ঢাকাবুধবার , ২৫ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

সময় যেন ছুটে চলছে বন্ধনমুক্ত উটের ন্যায়: চিন্তাভাবনা ও করণীয়

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৫, ২০২৩ ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পূর্বে আমরা দিন অতিবাহিত করতাম ভোরবেলায় মক্তবে কুরআন শিক্ষা, সকালে স্কুলে যাওয়া, বিকালে খেলার মাঠে খেলাধুলা করা, সন্ধ্যার পর পড়তে বসা, রাতে পরিবারের সবাই মিলে একসাথে খাওয়া, সুখ-দুঃখের গল্প ও বিনোদনের মাধ্যমে। কিন্তু আজ আমরা বেশিরভাগ সময় বিশেষ কোনো ব্যস্ততায় ডুবে না থেকেও যেন কিছুই করতে পারছি না। যদিও আমরা এখন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি। পরিবার, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী থাকার চেষ্টা করছি তবুও যেন নিজেকে নিয়ে সুস্থ মস্তিষ্কে ১০ মিনিট ভাবার সময় পাচ্ছি না। চিন্তা ভাবনার দুয়ার যেন এক প্রকার বন্ধ হয়ে গেছে আমাদের মধ্যে। কিন্তু এরই মাঝে সময় ঠিকই আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা যেন তাকে বেঁধে রাখতে পারছি না।

 

বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনায় ভূগোলশাস্ত্র ও জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর একটু বিশেষ দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, পৃথিবীর রয়েছে নিজস্ব আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি। প্রতি বছরই এই গতির পরিবর্তন হয়। পৃথিবীর আবর্তনের গতি অর্ধ-শত বছর ধরে বেড়েছে। আর এই গতির পরিবর্তন হয়ে থাকে ভূ-গর্ভের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ফলে। যা মূলত ভূমিকম্পের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এর ফলে পৃথিবীর দুই মেরুর পরিবর্তন হয়। মূল মধ্যরেখা বরাবর মেরু অঞ্চলের দিক কিছুটা পরিবর্তন হয় ফলে এখন আর ২৪ ঘন্টায় ১ দিন হয় না।
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ২০২১ সালে ১ দিনের গড় সময়কাল ৮৬,৪০০ সেকেন্ডের চেয়ে ০.০ মিলিসেকেন্ডের কম হবে। দিনের দৈর্ঘ্যের অতি সুনির্দিষ্ট রেকর্ড ভেঙে চলা পারমানবিক ঘড়িগুলো পুরো বছর ধরে প্রায় ১৯ মিলিসেকেন্ডের ব্যবধান তৈরি করবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, ২০২০ সালে সবচেয়ে ছোট দিনের সংখ্যা ছিল ২৮ টি। ১৯৬০ সালের পর এটাই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ছোট দিন।
ডেইলি মেইল এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯২০ সালের ২০ জুলাই পৃথিবীতে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দিন রেকর্ড করা হয়েছিল। ঐ দিনটি ছিল ২৪ ঘন্টার চেয়ে ১.৪৬০২ মিলিসেকেন্ড কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০ সালের আগে সবচেয়ে ছোট দিন রেকর্ড করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। তবে গত বছর ২৮ বার সে রেকর্ড ভেঙেছে।
বিজ্ঞানীদের আভাস চলতিবছর এ ছোটদিনের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে সময় কমতে থাকবে। ভূ-পৃষ্ঠে যত ভূমিকম্প হবে সময় তত দ্রুত কমে আসবে। বিগত কয়েক শতাব্দীতে পৃথিবীতে অনেক ভূমিকম্প হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে তাই সামনে সময় আরো কমে আসবে। ইতোমধ্যে চলতি বছরের সাড়ে আট মাসে বাংলাদেশ ও এর আশেপাশে ৩১ টি ভূমিকম্প সংগঠিত হয়েছে।

 

এছাড়া ইসলামেও সময়কে নির্দেশ করে নানা তথ্য আলোকপাত করা হয়েছে। “সময় ছোট হয়ে যাওয়ার পূর্বে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না। এক বছরকে এক মাসের সমান মনে হবে। এক মাসকে এক সপ্তাহের সমান মনে হবে। এক সপ্তাহকে এক দিনের মত মনে হবে এবং এক দিনকে এক ঘন্টার সমান মনে হবে।” [সহিহুল জামে: হাদীস নং- ৭২৯৯]
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়া’লা একটি সূরা নাজিল করেছেন সময়কে নিয়ে। সূরাটির নাম সূরা আল আসর। এখানে ১ম ও ২য় আয়াতে বলা হয়েছে, “সময়ের শপথ! মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে আছে।”
বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে আমরা গভীরভাবে বুঝতে পারি যে, আমরা সবাই ক্ষতির মধ্যে আছি।
এর পরের আয়াতে আল্লাহ তায়া’লা বলেছেন, “তবে তারা নয় যারা ইমান আনে ও সৎকাজ করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্য ধারণে পরস্পরকে উদ্বুদ্ধ করে।”
খেয়াল করুন এখানে চারটি উপদেশের কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ যারা এই চারটি উপদেশ মেনে চলবে তারাই সময়ের ক্ষতি হতে মুক্তি পাবে।

 

এখন এই চারটি উপদেশকে সঠিকভাবে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিম্নে দেওয়া হলো:
১) ১ম উপদেশঃ মূল বিষয় ইমান। এখানে আপনাকে সূরা বাকারার ২০৮ নং আয়াত অনুযায়ী চলতে হবে। এখানে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পথ অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” অর্থাৎ আপনাকে পরিপূর্ণভাবে ইমান আনতে হবে। কিছু মানলেন কিছু মানলেন না সেটা হবে না। যেমন- নামাজও পড়লেন আবার গান, সিনেমাও দেখলেন। এমনটা করা যাবে না।
২) ২য় উপদেশঃ মূল বিষয় সৎকাজ। সৎকাজ হলো জ্ঞান অর্জন ও সে অনুযায়ী আমল করা। মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করা। জ্ঞানীরাই সৎকাজ করে, বোকারা নয়। আর জ্ঞানী তারাই যারা জ্ঞান অর্জন করে ও সেই অনুযায়ী আমল করে।
৩) ৩য় উপদেশঃ মূল বিষয় পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেওয়া। এখানে আমরা অনেকেই পিছিয়ে। কেউ কাউকে ভালো উপদেশ দেওয়া তো দূরে থাক বরং কিভাবে মানুষের ক্ষতি করা যায় সেটা নিয়েই ভাবি। তবে যাইহোক আমরা যেহেতু সময়ের ক্ষতি থেকে বাঁচতে চাই তাই আমাদের এই উপদেশ মানতে হবে। অর্থাৎ আপনি সত্যের উপদেশ দিতে থাকুন। কে শুনল, কে শুনলো না সেটা নিয়ে ভাবার দরকার নেই।
৪) ৪র্থ উপদেশঃ মূল বিষয় ধৈর্য ধারণে পরস্পরকে উদ্বুদ্ধ করা। নিজেরই যদি ধৈর্য না থাকে, সামান্য কিছু হলেই যদি হতাশার সাগরে ডুবে যাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে অপরকে কিভাবে ধৈর্যের উপদেশ দিবেন? তাই প্রথমে নিজে ধৈর্য ধারণ করার চেষ্টা করুন। ইন শা আল্লাহ নিজে ধৈর্য করতে পারলে আপনিও অন্যকে এই উপদেশ দিতে সক্ষম হবেন।
এবার আরেকটা জিনিস জানতে হবে তা হলো সময়ে বরকত লাভ করা যায় কিভাবে? অর্থাৎ কম সময়ে বেশি কাজ করার উপায়। সময়ের ক্ষতি হতে মুক্তি ও সময়ে বরকত পেলে আপনি সময়ের যথার্থ ব্যবহার করতে পারবেন।

সময়ে বরকত পেতে হলে আপনাকে রাসূল (সা.)- এর সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে। তিনি যেভাবে সময়ের ব্যবহার করতেন সেভাবে। নিম্নে তা দেওয়া হলো:
১) এশার নামাজের পর দ্রুত কাজ সেরে ঘুমিয়ে পড়া।
২) শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ও আল্লাহর কাছ থেকে সময়ের বরকত চাওয়া।
৩) ফজরের নামাজের পর কুরআন তিলাওয়াত করা।
৪) ফজরের পর না ঘুমানো। কেননা এ সময় ফেরেস্তারা দিনের বরকত লিখতে থাকেন। রাসূল (সা.) বলছেন, “আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য বরকত রেখেছেন ফজরে।” এ সময় ঘুমালে সবকিছু থেকে বরকত উঠে যায়।
ইবনুল কাইয়্যুম (রহ.) বলেছেন, “এমনকি আমরা সালাফাদের দেখেছি, আলেম-উলামাদের দেখেছি, তারা যদি দূর-দূরান্ত থেকে সফরে আসতেন, সফরে কঠিন কাজ করে ক্লান্ত হয়ে যেতেন তবুও তারা ফজরের পর ঘুমাতেন না। তারা অপেক্ষা করতেন সূর্য উঠা পর্যন্ত। সূর্য উঠার পর তারা ঘুমাতেন, যত কষ্টই হোক। কেননা সূর্য উঠা পর্যন্ত আল্লাহর বরকত অবতীর্ণ হতে থাকে পৃথিবীতে।”

 

কুরআনের এই চারটি উপদেশ ও রাসুল (সা.)- এর এই চারটি সুন্নাহ যদি আপনি আপনার জীবনে সঠিকভাবে পালন করতে পারেন তবেই আপনি মহাকালের এই ক্ষতি ও সময়ের বরকত লাভ করতে পারবেন ইন শা আল্লাহ। বন্ধনহীন উট যেমন মরুভূমি থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়, তেমনি সময়ও আমাদের থেকে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে। তাই সময়ের ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি। সময়ের সঠিক ব্যবহার করে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সার্থকতা।

 

নাম: তাহমিনা আক্তার
বিভাগ: সমাজবিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল: tahminaakter59467@gmail.com

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial