ঢাকাসোমবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

নাম

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৩, ২০২৩ ২:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

“আমি কে? আমি জানি না। অবাক হচ্ছেন? কি করে জানব বলুন? আমার যে নিজের কোনো পরিচয়ই নেই! একসময় কারোর মেয়ে ছিলাম, একসময় কারো প্রেমিকা, তারপর কারো বউ। নাম হয়তো ছিল একটা, কিন্তু সে নাম তো কবেই ভুলে গেছি।”
কথাগুলো একটানা বলে গেল অরিবের সামনে বসে থাকা মেয়েটা।মেয়েটির সাথে আজকেই তার পরিচয়। অরিব রাস্তায় বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিল। মেয়েটি এসে বলল, “একটু সাহায্য করবেন?” অরিব মেয়েটির দিকে তাকাল। বয়স আর কতই হবে, পঁচিশ ছাব্বিশ হয়তো। খুব সাদামাটা গড়ন। পোশাক আশাকে মনে হয় মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। তেমন আকর্ষণীয় কিছুই নেই মেয়েটির মধ্যে। তবুও কেন যেন চোখ ফেরাতে পারছিল না অরিব। মেয়েটাই তাড়া দিল, “কই, কিছু বলছেন না যে?” অরিবের ঘোর ভাঙল।
“বলুন, সম্ভব হলে অবশ্যই করব।”
“আজকে সকাল থেকে না খেয়ে আছি, বাড়ি ফিরতে এখনো অনেক দেরী। হাতে টাকাও নেই, একটু চা খাওয়াতে পারেন?”
অরিব দ্বিতীয়বার অবাক হলো। একটা অজানা অচেনা ছেলের কাছে এত অবলীলায় খেতে চাইছে! কোনো বাজে মতলব নেই তো? কিন্তু একে তো ভদ্র ঘরের মেয়ে বলেই মনে হচ্ছে। আর মুখ দেখে ক্ষুধার্তও মনে হচ্ছে।
এসব ভাবতে ভাবতে ও মেয়েটিকে নিয়ে পাশের একটা চা স্টলে গিয়ে বসল। দুকাপ চা আর দুটো পাউরুটি অর্ডার করল। মেয়েটি সত্যিই ক্ষুধার্ত ছিল। পরপর দুটো পাউরুটি খেলো। অরিব তাকিয়ে তাকিয়ে মেয়েটির খাওয়া দেখছিল।
“যদি কিছু মনে না করেন, আপনার পরিচয়টা জানতে পারি?আমার নাম অরিব। ঢাবিতে পড়ি, বিষয় বাংলা।”
তখন মেয়েটি কথাগুলো বললো। অরিব অবাক হচ্ছে দেখে সে আবার বলতে শুরু করল, “এখনো অবাক হচ্ছেন?শুনুন তবে। বাবা-মার একমাত্র মেয়ে আমি। আমি যখন কলেজে উঠি, তখন আমার বাবা মারা যান।আমার মা গৃহিণী, তার পক্ষে আমার পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না।বাবাও কোনো সঞ্চয় রেখে যেতে পারেন নি আমাদের জন্য।আমি একজনকে ভালোবাসতাম, মাকে জানাই বিষয়টা। মা আমাদের বিয়ে দিতে রাজি হয়ে যান। প্রথম কয়েক মাস বেশ সুখেই ছিলাম। আমার স্বামী পড়াশোনার পাশাপাশি একটা পার্ট-টাইম চাকরি করতো, ভালোই চলছিল সব। হঠাৎই আমি জানতে পারি আমার স্বামী মাদকাসক্ত। সে তার রোজগারের সব টাকা মাদকের পেছনে খরচ করত। আমাকেও চাপ দিত টাকার জন্য। মা’র থেকে নিতে বলত। আমি যখন বললাম টাকা নেই,তখন সে ই আমাকে রোজগারের পথ দেখাল।”
“পথ বলতে? আপনি কি কোনো চাকরি করেন?”
“চাকরি?” মেয়েটি জোরে হেসে উঠল। অরিব কিছুটা লজ্জা পেল কারণ আশেপাশের সবাই তাদের  দেখছিল।
“হাসলেন যে?”
“আপনার কথা শুনে! হ্যাঁ, চাকরিই বলতে পারেন।এমন একটা চাকরি যেখানে প্রত্যেকদিন আমার মালিক পরিবর্তন হয়।এখনো বুঝলেন না? আপনি দেখি ভারি বোকা লোক! ভদ্রলোকের ভাষায় আমি একজন ‘কল-গার্ল’ বা প্রস্টিটিউড, যাকে আপনারা খাঁটি বাংলায় বেশ্যা বলেন।”
অরিব এবার স্তব্ধ হয়ে বসে রইল।
মেয়েটি বলেই চলল, “কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানেন?যে ভদ্রলোকেরা আমাকে প্রস্টিটিউড বলে, তারাই আবার আমার সঙ্গ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তাদের একেক জনের কাছে আমার একেক নাম। এতসব নামের ভিড়ে নিজের নামটাই হারিয়ে ফেলেছি।”
অরিব এখনো চুপ।
“কি হলো কিছু বলছেন না যে? ঘেন্না হচ্ছে আমি বেশ্যা বলে?হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভাবছেন হয়তো আপনার দিনটাই নষ্ট হলো। কিন্তু কি করব বলুন, আজকে সারাদিনে একজনও কাস্টমার পাইনি। এ কারণেই হাত ফাঁকা। আপনার উপকারটা তোলা রইল, সুদে আসলে ফেরত দেব একদিন। কখনো দরকার পড়লে ডাকবেন আমাকে, আপনাকেও সঙ্গ দেব।” এই বলে মেয়েটি একটা কাগজের টুকরো বাড়িয়ে দিল।  তাতে একটা নাম্বার লেখা৷ কোনো নাম নেই। “আপনার ইচ্ছামতো নাম বসিয়ে নেবেন।”
অরিব দেখল মেয়েটি হাসছে। কিন্তু সেই হাসির পেছনে যন্ত্রনার ছাপটা স্পষ্ট। সে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই মেয়েটা উঠে অদৃশ্য হয়ে গেল।

হীমিকা জান্নাত
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial