ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

“মায়াজাল”

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ৬:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চম্পা দেবনাথ

‘তোমার হাতটা একটু ধরি?’
হঠাৎ এমন আবদার শুনে না হেসে পারলাম না।
‘কেন রে পাগলি,আমার হাত ধরতে হবে কেন?’
মুচকি হাসি দিয়ে বলল,’দেখছো না তুমি ওরা কেমন হাত ধরে যাচ্ছে। ‘
‘ওরা আর আমরা কি এক হলাম?’
চোখ দুটো নামিয়ে নিল সে,কয়েক সেকেন্ড পর আবার হেসে বলল,’আমি তো নিয়ে নিচ্ছি না তোমার হাত,একটু ধরি?’
তার সাথে তর্ক করে লাভ হবে না জানি।একটু হেসে বললাম, ‘আচ্ছা ধরো।’
ছোট্ট বেলা থেকে চিনি ওকে।খেলার সাথীদের মধ্যে সব থেকে কম খেয়াল করা মেয়েটা আজ সব থেকে ভালো সাথী আমার।জীবন কত আজব মায়াজাল,কখন যে কে কার আপন হয়ে যায়, কেউ জানে না।
রাস্তার পাশে হেঁটে চলা প্রেমিক প্রেমিকা কে দেখে তার ও শখ হইছে আমার হাত ধরার।আমার হাত ধরে হাতে যেনো অনেক দামী কিছু পেয়েছে।আবার শুরু করলো তার বকবকানি।বেশ ভালোই লাগে ওর ঝরনার মত কথা বলা।আশেপাশের কোনও কিছুই তার ঝরে পড়া থামাতে পারে না।হাত ধরে শুরু হলো তার হেটে চলা,হঠাৎ ফুল হাতে নিয়ে ছোট্ট এক পিচ্চি পাশে এসে বলল ‘ফুল নিবেন দাদাভাই ?’
এমনিতেই সামলে পারি না, এবার এসেছে ফুল।ফুল দেখে ওর চোখ আনন্দে নেচে উঠলো।একবারে না থেমে বলতে লাগলো,’ফুল কিনে দাও,বেলীর মালা দিবে দুইটা,আর ওই টা।না না এইটা।’
এভাবেই বাছাই করতে লাগলো সে।কি তার খুশি।মেঘ সরে পূর্নিমার চাঁদ যেমন জলজল করে ওঠে তেমনি তার হাসি।
‘কি হলো বলো কোনটা নিবো?’তার শাসনে আবার তনু ফিরে এলো।অনেক গুলো ফুল আর মালা তার হাতে তুলে দিলাম।একটা ছোট মালা সে আবার বাচ্চাটার হাতে পরিয়ে দিয়ে,আবার আমার হাত ধরল।
বয়স কম হয়নি,ওর বয়সি সব মেয়েদের দুটো একটা বাচ্চা আছে,কিন্ত ও এখনো বড়ো হলোনা।এখনো বাচ্চাদের সাথে লুকোচুরি খেলা,দৌড়ে দৌড়ে হাটা তার অভ্যাস।পার্কে বশে আমাকে বলতে লাগলো,’পায়েশ এনেছি খাবে তো?’উত্তরের অপেক্ষা না করেই বক্সেটা হাতে ধরিয়ে দিল।মাঝে মাঝে লজ্জায় ফেলে দেয় মেয়েদটা।
‘এসবের কি দরকার ছিল?’একবার বলেই থেমে গেলাম। না হলে আবার শুরু হয়ে যাবে।পাশ থেকে আবার ধীর শান্ত কন্ঠে বলল ‘তোমার হাতটা একটু ধরি?একটুও জ্বালাবো না তোমাকে।’
কখন যে তার কি রুপ আজও বুঝে উঠতে পারলাম না।আকাশের মত নির্মল সে।নদীর মত গতিশীল।তার মুখ থেকে কখনো হাসি ফুরিয়ে যেতে দেখিনি আমি।ওভাবে কতক্ষণ বসে ছিলাম আমি জানি না।
‘তোকে নাকি পাত্র পক্ষ দেখতে আসবে?ছেলে ডক্টর,তাও কি সমস্যা তোর?রাজি হয়ে যা না এবার।’
হঠাৎ রেগে উঠে সে বললো ‘খুব বিরক্ত করি না তোমাকে?খুব জ্বালাই?’
‘আরে তা বলছি নাকি,বয়স কি কম হয়েছে তোর?আর কতদিন একা থাকবি?’
রেগে গিয়েছিল খুব,পাশ থেকে উঠে একটু দূরে যেয়ে বশে থাকলো।আমি জানি পেছন ফিরে বশে মহারানি কি করছে।পাশে যেয়ে বশতেই আবার হেসে ফেলল।চোখে জল তাও হাসি থামে না।ভেজা ভেজা কন্ঠে বলল’আমি কাঁদলে খুব ভালো লাগে তাই না?’হাতটা আসতে করে ধরে বললাম ‘না রে পাগল,কিন্ত তুই ভালো থাক,তোর স্বপ্নগুলো পুরণ হোক এটাই তো চাই আমি।আমাকে দিয়ে কিছু হবে না।’
সে কিছু বলল না।চুপ করে থাকলো,একটু পর স্বর্নলতার মত আমার কাঁধে মাথা রেখে চোখ বুঝে থাকলো।আমার সাথে ওর যে সব সময় দেখা হয় না,যখন আমি আসি এরকম করে মেয়েটা।আমি কিছু বলি না,এত যুদ্ধের মধ্যে একটু শান্তি খুজে পায়।আমার সাথে ওর কোনও সম্পর্ক নেই। ছোট বেলার খেলা সাথী এটাই তার পরিচয়।কেউ শুনলে দারুণ এক লজ্জার মধ্যে পড়ে যেতে হয়।কেউ না হলেও সে আমার অনেক কিছু।সারাদিন পাখা ঝাপটে উড়ে বেড়ানোর পরে সন্ধ্যায় পাখিরা যেমন নীড়ে ফিরে ,সেরকম তার কাছে এসে আমার ক্লান্তি কাটে।ব্যর্থতার গল্প ভুলিয়ে আমার মুখে হাসি ফোটাতে তার এক দন্ড সময় লাগেনা।
‘সন্ধ্যা হয়ে গেছে,চল তোকে দিয়ে আসি।’
‘আর একটু থাকি না,তুমি আছো তো।কিছু হবে না।’এমন আবদার করে বলে না বলার ইচ্ছা কখনও হয়না।
‘চলো না,ফুচকা খাবো।’বলেই হাত ধরে টেনে টেনে নিয়ে গলো।ফুচকা দিলে হাতে নিয়ে মুখের সামনে ধরে বলল,’হা করো।আমি একটা খাওয়ায় দেই তোমাকে?’একটু বিরক্ত হয়ে বললাম, ‘আমি কি ছোট?এসব ভালো লাগে না আমার। ‘
মুখটা ভার করে চোখটা নামিয়ে নিল সে।পরক্ষণেই বলে উঠলো,’আরে বাবা,আমার ভালো লাগে,আমার হাতে ময়লা নেই দেখো।’ফুচকাওয়ালা তার কথা শুনে হেসে বলল,’নিয়ে নিন দাদা, এমন ভাগ্য সবার হয়না।’আর কথা বাড়ালাম না।আমাকে গুনেগুনে পাঁচটা দিয়ে বাকি দোকানটা ফাঁকা করে দিলো মনে হয়।শেষ হলো বললাম ‘চল,এবার দিয়ে আসি।রিকশা নিচ্ছি একটা।’রিকশা ডাকতে যাবো,সে থামিয়ে বলল,’দাঁড়াও দাঁড়াও,আমি হেঁটে যাব,এইটুকুই তো রাস্তা।’তার আবদার আর ফেলতে পারি না।দুজনে হাঁটতে শুরু করলাম।তার পড়াশোনা কেমন চলছে এসব শুনছি,উত্তরও দিচ্ছে।হঠাৎ আমাকে থামিয়ে বলল,’তোমার হাতটা একটু ধরবো?চলে যাবে তো একটু পর।’এমন মায়া জড়িয়ে বলে মেয়েটা।সারাটা রাস্তার আমার হাত একবারও ছাড়লোনা।ওকে পৌঁছে দিয়ে চলে আসার সময় দেখি চোখ ছলছল করছে।’আরে পাগল,আবার আসবো তো,সপ্তাহ খানেক পর।’
‘সত্যি বলছো তো তুমি?’অনেক কষ্টে তাকে বুঝিয়ে ফিরতে হলো।কষ্ট আমারও হয়,কিন্ত তাকে কখনো বুঝতে দেইনি।ফেরার সময় বারবার মনে পড়তে লাগল তার সেই আবদার ,”তোমার হাতটা একটু ধরি?”নিজে নিজেই হাসতে লাগলাম, কত ছোট ছোট বিষয় নিয়ে মেয়েটা খুশি থাকে।

পার্ট ১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলা বিভাগ

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial