান এবং সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আকৃষ্ট হন।কালের পরিক্রমায় তিনি মিশর,লেবানন সহ কিছু দেশে কাজ করার পর তিনি ১৯৭৩ সালে স্বীয় জন্মভূমিতে ফিরে আসেন এবং ফিলিস্তিনের উদার রাজনৈতিক দল পিএলও তে যোগদান করেন। এছাড়া তিনি ইসরায়েলের কমিউনিস্ট পার্টি ‘রাকা’রও সদস্য ছিলেন।

মাহমুদ দারবিশ একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে। তিনি ফিলিস্তিনের ইন্তিফাদা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সমর্থক ছিলেন এবং নিজে উক্ত আন্দোলনের অংশগ্রহণও করেছেন।  তিনি জন্মভূমির মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করতে ১৯৭৩ সালে ‘শুউন ফিলিস্তিনিয়্যাহ’ নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।তিনি ফিলিস্তিনের আপামর জনসাধারণের মাঝে একটি জাতীয়তাবাদী সমন্বয় ঘটিয়েছন।

তার কবিতা গোটা বিশ্বকে দীক্ষা দিয়েছে শান্তির বার্তা এবং চরম শত্রুর আঘাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও স্লোগানের আওয়াজ উচ্চস্বরে তুলে ধরা। তার কবিতার যে বৈশিষ্ট্যটি খুবই প্রোজ্জ্বল তা হলো নিজ দেশে পরবাসী ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার কবিতা খড়গকৃপান। তিনি স্বীয় জন্মভূমিতে উদ্বাস্তু হওয়ার আক্ষেপ ও রক্তস্নাত মরুর চিত্র তুলে ধরেছেন,

“আরব কবি সর্বহারা

(কারণ) মরুর রক্তের দাম বেড়েছে তার কাব্যকলায়

আর দাম বেড়েছে তৃষ্ণাকাতর উষ্ট্রীদলের ”

তার পরিচয় তিনি এভাবে দিয়েছেন ,

“লিখে রেখো!

আমি আরব

আমি এক নাম পদ-পদবীবিহীন

যে দ্রুত ক্রোধজাগা দেশের

এক অতি সবুরে বাসিন্দা ”

তিনি মাতৃভূমির তরে শহীদ হওয়াকে মহিমান্বিত করেছেন তার কাব্যে। তার অনুপ্রেরণা ছিলো,

“তিরোধানও হয় যদি মোর এ পতাকা থাক উড্ডীন

সমাধিতে লিখবে মানুষ : মরেনি সে অমলিন! ”

তিনি তার মাতৃভূমি কবিতায় দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ নিদর্শন রেখে গিয়েছেন। তিনি একটি খেজুর গাছকে ফিলিস্তিনের রূপক হিসেবে ধরে বলেছেন , ‘আমাকে যদি মারতে হয় তবে মারো ফাঁসি দিয়ে , তবে গাছটি যেন হয় খেজুর গাছ’। তিনি মৃত্যুর সময় যেন দেখে যেতে পারেন এটিই তার মাতৃভূমি এবং সেটি আজ স্বাধীন। তার ভাষায় ,

“আমার দুই ডানা: তুমি এবং স্বাধীনতা

তন্দ্রায় আচ্ছন্ন অজানা পাড়ের পশ্চাতে

আমি ভালোবাসি তোমাদের দুজনকে,যেমনি তোমরা দুজন যমজ”

এখানে তিনি মাতৃভূমি এবং দেশপ্রেমকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্র বলেছেন।তিনি দখলদার বাহিনীর নির্মমতাকেও তুলে ধরেছেন কবিতায়,

“ছিনিয়ে নিলো আহার-বিহার, পোশাক এবং পতাকা

ছুঁড়লো তারে বন্দিশালায়  অনেক মৃতদের মাঝে

এবং বললো তারে: তুমিই তো তাস্কর!

তিনি একই সাথে বিশ্বের মানবতার ঠিকাদারদের ফিলিস্তিনের অসহায় জনগণের প্রতি মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন ,

“তারা তার মুখে বেধেছিল শিকল

দু’হাত তার বেঁধেছিলো জমপাথরের সাথে

আর বললো তাকে; তুমিই হত্যাকারী ”

অতঃপর মুক্তির দিশা কবি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। ২০০৮ সালের ৯ আগস্ট কবি আমেরিকার একটি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।তাকে ফিলিস্তিনপ্রেমিক , ফিলিস্তিনের আধুনিক শিক্ষার রূপকার এবং অবিসংবাদিত নেতা ঘোষণা করে ফিলিস্তিন সরকার তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন এবং তাঁর জন্মদিনকে ফিলিস্তিনের জাতীয় শিক্ষা দিবস ঘোষণা করেন। স্বয়ং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই মহান কবির জন্য শোকগাঁথা রচনা করেন। কবির ভাষায়,

” হে রক্তস্নাত হাত চক্ষুওয়ালা,

রাত্রিশেষে ভোরের উদয় হয়

কোনো বাধাই চিরস্থায়ী নয়”

 

আল মোমীনীন হাসান

রাষ্ট্রবিজ্ঞান , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ফোনঃ +8801533380665

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial