ঢাকাসোমবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

গোলাপের কাঁটার ক্ষত

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৩, ২০২৩ ৪:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

নীরব চাহনি, মলিন বদনে সুদূরের দেয়ালের শত ছিদ্রগুলোও গোলাপের কাঁটার মতো ধেয়ে আসছে। নিখিল বিশ্বের শত বিরহ তার কাছে অসীম সুগন্ধির অবোধ প্রয়োগ মনে হচ্ছে। সে যে স্তব্ধ আকাশের বিশালতায়ও নিজেকে আবৃত করতে পারছে না। কেন এই বিরহ!শত মোহ-মায়া কেন তার বিষাক্ত মনে হয়! তবে কি এই রক্তের সম্পর্ক নিছক মরুছায়া?কিসের প্রত্যয়ের আবরণ তাকে অপরাধীর মতো ঘিরে ধরেছে?
জনাকীর্ণ ক্যাম্পাসের মধ্যে নিভৃত অনুভব করে সাগর। প্রিয়জন- পরিজন, ডিগ্রি, সম্মান সবই আছে। তবে কেন এই একাকীত্ব? সাগর বরাবরই চুপচাপ স্বভাবের ছেলে। নেহায়েৎ দরকার ছাড়া কথা না বলাই তার অভ্যাস। যারা মুখে বলে কম তারা হয়তো মনে বলে বেশি।

১দিন বয়সী মিষ্টি প্রমার মা মনে মনে কৃতিজ্ঞতা প্রকাশ করছিলেন স্রষ্টার কাছে, যারা তার দুঃসময়ে পাশে ছিল তারা যেন ভালো থাকে। গতদিনের ডাক্তারের অমীয় আচরণ তার প্রসব বেদনার মধ্যেও এক ভরসার জায়গা তৈরি করেছিল। এমন শান্ত তার ব্যবহার, প্রমার মা সত্যিই অবাক হয়েছিলেন। মোবাইল স্ক্রলিং করছেন, এমন সময় তিনি থমকে দাঁড়ান। যে ডাক্তার তার শত আকাঙ্ক্ষার প্রমাকে দুনিয়ায় আনতে সাহায্য করেছে সেই আর দুনিয়ায় নেই।

সেদিন ও ছিল রৌদ্রস্নাত এক সমুজ্জ্বল শীতের সকাল। মিথিলা ঘুমে বিভোর। কলেজছুটি থাকলে তার ১০টার আগে ঘুমই ভাঙে না। সেদিন হঠাৎ এক বিকট আওয়াজে সকাল ৬টায় তার ঘুম ভাঙে। কিছু বুঝে উঠার আগেই তার কানে ভেসে আসে “সাগর ভাই সুসাইড করেছে”৷ সপ্তনীলের কথা যেন অবিশ্বাস্য মনে হয় তার মায়ের। হামাগুড়ি দেয়া বাচ্ছার মতো পাশের খাটের উপর উপুড় হয়ে কান্না করছেন তিনি। মিথিলার ঘোর যেন তখন ও কাটে না। কিছুই বুঝে উঠতে পারে না।এদিকে তার আজ কলেজে জরুরি পরীক্ষা আছে। সে রাত জেগে প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন কি করবে সে? নিস্পন্দ মোলায়েম অনন্য আদর্শের অধিকারী এই সাগর ভাইকে বরাবরই শ্রদ্ধা করত সে। মিথিলা তার করণীয় ঠিক করতে পারছে না। এইতো কয়দিন আগেই মামাবাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে হাসিমুখেই বিদায় নিয়েছিল। কি এমন ব্যাথা ছিল সাগর ভাইয়ের, যা ডাক্তার হয়েও তিনি সমাধান করতে পারলেন না।

তার তখন রাত ৮ টা, মিডিয়া ঘিরে ধরেছে, লাশ নামাতে হবে। তদন্ত কমিটি হাজির। পরিজনের কলরবে ভরপুর। কি হয়েছে জানার জন্য উদ্বেগ সবার। নিরব তনয় নিস্তব্ধেই চলে গিয়েছে। কাউকে জানায় নি। সে যে দুঃখ প্রকাশে অক্ষম।চাপা বিশাদ আর এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর খ্যাতির ভার বইতে পারেনি সে। সে তো চেয়েছিল নীল আকাশের ছোট্ট চড়ুই পাখি হতে। শুধু টাকার লোভই পাপ নয় বরং প্রশংসা–খ্যাতির মোহ যে কত ভয়াবহ তার সমুজ্জ্বল প্রকাশ করে গেল সে । তাতে কি, নিস্তব্ধতার মিলন হলো অন্য নিরবতায়।

 

 

সাদিয়া তাবাচ্ছুম
আরবি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial