ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ভর্তি যুদ্ধ

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৪, ২০২৩ ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচ.এস.সি শেষ হলো , ভাবলাম কয়দিন আরামে কাটিয়ে তারপর ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবো। ‘ভর্তি যুদ্ধ’ বিষয়টার সাথে কমবেশি পরিচিত ছিলাম কিন্তু এই শব্দটার মর্মার্থ তখনো আমি উপলব্ধি করতে পারিনি।

সবার মতো আমিও একটি কোচিং এ ভর্তি হলাম । চারিপাশে তাকিয়ে দেখি সবার চোখে একই স্বপ্ন , একটা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া । প্রত্যেকদিন স্যাররা পড়ার চেয়ে বেশি মোটিভেশনাল স্পিচ দিতো , কথাগুলোর সারাংশ এই যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেই জীবনের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কোচিং-এর প্রত্যেক সাপ্তাহিক পরীক্ষায় আমি আমার কয়েকজন সহপাঠিকে আকাশের তারার মতো ঝরে যেতে দেখেতাম । টেবিলের উপর লেকচার শিটের পাহাড় তৈরি হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু পড়া কিছুই হচ্ছিলো না । নেগেটিভ মার্কিং-এর জন্য যেখানে আমি পাশ মার্কস তুলতে পারতাম না অন্য কেউ ফুল মার্কস পেত। এভাবে দেখতে দেখতে ৩ মাস চলে গেল , হাতে এক মাসও বাকি নেই। বাসার মধ্যে বন্দি জীবন কাটিয়েছি পুরো সময়টা , কারণ এভাবেই নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা যায় । যত বই ছিল সব কিনেছি , যত অনলাইন কোর্স ছিল সব করেছি , যত ভিডিও ছিল সব দেখেছি তারপরেও আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিলাম না । কারণ বাংলাদেশের হাজার হাজার কলেজের লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীকে পিছে ফেলে আমার মতো সাধারণ একজন শিক্ষার্থী যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সিট পাবে সেটায় আমি কল্পনা করতে পারছিলাম না । পরীক্ষার ৩ দিন আগে থেকে কান্না করা ছাড়া আর কিছু করিনি , টেবিলে বই আর বুকে হতাশার দীর্ঘশ্বাস। পরীক্ষার দিন মনটা ভীষণ ভারী মনে হচ্ছিলো, পরীক্ষার হলের সামনে সবার প্রস্তুতি দেখে আমার বুক খালি লাগচ্ছিলো। পরীক্ষা যে কখন শুরু হয়ে কখন শেষ হয়েছে এবং কীভাবে শেষ হয়েছে তা বুঝতে পারিনি । ওই ১ ঘন্টা যেনো সেই সপ্নের মতো যেটা মনে আছে কিন্তু তার বিষয়বস্তু মনে করা যায় না । পরীক্ষার হল থেকে বেড় হওয়ার পর নানা লোকের নানা প্রশ্ন , ‘কেমন হলো?’’প্রশ্ন কেমন ছিলো?’ ‘কয়টার উত্তর করেছো?’ ইত্যাদি। আমি সবকিছুর উত্তরে বলেছিলাম, ’আলহামদুলিল্লাহ’ কিন্তু মনের ভিতরে আমার যে কি চলছিলো তা আমি বলে প্রকাশ করতে পারবো না । পরীক্ষার হল থেকে বাসায় আসার পথে অনলাইনে প্রকাশ হওয়া উত্তরপত্র দেখতে দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাড়ার আশা একটু একটু করে নিভে যাচ্ছিলো । এরপর আরো পরীক্ষা দিলাম বিভিন্ন জেলায় গেলাম , প্রত্যেক পরীক্ষার সাথে যেন আমার আত্মার একটি অংশ চলে যাচ্ছিলো। বাবা-মার আমাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলো আমার রাতের দুঃস্বপ্ন হয়ে গিয়েছিলো। এরপর একে একে পরীক্ষার রেজাল্ট দিতে থাকে , চারিদিকে খালি হতাশা আর হতাশা , কোন কিছুতেই সন্তুস্ট ছিলাম না । আমার সৌভাগ্য যে আমার মা-বাবা অনেক সহায়ক ছিলেন কারণ আমি দেখেছি অনেকেই এই সময়ে সবচেয়ে বেশী কষ্টে থেকেছে তাদের পরিবারের জন্য । সবার শেষে রেজাল্ট দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের । দুপুর ১২ টার সময় রেজাল্ট দেওয়ার ব্যাপারটা আমার একদম পছন্দ না । সকাল থেকে হাজার চিন্তা আর আকাক্ষা নিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না । এটা এক অন্য ধরনের মানসিক নির্যাতন । সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে ১২ টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভার রিফ্রেশ করতে থাকি । রেজাল্ট পাওয়ার পর আমার চেয়ে খুশি ব্যক্তি আর কেউ ছিলো না, এইতো আমি পেরেছি !আমি অসাধ্য সাধন করেছি! কিন্তু আমার মতো সৌভাগ্য অনেকের ছিলোনা । যখন দেখলাম আমার চেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা চান্স পায়নি তখন নিজের অর্জনকে নিছক ভাগ্য মনে হতে লাগলো । সবাই মনে করে রেজাল্ট পাওয়ার পরে ভর্তি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে , ধারণাটা ভুল। এর পরে যুদ্ধ শুরু হয় ভালো বিষয় পাওয়া নিয়ে যেটা এটা আমার মতে আরো কঠিন যুদ্ধ। এজন্য চান্স পাওয়ার পরেও অনেককে ১-২ মাস অথবা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মানসিক চাঁপে থাকতে হয়। এই ৬-৭ মাসে আমি এতো কিছু শিখেছি যা আমি আমার সারা জীবনেও শিখতে পারিনি। ‘ভর্তি যুদ্ধ’ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা নয় , এটা সমাজ, পরিবার, আত্মীয় , বন্ধু এবং নিজের সাথে একটি মানসিক যুদ্ধ। আমার সৌভাগ্য যে আমি এ যুদ্ধে টিকে থাকতে পেরেছি।

 

তাসফিয়া তাবাসসুম আদ্রিতা
বাংলা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial