ঢাকাসোমবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

 ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৩, ২০২৩ ৬:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রবিউল আউয়াল মাস। বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত মহানবী (সাঃ) এর পৃথিবীর বুকে শুভাগমন উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহ তথা সৃষ্টিকুলের জন্য সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দ উৎসব ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ)। ঈদে মিলাদুন্নবী কখনো কখনো মিলাদ হচ্ছে শেষ নবীর জন্মদিন হিসেবে মুসলমানদের মধ্যে পালিত একটি উৎসব। ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দিন। 

 

সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)

 

ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) এটি আমরা উম্মতি মুহাম্মদের জন্য বড় নিয়ামত। ঈদ শব্দের অর্থ খুশি আর মিলাদ শব্দের অর্থ জন্ম। আর আক্ষরিক অর্থে ঈদ এ মিলাদুন নবী মানে নবীর আগমন উপলক্ষে খুশি হওয়া।

 

আর পারিভাষিক অর্থে নবী করীম (দ:) এর শুভাগমন উপলক্ষে পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল মাসে ইবাদত বন্দেগী, যিকির আজকার দান সদকা সভা, মিছিল, সেমিনার ইত্যাদি শরিয়ত সম্মত উপায়ে আল্লাহর দরবারে নিয়ামত প্রকাশ করার নামই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)।

এমনকি পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতেও রাসুল (দঃ) পাকের শুভাগমনের সুসংবাদ এসেছে। সূরা মায়েদার ১৫ নং আয়াতে করীমায়, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের কাছে এসেছে এক মহান নূর এবং স্পষ্ট কিতাব। পবিত্র হাদীসে পাকেও অসংখ্য বর্ণনায় রয়েছে। নবী করীম (দ) এর শুভাগমনের চাইতে উত্তম নিয়ামত এবং দয়া বিশ্ববাসীর জন্য আর কি হতে পারে? সুতরাং মিলাদুন নবীকে উপলক্ষ করে ঈদ উদযাপন করা প্রত্যেক মুসলমানদের নৈতিক ও দ্বীনি কর্তব্য।

 

আশরাফুল আলম কাদেরি

কামিল হাদিস, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসা।

 

স্রষ্টার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ উৎসব

 

যখন বিশ্বের সর্বত্রই অত্যাচার-অনাচার, কুসংস্কার, নিষ্ঠুরতা, সামাজিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ও পৌত্তলিকতার অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল, তখন হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-কে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ শান্তির বাহক হিসেবে পাঠিয়েছিলেন মহান আল্লাহ তায়ালা। মুসলিম জাহান ও

স্রষ্টার সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব নুরুন্নবী (সঃ)-এর শুভাগমন, যা কোরআন পাকে ঘোষিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন- ‘হে হাবিব আপনি বলে দিন, মুসলমানগণ যেন আল্লার নেয়ামত ও রহমত পাওয়ার কারনে যেন খুশি প্রকাশ করে,যা তাদের যাবতীয় বস্তু হতে উত্তম!’ (সূরা ইউনুছ-৫৮)। মহানবী (সঃ) শুভাগমনের মহা আনন্দের এই দিনটির আরবি পরিভাষা হলো ঈদে মিলাদুন্নবী।  প্রতি বছর ১২  রবিউল আউয়ালে কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সহ  বিশ্বের প্রায় দের শতাধিক দেশে আনন্দ মিছিল ও গণ ধর্মীয় সভার আয়োজন করা হয়।

 

মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান

শিক্ষার্থী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা।

 

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দ:) শৈশব

 

মানুষের কল্যাণকামী ব্যক্তিদের বিভিন্ন শ্রেণি রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বাধিক উন্নতমানের কল্যাণকামী পথপ্রদর্শক হচ্ছেন আল্লাহর প্রেরিত নবী ও রাসূলগণ।

মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ +সাঃ) তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন। উনার জীবনাদর্শ কালোত্তীর্ণ শাশ্বত এবং সর্বোত্তম। সমাজ, বাস্তবতা, পারিবারিক জীবনযাপন পদ্ধতি, সামাজিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক লেনদেন, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড সব ক্ষেত্রেই নবী করিম (সাঃ) পদচারণা ছিল অনুকরণীয়। তাই মহানবী হচ্ছেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী। তার জীবনের প্রতিটি পর্যায় মানবতার জন্য আলোকবর্তিকা। জন্ম থেকে শিশুকাল, বালক থেকে যুবক জীবনের যে কোনো সেক্টরে  তিনি হলেন সর্বোত্তম আদর্শের প্রতিক। শুধু নবুওয়তি জীবনই নয়, নবুওয়তপূর্ব জীবনেও হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মহান আদর্শের যে দৃষ্টান্ত ও নমুনা স্থাপন করেছেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে মা হালিমা বলেন, আমি শিশু হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে আমার ঘরে আনার পর সব অভাব মোচন হয়ে যায়। তাকে আনার পর আমার উভয় স্তন পূর্ণ হয়ে যায়। উটনির স্তনগুলো দুধে ভরে গেল। আমার গাধা (বাহনটি) দ্রুতগতিসম্পন্ন হয়ে গেল। বকরিগুলো চরণভূমি থেকে ভরা পেটে ও ভরা স্তনে ফিরে আসত। এভাবে শিশু মুহাম্মদ (সাঃ) এর মহিমা এক এক করে প্রকাশ পেতে লাগল।

 

হাফেজ মুহাম্মদ উবায়দুল্লাহ

শিক্ষার্থী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা

 

মুসলিম জাতির জন্য ঈদের দিন

 

ঈদে মিলাদুন্নবী যার আরবি প্রতিশব্দ হলো ‎‎’মাওলিদুন নবী’। ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) হলো ইসলামের শেষ নবি ও রাসুল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর আগমন উপলক্ষে মুসলিমদের মাঝে পালিত এক আনন্দ উৎসব। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ১২ ই রবিউল আউয়াল হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও এই তারিখ নিয়ে অনেকের মাঝেই মতো বিরোধ রয়েছে। প্রায় সব জায়গায় ১২ রবিউল আউয়াল হিজরিতেই ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালন করা হয়। ঈদ-এ-মিলাদুন্নবি (সাঃ) একটি মুসলিম জাতির জন্য ঈদ, যা হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মদিনে পালন করা হয়। এটি ইসলামের মহৎ উৎসবের মধ্যে একটি। ঈদ-এ-মিলাদুন্নবি মুসলিম সম্প্রদায়ে নবী করিম (সাঃ) জন্মদিন পালনের উপযোগী একটি প্রতিষ্ঠানিক উৎসব। ঈদ-এ-মিলাদুন্নবি (সাঃ) উপলক্ষ্যে মানুষের মাঝে ভক্তি ও সাধনা বাড়াতে সাহায্য করে এবং হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন ও আদর্শের স্মরণ করে। এই দিনে মুসলিম ও মুমিন সম্প্রদায়ের ভাইয়েরা মসজিদে যাওয়া, কোরআন শরীফ পড়া, নবী করিম (সাঃ) এর জীবন কাহিনী শুনা, ও দান-সদকা দেওয়ার প্রস্তুতি করে।

মোহাম্মদ ফাহাদ

শিক্ষার্থী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা।

 

বিশ্বজগতের জন্য রহমত নবী মুহাম্মদ (সঃ)।

 

আরব জাহানসহ বিশ্বব্যাপী যখন অন্ধকারাবৃত, সত্য নির্বাসিত, মিথ্যার জয়জয়কার, ঠিক সে সময়ই মহান আল্লাহ পাক পুরা জগতের রহমত হিসেবে বিশ্ব মানবতার ত্রাণকর্তা, অন্ধকারাচ্ছন্ন ধারার আলোক বর্তিকা রূপে রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ (দঃ) কে ১২ রবিউল আউয়াল প্রেরণ করেন। তাঁর আগমন ছিল পুরা জগতবাসীর জন্য আল্লাহর এক মহান রহমত এবং নেয়ামত। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, হে রসুল- আমি আপনাকে বিশ্বজগতের রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। কাজেই তিনিই সৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু ও মূল উৎস, তাঁর শুভাগমনের স্মৃতিবাহী ইতিহাসের স্মরণীয় এই পবিত্র দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) হিসেবে সুপরিচিত।

 

এম হুমায়ুন কবির

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।

 

নবী আগমণের সময় আনন্দ উদযাপন হয়েছিল

আল্লাহ তায়ালাই সর্বপ্রথম মিলাদুন্নবী (দ) পালন করেছেন। প্রিয় হাবিবের আগমনের বছরে সমস্ত আরবের ঘরে পূত্র সন্তান দান করেছিলো। জান্নাতের দরজা গুলো খুলে দিয়েছিলো। তারপর সমস্ত নবী রাসুলগণ আহলান সাহলান ধ্বণি দিয়ে স্বাগত জানিয়ে ছিলেন। ফেরেশতা হযরত জিব্রাইল (আ) ৩টি পতাকা নিয়ে পৃথিবীর পূর্ব, পশ্চিম ও কা’বার ছাঁদে পুঁতে দিয়ে সমস্ত পৃথিবীটাকে সাজিয়ে ছিলো। যে জাদুঘরদের নিকট জীন বশীভুত ছিলো সেদিন সে সব জীন কারো ডাকে সাড়া না দিয়ে নবীজির খুশি উদযাপন করেছিলো সেদিন চিরশত্রু বাঘ -হরিণ  বন্ধু হয়ে এক ঘাটে জল খেয়ে খুশি উদযাপন করেছিলো। অগ্নিপূজকদের অগ্নিকুন্ড নিভে গেছিলো। কাবা শরীফের মূর্তি গুলো ঝুকে গিয়েছিলো। নবীজি স্বয়ং প্রতি সোমবারে রোজা রেখে নিজের আগমনের দিনকে নিজেই স্বরন করতেন। এতকিছুর পরেও আমরা মিলাদুন্নবী (দ)  পালন করলে কেন দোষী হবো?

 

মোহাম্মদ শেফাত উল্লাহ তাহেরি

শিক্ষার্থী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা।

 

ফিচার লেখক:-

রায়হান উদ্দিন

শিক্ষার্থী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা।

মোবাইল:- 01865757454

ইমেইল:- Mohammadraihan148@gmail.com

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial