ঢাকাসোমবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

অন্যদিন 

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৩, ২০২৩ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মোহাম্মদ ফাহিম হোসেন:

রাত ১১টা ১৭ মিনিট। আদু সময়টা দেখে ভয়ানকভাবে চমকে গেল। এতো রাত হলো কিভাবে? হাজারখানেক প্রশ্ন তার মাথায়  ঘুরপাক খাচ্ছিল, কিন্তু উত্তর নেই। এইতো একটু আগে এশার নামাজ পরে গ্রামটা ঘুরে দেখার জন্য গিয়েছিল গ্রামের বাজারে। বাজারটা বেশি দূরে নয়, বাড়ি থেকে মাত্র ২০ মিনিট হেঁটে গেলেই গ্রামের বাজারটি দেখা যায়। হেঁটেই যাওয়া-আসা করা হয়, তবে ভ্যানও আছে। সে হেঁটেই পৌঁছালো কারণ, অল্প রাত, সময় হয়তো  তো ৮ বা ৯টার বেশি হবে না। বাজারে পৌঁছে প্রথমেই চমকে উঠলো সে। দোকানগুলো সব বন্ধ। কিন্তু দোকানগুলো বন্ধ কিসের জন্য? মানুষজনই বা সবাই কোথায়? রাত তো খুব বেশি না। এর আগে সে অনেকবারই তো এই সময় বাজারে এসেছিল কিন্তু এরকম তো ছিল না! সারাদিনের কাজ শেষে গ্রামের মানুষের অভয়ারণ্যে মুখরিত থাকতো বাজার। কিন্তু আজ পুরো বাজার নিস্তব্ধ। সে ঘামছিল, ভয়ে নাকি অবাক হয়ে সে বুঝতে পারছিল না। তাই সে সাথে সাথে তার হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠেছিল। রাত ১১:১৭ হলোই বা কিভাবে? আসলেই কি? কিন্তু বাজারের পরিবেশ তো তাই বলে। আরো ভয় পেয়ে গেলো সে। চাপা ভয়ের অনুভূতি নিয়ে ভ্যানের খোঁজে গেলো সে। কিন্তু কী আশ্চর্য! সেখানে কোনো ভ্যান, রিকশা কিছুই ছিলো না। না থাকারই কথা যেহেতু সারা বাজারে লোকজনের চিহ্ন মাত্র নেই। কিন্তু আসলে হচ্ছেটা কী? ঘড়ির দিকে আবার তাকালো কিন্তু দ্বিতীয়বার অবাক হওয়ার মত কিছু দেখলো না। মনে একটা ভয় নিয়ে কিছু না ভেবে হাঁটা শুরু করল বাড়ির দিকে। নিজেকে সাহস দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে সে। তবুও নিজের কথায় কী আর ভয় ভাঙে? ভয় একটুও কমলো না। জানা দোয়া-দরুদ সব পড়তে থাকলো।

অনেকাংশ পথ পাড়ি দিয়ে আবার ঘড়ির দিকে তাকালো। কিন্তু সে এবার প্রচণ্ড বড় রকমের  ধাক্কা খেয়ে দেখলো সময় সেই ১১:১৭ই। সে আসলেই খুব ভয় পেয়ে যায়, তাই এবার বুকের মাঝে দিগুণ ভয় নিয়ে জোরে জোরে হাঁটা শুরু করল। তার ১৭ বছরের জীবনে এতটা বিব্রত সে কখনো হয়নি। তবে আজকে কী তার…….? সে আর ভাবতে পারল না। এবার সমস্ত শক্তি দিয়েই দ্রুত দৌড়াতে লাগলো। পথিমধ্যে পাশের বাড়ির রহমান চাচার সাথে দেখা হলো তার। আদুকে দেখেই সে চিনে ফেললো বললো, আরে আদু না!দৌঁড়াও কেন বাবা? চাচার কথা শুনে সে যেনো বুকে প্রাণ ফিরে পেল। তার ভয় পাওয়া দেখে চাচা বলল, “আরে মিয়া ভয় পাইতেছো ক্যা? ব্যাটা মাইনসের আবার ভয় কিসের?” তার অবস্থা না বুঝে মন্তব্য করার জন্য আদু মনে মনে চাচার উপর কিছুটা বিরক্ত হলো। তবে ভয়ের সাথেই চাচাকে তার অবস্থা এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললো। চাচা ঘটনা শুনে তো অট্টহাসিতে মেতে উঠলো। এবার রাগের সহিত আদু চাচাকে বললো হাসছেন কেন চাচা? আমি কি মজা করেছি? কিন্তু বৃদ্ধ মানুষের হাসিতো আর সহজে থামার নয়। হাসি শেষ করে চাচা যা বললেন, তা সে শোনার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিলো না।চাচার কথাটা ছিল এরকম যে, আরে মিয়া আজকে কি বার জানো? বলোতো কি বার?স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দিলো, শুক্রবার। কিন্তু এই প্রশ্ন কেনো চাচা? ঢাকার শহরে থাকো তো তাই গ্রাম সম্পর্কে কিছু জানো না। গ্রামে শুক্রবার দুপুর ১২ টার পরে সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় । খোঁজখবর কিছু রাখো মিয়া? চাচা বললো। এই সামান্য বিষয় সে জানেনা, ভেবে অবাক হলো সে। কিন্তু চাচা সময়ের ব্যাপারটা? সঙ্গে সঙ্গে চাচা তার হাত ঘড়িটা আদুকে দেখালো। একি! এখন তো মাত্র ৮:৪০ বাজে।  কিন্ত তার ঘড়িটা? আর তখনই মনে পড়ে গেলো যে আজকে দুপুরে স্প্রিডবোটে ঢাকা থেকে গ্রামে আসার সময় নদী থেকে পানি ছিটে ঘড়ির মধ্যে যায়নি তো? মনে হয় পানি ঢুকে ঘড়ি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। তাই হয়তো দুপুর ১১:১৭ থেকেই ঘড়িটা থেমে আছে, তার খেয়াল হয় নি। সে আর কিছু ভাবলো না। নিশ্চিন্ত মনে চাচাকে একটা ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়ি ফিরতে লাগলো।

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial