ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বই রিভিউ – ” কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ “

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৪, ২০২৩ ২:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ – লেখক আরিফ আজাদের একটি অনবদ্য মৌলিক রচনা।আমাদের যাপিত জীবনের নানান ঘটনাকে তিনি মিলিয়ে দিয়েছেন কুরআনের সাথে।দেখিয়েছেন আমাদের আত্মিক,মানসিক,সামাজিক নানান সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে কুরআনের মাঝেই।কুরআনের মণি-মুক্তোগুলো তিনি অনবদ্য আর সাবলীল ভাষায় তিনি পাঠকের সামনে তুলে এনেছেন আর বাড়িয়ে দিয়েছেন তৃষ্ণা।
বইটিতে আলোচিত হয়েছে কুরআনের পূর্ণাঙ্গ সূরা নিয়ে কখনো বা কেবল একটা আয়াত নিয়ে।কিন্তু এ ছোট সূরা বা আয়াতের মাঝে যে কি সুগভীর রহস্য আছে তা আমাদের মাঝে খুব কম লোকই অবলোকন করতে পারে।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কুরআনে যেমন মূসা (আ) আর ফেরাউনের কাহিনি আল্লাহ তা’য়ালা বারংবার এনেছেন,লেখকও তার বইটিতে এটি করেছেন।এটা কি পূর্বপরিকল্পিত নাকি কাকতালীয় বুঝতে পারছি না।

আলোচনাগুলো এসেছে-“যখন নেমে আসে আধাঁরের রাত”, “নীল দরিয়ার জলে”,”আকাশের খাতায় লেখা লজ্জার নাম”, “আল্লাহকে যারা পাইতে চায়”, ” প্রেমময় কথোপকথন”, “ফেরাউন সিনড্রোম”, “জীবনের বেলা শেষে”, “চালাও সে পথে যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি”, “সে মহান পরাজয়ে” অর্থাৎ প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ জুড়েই!অধ্যায়গুলোতে লেখক আলোচনা করেছেন যথাক্রমে মূসা (আ) নি:স্বতা আর নিরাশার অন্ধকারের মাঝে মাদাইনে কিভাবে দু’আ করে আধারকে কাটিয়ে আলোর ফোয়ারা ফুটিয়েছেন,মা তার প্রিয় সন্তানকে কেবল আল্লাহর উপর ভরসা করেই নীল দরিয়ায় ভাসিয়ে দেন এবং তাকে যে নিরাশ হতে হয় নি,মাদাইনের সেই নবিকন্যাদের দ্বারা শিখান নারীর বৈশিষ্ট্য আর লজ্জার চিরস্থায়ী দৃষ্টান্ত,সর্বহারা মূসা(আ) কি দারুণভাবে সর্বস্ব হলেন সেই কাহিনি,মূসা (আ) এর সাথে আল্লাহর মায়াভরা কথোপকথন যা আল্লাহ তা’য়ালা আসলে আমাদের সাথেও করেন।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় “ফেরাউন সিনড্রোম” যা এখনো সমাজে অদ্ভুতভাবে বিদ্যমান,মৃত্যু যখন কণ্ঠে চলে আসে তখন যে আর তাওবা কবুল হয় না তাও জানতে পাই ফেরাউন থেকে,এতসব মুজিজা দেখার পরও বনী ইসরাইলদের মতো চলে পারে হেদায়েত তাই সব সালাতেই তার প্রার্থনা এবং সর্বশেষ জাদুকরদের সাথে মুসা (আ)এর পরাজয়ে সত্য উদ্ভাসিত হওয়ায় জাদুকরদের হেদায়েত প্রাপ্তি আলোচিত হয়েছে বইটিতে আর এসব ঘটনা যে আমাদেরও নিত্যজীবনের সাথে সম্পর্কিত লেখক তাও দেখিয়ে দিয়েছেন সফলভাবেই।

“দু:খের আলপনায় স্বস্তির রঙ” অধ্যায়টা একটা আয়াত নিয়েই দারুণভাবে আলোচিত হয়েছে।

“ছুটে আসে আগুনের ফুলকি” আর “সে মহান পরাজয়” পড়ে ব্যাপক মজা পেয়েছি ‘রাজা’ আর ‘ফেরাউনের’কাজে হিতে বিপরীত হয়ে নাস্তানাবুদ হতে দেখে।

“যে আধারের রং নীল” অধ্যায়ে সূরা ফালাকের আয়াত নিয়ে বিস্তর আলোচিত যা বর্তমানের সাথে ভীষণ প্রাসঙ্গিক। আচ্ছা, শেষ জামানার জন্যই কি এ সূরা শেষদিকে?

“ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালিকণা, বিন্দু বিন্দু জল” ছোট ছোট পাপ যা আমরা হেলায় করি তাও তৈরি করে পাপের সাগর।
“আলো জ্বেলে যাই” আল্লাহ বদর যুদ্ধবন্দীদের অন্তর দেখে প্রতিদান দিবেন বলেছেন,তাহলে আমরা যদি আল্লাহর জন্য ত্যাগ করি তবে তা কত বিশাল প্রতিদান হবে!

“চাঁদে যারা জমি কিনেছেন” এ রয়েছে জান্নাতের মনোমুগ্ধকর বর্ণনা।অসম্ভব ভালো লেগেছে এটা।

যে আল্লাহ পাতা পরার খবর রাখেন তিনি আপনার দু:খের খবরও রাখেন “ঝরা পাতার কাব্য”এ তার বিস্তর বর্ণনা।
“অন্তর বাঁচানোর মন্তর” এ আলোচিত দুই সূরা “ফালাক” ও “নাস” নিয়ে।শেষ জামানায় এ দুটোর ব্যাপক গুরুত্ব উপলব্ধি আর অন্তর বাঁচানোর উপায় নিয়ে।

“এ সময় শীঘ্রই ফুরিয়ে যাবে” বহুল সুপরিচিত সেই কাহিনি সাথে অফুরান জান্নাতের নিয়ামতের আলোচনা!

“সোনার তোরণ পাণে” তে আলোচিত হয়েছে সূরা আসরের আলোকে সফলতার আসল পথ ও পদ্ধতি যা সত্যিই বিস্ময়কর ও বাস্তবিক!

“প্রবল প্রতাপশালী তবুও মহীয়ান” মহান রবের মহানুভবতা সম্পর্কে, “অন্তরে অন্তরে” তে অন্তরের গুনাহ সম্পর্কে, “উঁহু একজন কথা রাখেন” রব যে আমাদের কথা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে থাকেন এমনকি তা ব্যর্থতার গল্প হলেও!”তোমার প্রতিবেশী করে নিও”তে আসিয়া (আ)এর দু’আ,”নূহের প্লাবন আর ভাবনার অলিগলি “তে নূহ (আ) এর তাওয়াক্কুল আর ধৈর্যের বিশালতা,” তারা কভু পথ ভুলে যায় না”তে যেকোনো কাজ আল্লাহর সাথে পরামর্শ করে নেওয়া সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়ংকর দুটো অধ্যায় হচ্ছে “আলো অথবা অন্ধকার” এবং “ভীষণ একলা দিনে”। প্রথমটিতে আলোচিত হয়েছে সেই ভয়াবহ সময় যখন আলো হবে কেবল নেক আমল কিন্তু মুনাফিকরা হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন,তারা কোনো সাহায্যকারী পাবে না বরং পতিত হবে অসীম আজাবে আর পরের অধ্যায় সৃষ্টির ইতিহাসের সবচেয়ে বিভীষিকাময় মূহুর্ত নিয়ে যখন সবাই হবে ‘একলা’।

এককথায় বইটি ” কুরআন” সম্পর্কে আমার ফিলোসোফিই পাল্টে দিয়েছে।কুরআন যে জীবনের সাথে এত প্রাসঙ্গিক আর যৌক্তিক তা আগে কেন উপলব্ধি করিনি!কেন তাতে লেগেছে ধূলার আস্তরণ! নাহ,আর অবহেলা নয় কুরআন নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে, এত এসেছেই ভাবনার জন্য,হেদায়েতের জন্য,রবের সাথে সম্পর্কের জন্যই।

হৃদয়ে জাগুক কুরআনের বসন্ত!💚

এক নজরে-
বইয়ের নামঃ কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ
লেখকঃ আরিফ আজাদ
প্রকাশনীঃ সত্যায়ন প্রকাশন
পৃষ্ঠাঃ১৮৪
প্রচ্ছদ মূল্য:৩৩০
ধরণঃ ইসলামিক বই
কাভারঃ পেপার ব্যাক
প্রকাশকালঃ২০২৩

মোঃশাফেয়ী শ্রাবন
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial