ঢাকাসোমবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর দায়ভার কে নিবে?

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৩, ২০২৩ ১:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বর্তমানে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ কথাটি আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। পত্রিকার পাতায় কিংবা টিভির পর্দায় প্রধান শিরোনাম থাকে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’। দুর্নীতি যেমন দেশের উন্নতির প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করে তেমনি সড়ক দুর্ঘটনা সেই অন্তরায়ের কোনো দিক থেকে কম নয়। প্রতিবছর বাঁধভাঙা স্রোতের মতো এই দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়েই চলেছে। মৃত্যুর মিছিল যেন কোনো ক্রমেই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছরে দুর্ঘটনার পরিমাণ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২১১ জন, ২০২০ সালে ৫ হাজার ৪৩১ জন, ২০২১ সালে তা গিয়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ২৮৪ জন এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে তা গিয়ে দাড়ায় ৬ হাজার ৫৪৮ জন। নিহতদের মধ্যে চালক ও পথচারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।জাতীয় ও মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

২০১৮ সালে বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় দুইজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। পুরো দেশে একযোগে লাগাতার আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে ‘সড়ক দুর্ঘটনা আইন’ সংস্কার করা হয়। প্রশাসন আইন বাস্তবায়নে নড়েচড়ে বসে।প্রতিবছর ২২শে অক্টোবর ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ সরকারি উদ্যোগে পালিত হয়।
কিন্তু অল্প কিছুকাল পরেই সেই আইনের অকাল মৃত্যু ঘটে। সেই আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের উদাসীনতা বর্তমানে সাধারণ পথচারীদের কাছে উদ্বেগের বিষয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালে মোটরসাইকেলে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৪৫ জন, ২০২০ সালে ১ হাজার ৪৬৩ জন, ২০২১ সালে ২ হাজার ২১৪ জন, সর্বশেষ ২০২২ সালে ২ হাজার ৫৩৩ জন। অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে ছেলেদের হাতে মোটরসাইকেলের চাবি তুলে দেবার সঙ্গে মৃত্যুর চাবিটাও তুলে দিচ্ছেন অভিভাবকেরা। কিশোরদের অকাল মৃত্যুর কারণে দেশের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। কেননা আমরা জানি, “আজকের কিশোর আগামী দিনের ভবিষ্যৎ”। অভিভাবকদের অসচেতনতা ও অজ্ঞতার কারণে বেশির ভাগ কিশোর আজ সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যুর সম্মুখীন হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দেশের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। কর্মক্ষম ব্যক্তি কর্মের সন্ধানে বের হয়ে সড়কে অকাল মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অকাল মৃত্যুতে সেই পরিবারে নেমে আসছে ভয়াবহ দারিদ্রতা। অনেক পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। এইভাবে প্রতিনিয়ত অকাল মৃত্যুর কারণে দেশের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যহত হবার কারণে দেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যতার দুষ্ট চক্রের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।দেশে বেকারত্বের পরিমাণ বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনার বহুবিধ কারণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো-
১) ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ির সংখ্যাবৃদ্ধি।
২) অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের প্রাদুর্ভাব।
৩) ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা।
৪) প্রশাসনের অবহেলা।
৫) ওভারটেকিং প্রতিযোগিতায় মত্ত হওয়া।
৬) প্রয়োজনের তুলনায় সড়ক কম থাকা ও চওড়া না থাকা।
৭) পাবলিক ট্রান্সপোর্টের পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া।
৮) জনগণের মাঝে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের হ্রাস।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এককভাবে সরকার, প্রশাসন বা চালকদের দোষারোপ করা সমীচীন হবে না। সড়ক দুর্ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম ভূমিকা পালন করে সাধারণ পথযাত্রী। ট্রাফিক নিয়ম ব্যবহার না করা, জেব্রা ক্রসিং বা ওভার ব্রিজ ব্যবহারের পরিবর্তে রাস্তার মাঝ দিয়ে যাতায়াত করা, ফুটপাত ব্যবহার না করা, রাস্তা-ঘাটে ধান বা ভুট্টার আগাছা শুকাতে দেওয়া ইত্যাদি।

আমরা সাধারণ পথচারী যদি সচেতন হই,  সরকার ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সড়কের সংখ্যা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ব্যানার, ফেস্টুন ও নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা অনেকাংশে কমে যাবে।
নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে দেশের অর্থনীতি ও উন্নতির অবনতির দায়ভার কে গ্রহণ করবে সরকার না জনগণ? প্রশ্নটা আপনাদের কাছে রেখে গেলাম।

আবুল বাসার
শিক্ষার্থী,
বাংলা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial