ঢাকাবুধবার , ২৫ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

“ইসলামী সংস্কৃতির বিভিন্ন ব্যাবহারিক দিক”

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৫, ২০২৩ ১২:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুসলিম উম্মাহর সমগ্র জীবন নিয়েই হচ্ছে ইসলামী সংস্কৃতির পরিধি।জন্ম, মৃত্যু, আচার-আচরণ, লেনদেন, চলাফেরা,দেখা-সাক্ষাৎ সহজে বলতে গেলে জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এই সংস্কৃতি বিদ্যমান। জীবনের নানা পর্যায়ে ইসলামী সংস্কৃতির ব্যাবহারিক দিক সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১। শিশুর জন্মের পর আজান দেওয়া, ইসলামী নাম রাখা এবং আকিকা দেওয়া: ইসলামী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জন্মের পর শিশুকে আজানের ধ্বনি শোনানো, সুন্দর অর্থবহ ইসলামী নাম রাখা এবং জন্মের ৭ম,১৪তম অথবা ২১তম দিনে আকিকা দেওয়া। রাসূল (সা.) বলেন,
“যখন শিশুর জন্ম হয়,তার একটি সুন্দর অর্থবহ ইসলামী নাম রাখ।”(বায়হাকি)

আকিকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,
“সন্তানের জন্য আকিকা আবশ্যক। সুতরাং,তার পক্ষে রক্ত প্রবাহিত কর এবং তার কষ্ট দূর কর।”(সহিহ মুসলিম)
২। আল্লাহর নামে কাজ শুরু করা: প্রতিটি ভাল কাজে আল্লাহ তায়ালার নামে শুরু করা ইসলামী সংস্কৃতির অংশ। রাসূল (সা.) বলেন,
“তোমরা প্রতিটি ভাল কাজের শুরুতে আল্লাহকে স্মরণ কর, তা নাহলে তা অসম্পূর্ণ এবং নিম্নমানের হবে।”(সুনানে আবু দাউদ ও ইবনে মাযাহ)
৩। খাবার গ্রহণ: খাবারের শুরুতে ‘ বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ ‘ এবং খাওয়া শেষ হলে ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাযি আতআমানা ওয়া সাকানা ওয়া জাআলানা মিনাল মুসলিমীন’ অথবা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা ইসলামী সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাছাড়া খাবার খেতে হবে ডান হাতে এবং বসে।সবাই মিলে খাবার গ্রহণ করাও ইসলামী সংস্কৃতির অংশ। রাসূল (সা.) বলেন,
“তোমরা একত্রে খাবার গ্রহণ কর,আর আল্লাহকে স্মরণ কর,এতে বরকত বৃদ্ধি পায়।”(আবু দাউদ)
৪। ঘুম: ঘুম আল্লাহর নিয়ামত। ঘুমাতে যাওয়ার সময় বলতে হয়,’হে আল্লাহ!আমি তোমার নামে ঘুমাতে যাই,আর তোমার নামেই জেগে উঠি'(তিরমিযি)
৫। পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা: মুসলিমগণ পারস্পরিক সাক্ষাতে প্রথমেই সালাম বিনিময় করবেন। রাসূল (সা.) বলেন,
“পারস্পরিক সাক্ষাতে পরিচিত অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম দিবে।”(সহিহ বুখারি)
আর ইসলামী সংস্কৃতির একটি বিশেষ দিক হলো মার্জিত ও সুস্পষ্ট কথা বলা। রাসূল (সা.) বলেন,
“তোমরা একে অপরের সাথে বিনয়ী ব্যাবহার করবে এবং অহংকার করবে না।”(সহিহ মুসলিম)
৬। ছোট – বড় সম্পর্ক:এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের শ্রদ্ধা করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”(তিরমিযি)
৭। চলাফেরা: মজলিসে কাউকে কষ্ট দিয়ে বসা যাবে না বা কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেই জায়গায় বসা যাবে না। পবিত্র এবং পরিচ্ছন্ন স্থানে বসতে হবে। হাঁটার মধ্যে দম্ভ প্রকাশ করা যাবে না আবার এমন ভাবেও হাঁটা যাবে না যেন অলস মনে হয়। হাঁটতে হবে মৃদু পদক্ষেপে।এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন,
“আর তুমি পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণা কর না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারীকে পছন্দ করেন না।”(সূরা লুকমান:১৮)
৮।গোশত খাওয়া: মুসলিমদের হালাল খাবার খাওয়া আবশ্যক।হালাল পশুর গোশত খাওয়া এই সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দিক হালাল পশুকে আল্লাহর নামে বৈধভাবে জবেহ করতে হবে। আল্লাহ বলেন,
“আর তোমরা এমন পশুর গোশত খাবে না যা জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়নি।”(সূরা আল আনআম:১২১)
৯। পোশাক পরিচ্ছদ: মুসলমানদের পোশাক হবে মার্জিত ও রুচিসম্পন্ন এবং তা পুরুষ ও মহিলাদের ইজ্জত-আবরু সম্পূর্ণ আবৃত করে রাখবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে কিন্তু বিলাসীতা ও চাকচিক্যের প্রতীক হতে পারবে না। ইসলামী সংস্কৃতির অন্যতম দিক হলো শালীন ও পরিষ্কার পোশাক-পরিচ্ছদ। আল্লাহ বলেন,
“হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, সাজসজ্জার বস্ত্র এবং পরহেজগারির পোশাক, এটি সর্বোত্তম।”(সূরা আল আরাফ:২৬)
১০।হাসি: পরিমিত মুচকি হাসি ইসলামী সংস্কৃতির অঙ্গ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় তাঁর চেহারা মুবারক নিঃশব্দ মিষ্টি হাসিতে উদ্ভাসিত রাখতেন। রাসূল (সা.) বলেন,
“তোমার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসিও সদকা।”(সুনানে তিরমিযি)

এছাড়াও শয়ন, পানীয় পান,তাকবির, আজান,সালাত ও জামায়াত, জানাজা, ইদ উৎসব, নাচ-গান নিয়ন্ত্রণ, প্রস্রাব-পায়খানা, পরিবার গঠন, নারী-পুরুষ উভয়ের পর্দা,রোজা, সাহরী ও ইফতার,দাড়ি ও গোঁফ সহ জীবনের সকল পর্যায়ের কার্যক্রম ইসলামী সংস্কৃতির অংশ। ইসলামী সংস্কৃতি মানব জীবনের কল্যাণ এবং সফলতা অর্জনের সহায়ক বিধায় একে ঐশী সংস্কৃতিও বলা যায়।আর তাই মানবজাতির পার্থিব কল্যাণ, সাফল্য, সুরক্ষা ও শান্তিলাভ এবং আখিরাতে মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে জীবনের সর্ব পর্যায়ে ইসলামী সংস্কৃতিকে ধারন, অনুশীলন, অনুকরণ, অনুসরণ এবং বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।

নাম: আন্জুমান আরা ঐশী
বিভাগ: ইসলামিক স্টাডিজ
প্রতিষ্ঠান:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial