ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বিবাহ 

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৪, ২০২৩ ১২:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নদীর তীরের গ্রামগুলো এমনিতেই তুলনামূলক সুন্দর হয় একটু বেশি, তার উপরে বেগমাবাদ গ্রামটি একটু বেশিই সুন্দর যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোন চিত্র। সবুজের সমারোহ, পাখির কলকাকলি, নদীর তীরে ঢেউয়ের খেল, পশু-পাখির চাঞ্চল্য গ্রামটাকে একটু ভিন্ন করে তুলেছে। গ্রামের মানুষের সহজ-সরলতা, অমায়িক ব্যবহার, অতিথিপরায়নতা যে কাউকেই এই গ্রামে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে। গ্রামের ছেলে-মেয়েদের খেলার জন্য বিশাল মাঠ, ফুল-ফলের বাগান, গোলা ভরা ধান, সব মিলিয়ে সবার দিনকাল আনন্দে – উল্লাসেই কাটছিল। কিন্তু, এত জাঁকজমকের মধ্যেও  আনন্দ ছিলো না দিনাজের ঘরে। দিনাজের বিয়ের দুই বছর পর সে একজন কন্যা সন্তানের বাবা হয়। কন্যার নাম রাখে রিতু।
রিতু দিনাজের পরিবারে সুখের জোয়ার নিয়ে জন্মালেও খুব শীগ্রই দুঃখের কারনে পরিনত হয়। রিতু আর দশটা শিশুর মতো স্বাভাবিক ছিলো না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রমাণিত হতে থাকে সে স্বাভাবিক বুদ্ধি প্রয়োগ করে কথা বলতে পারে না। সব কথায় শুধু বোকার মতো হাসে। কান্না করতেও বড়সড় কোন কারনের প্রয়োজন পরে না। দিনাজের মুখ কালো হয়ে যায় মেয়ের বিয়ের চিন্তায়। সমাজে এমনিতেই মেয়েদের মূল্য কম, তার মধ্যে আবার রিতুর মতো বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে, দিনাজের চিন্তার আর শেষ নেই। রিতু দিন দিন বড় হতে থাকে আর সবার সাথে মেশার চেষ্টা করতে থাকে। সে মিশতে চাইলেও সবাই তাকে এড়িয়ে চলে। বয়স কিছুর বৃদ্ধি পাবার পর সে বাস্তবিক কিছু বিষয় বুঝতে শুরু করে। কিন্তু, বিষয়গুলো নিয়ে বেশিক্ষণ চিন্তা করতে পারে না। তার বাবা যখন তার মাকে বকাঝকা করে, তখন চুপ করে সব শুনে, সে যেন সব বুঝতে পারছে, তার বাবা তার মাকে নির্যাতন করতেছে৷ সে কিছুটা সময় চুপচাপ থাকতো, আবার সেই হাসিমাখা মুখে অন্য ধ্যানে চলে যেত। তার মা পাশে বসে কাঁদতো, সে চোখ মুছে দিলেও কান্নার মানে আবিষ্কার করতে পারতো। চোখ মুছে দেওয়ার বিষয়টা দেখে আবেগে আপ্লূত হয়ে তার মামা আরে দু ফোটো চোখের পানি বেশি ফেলতো। আরো কিছুটা বয়স বৃদ্ধি পেলে, সে নিয়মিত বাহিরে খেলতে যেত, ঘুরতে যেত, তার মতো সে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে। তার যেন আলাদা জগৎ আছে একটা৷ সে নদীর বিশালতায় হারিয়ে যেত, পাখির ডানা ঝাপটানি উপভোগ করতো, বালি দিয়ে বিভিন্ন পাখি আঁকতো ইত্যাদি। এভাবেই আমাদের রিতু অনেকটা বড় হয়ে যায়।
বিবাহের বয়স আসন্ন৷ তাকে পাত্রস্থ করার চেষ্টা করে কোন লাভ হবে না বলে তার বাবা কোন প্রচেষ্টায় করে নাই। একদিন পাশের বাড়ির এক মেয়ের বিয়ে ঠিক হলো। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, গায়ে হলুদ, গান-বাজনা, আলোকসজ্জা এসব দেখে রিতু খুবই পুলকিত হয়। আমাদের রিতুকে যখন কেউ একজন বললো, আজ নোভার গায়ে হলুদ, কাল নোভার বিয়ে, তখন সে কিছুক্ষণ ভাবলো বিষয়টা, পরে আবার নাচগানে নিজেকে মত্ত করে তুলে। গায়ে হলুদের সকল নিয়ম কানুন সে না বুঝেই অনুসরণ করতে থাকে। যেন সে শিখছে। বিয়ের দিন তার মা তাকে বিয়ে বাড়ি আসতে দেয়নি। অনেক লোকের সমাগম হবে, কে কি বলবে এই ভয়েই তাকে আসতে দিলো না। জামাই আসলো, সবাই হইহল্লোর করে বেরিয়ে এলো জামাই দেখতে। রিতুরও মন চাইতেছিলো বাহিরে আসতে, জামাই দেখতে। সে হইহল্লোর শুনে নিজেকে আর ঘরে আটকে রাখতে পারলো না। চলে আসলো জামাই দেখতে, তার বাড়ি সামনে দিয়ে জামাই এর গাড়ি যাবে, সে রাস্তায় দাড়িয়ে আছে, আর মিটমিট করে হাসছে, তার সমবয়সী, কমবয়সী কিছু মেয়েও তার সাথে দাড়ানো ছিলো, সবারই উদ্দেশ্য ছিলো জামাই দেখা। জামাই গাড়ি যখন তাদের পাশ দিয়ে গেল সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো, অকৃত্রিম খুশি, মহা খুশি, রিতু্ জামাইটাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করলো, তার মাথায় টুপি, গায়ে পাঞ্জাবি, নতুন জুতা, মুখে রুমাল ইত্যাদি। পাশাপাশি, সে তার নোভাদিকেও দেখলো ভিন্ন এক সাজে। মিটমিট করে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরে গেল। তাহার মাথায় এখন এক আজব চিন্তা, তার গায়ে হলুদ কবে হবে? কবে নতুন জামাই আসবে? চিন্তা করে আর হাসে। যদিও এই চিন্তাও তার মাথায় বেশিক্ষণ ছিলো না। কয়েকদিন কেটে গেল অনায়াসেই।
হঠাৎ একদিন রিতুর প্রচন্ড জ্বর উঠলো৷ তারা বাবা মাঠে কাজ করতে গেছে, মা পাশে বসে মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে। চিকিৎসালয় সদরে, তার মা তার বাবার কাছে রমিজকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছে। রহমানের মা মসজিদের হুজুর থেকে পানি পড়া এনে খেতে দেয়। আমাদের রিতুর মাথায় ছিলো তখন অন্য চিন্তা । তার বিবাহ,। তার গায়ে হলুদ লাগাচ্ছে মানুষ, তার বাড়ি আলোকসজ্জায় পরিপূর্ণ, নাচ-গান হচ্ছে। সে মিটিমিটি হাসছে, বাকি সবাই তাকে হলুদ লাগাচ্ছে। আগামীকাল তার বিয়ে৷ নদীর তীর ঘেষে ঐ পার থেকে বরযাত্রী আসবে। নতুন জামাই আসবে, মাথায় টুপি, নতুন পাঞ্জাবি, নতুন জুতা, মুখে রুমাল ধরা৷ সে সাজবে নববধূর সাজ। তাকে তার নতুন জামাই নিয়ে যাবে। মিটিমিটি হাসতে হাসতে সে চলে যাচ্ছে। আর ফিরবে কিনা তা ভাবেনি!

ইকরাম আহমেদ সজল
আইন বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial