ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

নিয়তি

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৬, ২০২৩ ৮:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিচিত্র এই পৃথিবী। বিচিত্র মানুষের জীবন মরন। বিচিত্র এর আবহাওয়া, আর বিচিত্র এর জলবায়ু।কোথা থেকে এক ভয়ানক দৈত্যের মতো পৃথিবীর সৃষ্টি,কোথায় বা এর পরিসমাপ্তি ভাবতে গেলে অবাক হয়ে যেতে হয়।কোন অদৃশ্য আকর্ষণ হতে মানুষের জন্য মানুষের মায়া-মমতা জেগে উঠেছে?আবার কোন এক অজানা অপরাধে মায়ার এই বাধন ছিন্ন করে মানুষ কোথায় চলে যায়!সবই কি এই প্রকৃতির লীলা?সবই কি অদৃষ্টের পরিহাস?সেই কীর্তিনাশার পাশেই এক স্বপ্নের মতো সুন্দর গ্রাম।চরুলীয়া গ্রাম।গ্রামের পাশ দিয়ে শতছিন্ন ময়লা শাড়ি পড়া ও মাথার কেশ রুক্ষ অবস্থায় একজন স্ত্রীলোক চলেছে পাগলের প্রলাপ বকে।মা কি এমন অন্যায় করেছিল,যে জন্য সে অন্যায় ক্ষমা না করতে পেরে তার স্নেহের নীড়ে হতে সন্তান কোন এক অদেখা অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে লুকিয়ে রয়েছে?একি মায়ের প্রতি পুত্রের দরদ?এ সব নিশ্চয়ই খোকার দোষ নয়।নিয়তি তাকে জোর করে ধরে নিয়ে গেছে।উঃ কি নিষ্ঠুর সেই নিয়তি! দয়া নেই!মায়া নেই!মানুষের দিকে চেয়ে সে অট্টহাসি হাসে।মানুষকে বিদ্রুপ করে।এই নিষ্ঠুরতার বুঝি শেষ নেই।
চমকে উঠলাম আমি সেই মেয়েটিকে দেখে মনে হয় কোথাও যেন এই মুখ দেখছি।তারপর এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে আমার কন্ঠ চিরে।মনে পড়ে সেই দিনের ঘটনা।মেয়েটির বাড়ি পাশের গ্রামেই।আমার মামার বাড়ির কাছেই।স্কুল মাস্টার স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়েটা পৃথিবীতে নির্বান্ধব হয়ে পড়েছিল।আশা একমাত্র ছেলে তার।তাই কতনা যত্নে,কতনা কৃচ্ছতায় মানুষ করেছিল ছেলেকে।কিন্তু সেদিন সে পড়ল জ্বরে।সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হতে না হতেই গাড় অন্ধকারে ছেয়ে গেছে আকাশ।এদিকে মা পিতৃহীন ছেলের মুখে ওষুধ দুরের কথা,একটু বার্লির জলও দিতে পারেনি।গায়ে জ্বর খা খা করছে একেবারে নেতিয়ে পড়েছে।তাই এই মর্মান্তিক মুহুর্তে খোকনের মা পথে এসে দাড়িয়েছে।সারাদিন ঘুরে ঘুরে পা ব্যথ্যা হয়ে গিয়েছে।কিন্তু মানুষের লাঞ্চনা,অপমান অবজ্ঞা ব্যতীত কিছুই কিছুই জুটলোনা। হায়!!অবশেষে শূন্য হাতে বাড়ি ফেরা তার।বাড়ি ফিরে দেখে খোকনের মুমূর্ষু অবস্থা।কিন্তু তার বাড়িতে দুর্গন্ধ কয়েকটা ন্যাকড়া আর মাটির ভাড় ছাড়া কিছুই নেই যার বিনিময়ে তাকে কেউ একটি পয়সা দেবে।তারপর অভাগী মা বকে উঠে,হায়!! কে জানিত আমার এই অবস্থা হইবে?কি করে খোকনকে বাচিয়ে তুলবো আমি?
রোগাক্রান্ত খোকার দিকে তাকিয়ে তার মা একেবারে পাগল হয়ে উঠলো।সে তার ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,”প্রভু,যদি কোলে দিয়েছো কেড়ে নিওনা প্রভু!এমন করে আমার বুকের ধন কে কেড়ে নিওনা প্রভু।আমার খোকাকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও।”
কিন্তু প্রভু তার ডাকে সাড়া দেননি।খোকন মাকে শোকাগ্নিতে দগ্ধ করে কোথায় কোন অজানায় কোন মায়ালোকে অন্তর্ধান করেছে।

সেই খোকনের মা-ই আজ পথে প্রান্তরে আজেবাজে প্রলাপ বকে বকে ঘুরে ফিরছে।

জুয়েনা আলম মুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial