ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

নিরাপদ সড়ক দিবস এবং একজন ইলিয়াস কাঞ্চন

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৬, ২০২৩ ৭:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

২২ অক্টোবর নিরাপদ সড়ক দিবস।এ দিন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), নিসচা(নিরাপদ সড়ক চাই) ইত্যাদি সংগঠন নানা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও তা অর্জনে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু ২২ অক্টোবর এবং ইলিয়াস কাঞ্চনের যোগসাদৃশ্য সম্পর্কে আমরা অনেকেই অজ্ঞাত।

ইলিয়াস কাঞ্চন নামটা দেখলে কিংবা শুনলেই নব্বই দশকের সিনমাপ্রেমীদের চোখে যে চিত্র প্রথমে ভেসে উঠে তা হচ্ছে বেদের মেয়ে জোছনা বা চাকরের মতো বক্স অফিস বাজিমাত করা সিনেমা যেখানে কাঞ্চন তার সর্বোচ্চ অভিনয় প্রতিভার অকৃত্রিম প্রকাশ ঘটিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে আমরা যে কাঞ্চনকে চিনি তিনি সেই নায়ক কাঞ্চন থেকে সরে এসেছেন যোজন যোজন দূরে ।১৯৯৩ সাল থেকে সড়ক দূর্ঘটনা রোধে কাজ করে যাচ্ছেন অবিরাম,ক্লান্তিহীন উদ্যমে ।

সময়টা ১৯৯৩ সালের অক্টোবর মাস।স্কুলে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা উৎসব চলছে।দুই সন্তানের পরীক্ষা থাকায় স্নেহের শিশু এবং প্রিয়তমা স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে রেখেই সিনেমার শুটিং এ ব্যস্ত সময় পার করতে চলে যান ইলিয়াস কাঞ্চন।২২ অক্টোবর সূর্য মেঘে ঢেকে গেছে।নায়ক কাঞ্চন এক পাশে বসে আছেন এমন সময় একজন এসে বলে তার একটা গুরুত্বপূর্ণ ফোন এসেছে। তখন মোবাইল নেটওয়ার্ক এত বিস্তৃত ছিলনা, বান্দরবানে তো অবশ্যই নয়। শুটিং-স্থান থেকে কিছুটা দূরে একটা টাওয়ারে ফোনকল করা যেত।হঠাৎ ইলিয়াস কাঞ্চনের বুকটা কি ভয়ানক ,অজানা ভয়ে কেঁপে উঠলো। ছুটে গিয়ে জানতে পারলেন তাঁর পরিবার ও এ.টি.এম শামসুজ্জামান সিনেমার দৃশ্যায়নে আসার সময় চট্রগ্রামের চন্দনাইশ এলাকায় এক্সিডেন্ট করেছে। তাদের দেখার জন্য চট্রগ্রামের হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান তার স্ত্রী ইহলোক ত্যাগ করেছেন।প্রিয়তমা স্ত্রীর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তিনি খুবই বিমর্ষ হয়ে পড়েন।

এই দুর্ঘটনা তার জীবনকে পাল্টে দেয়।তার উপলব্ধি হয় যখন তিনি যাকে ভালোবাসেন তার জন্য কিছুই করতে পারলেন না,তাকে যারা চেনেন, ভালোবাসেন তাদের জীবন রক্ষার্থে কিছু করবেন ।অভিনয় জগত থেকে সরে এসে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন সমাজসেবায়।সেই বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে “নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন” স্লোগানে তার প্রতিষ্ঠান ‘নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা)’।
সড়কে ডিভাইডার তৈরি ,চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ, লাইসেন্স বাধ্যতামূলক,মহাসড়কে নসিমন-করিমন নিষিদ্ধকরণ,প্রতিবছর নিরাপদ সড়ক দিবস পালন ইত্যাদি নিশ্চিতকরণে তিনি এবং নিসচা একাত্মততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিসচা ১৯৯৮ সাল থেকেই ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে এবং গণস্বাক্ষর নেওয়া শুরু করে।অনেক জটিলতার শেষে ২০১৭ সালের ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়‌।সেই বছর থেকেই প্রতিবছর এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

তিনি নিরাপদ সড়কের জন্য সে সময় সময় থেকেই সোচ্চার ছিলেন, যখন দেশের সড়ক ব্যবস্থা ততটা বিস্তৃতই হয়নি।বর্তমানে বিস্তৃত এই সড়কব্যবস্থায় মৃত্যই মিছিল যেন থামছেই না।যথাযথ সড়ক আইন,চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ,নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার অভাব এই মৃত্যুর মিছিলের অন্যতম প্রভাবক।সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একমাত্র পারে সড়কে প্রিয়জনের অকালমৃত্যু রোধ করতে।

আশরাফুর রহমান
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
01638546470
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial