ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

মো. রুকন উদ্দিন
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ৭:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গত ২১শে সেপ্টেম্বর ছিলো বিশ্বশান্তি দিবস। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রুকন উদ্দিন।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সামাজিক স্থিতিশীলতা
ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতির মর্মবাণী নিয়ে বিশ্বশান্তি দিবস উদযাপিত হয়। যুদ্ধের বিভীষিকাময় তাণ্ডব, মানব মৃত্যু, অবকাঠামোর ধ্বংস সবকিছু যে বিশ্ব স্থিতিশীলতার অন্তরায় তা বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় এই দিবসটি। পৃথিবীর দেশ সমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক বজায় রাখা, যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা, বর্ণবাদ নির্মূল করণ, জাত-পাতের বৈষম্য দূরীকরণ ইত্যাদি এই দিবসের মূল লক্ষ্য। ২১ শে সেপ্টেম্বর পালন করা দিবসটি বিশ্ব শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করলেও বিশ্ববাসী তা কতটুকু ধারণ করতে পেরেছে বা করছে সে বিষয়টি এখন প্রশ্নবিদ্ধ। সমাজিক দ্বন্দ্বসমূহকে বৈশ্বিক পরিমন্ডলে যুদ্ধের বা দ্বন্দ্বের প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। যা এক সময় রুপ নেয় চরম বেদনাদায়ক  রক্তক্ষয়ী সংঘাতে। আমরা যদি এই বিষয়টির দিকে লক্ষ্য করি তাহলে তা দিন দিন বৃদ্ধির ইঙ্গিতই দিচ্ছে আমাদের। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের আদীবাসি-উপজাতী ইস্যুকে সামনে আনা যায়। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই স্পর্শকাতর ইস্যু একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরে আবারো ফুলে ফেঁপে উঠেছে। এই ধরনের সামাজিক সমস্যাগুলো প্রথমত দেশিয় শান্তি এবং সামগ্রিক ভাবে বৈশ্বিক শান্তির অন্তরায়। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমত সামাজিক সমস্যা নির্মূলে সংশ্লিষ্টদের মনোযোগী হতে হবে।সকল ধরনের উদ্ভুত, আহুত সমস্যাসমূহকে চিহ্নিত করে তা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নির্মূল করতে হবে। সামাজিক সমস্যা, জাত-পাতের সমস্যাগুলো দূরীকরণের মাধ্যমেই বড় বড় সংঘাত এড়ানো ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও শান্তি আনয়ন সম্ভব। এই বিশ্ব সংঘাতহীন ও শান্তিময় হোক।
ইকবাল হোসেন রিয়াদ
শিক্ষার্থী, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শান্তি প্রতিষ্ঠা কেন প্রয়োজন?

২১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস। একটি যুদ্ধবিহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮১ সাল থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর প্রথম দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুসারে ২০০২ সাল থেকে প্রতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন থেকেই প্রতিবছর ২১ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এখন প্রশ্ন হলো পৃথিবীতে কি আদৌও শান্তি বিরাজ করছে? প্রতিযোগিতার এই পৃথিবীতে কেউ তৈরি করে মাদার অব অল বোম্বস আবার তার বিপরীতে কেউ তৈরি করে ফাদার অব অল বোম্বস। এই প্রতিযোগিতার নেশা যদি লেগেই থাকে তাহলে শান্তি সম্ভব না। বর্তমান ইউক্রেন, রাশিয়া যুদ্ধ কোন দিকে যাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পরেও বন্ধ হচ্ছে না। এদিকে এক দেশ আরেকদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, আবার ক্লাইমেট চেইঞ্জ হওয়ার হলে জলবায়ুর পরিবর্তন বলতে গেলে সিকিউরিটি ডিলেমার মধ্যে আছে আজকের পৃথিবী। সুতরাং ২১ সেপ্টেম্বর একদিন শান্তি দিবস পালন করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব কিনা আজকে বড় প্রশ্ন থেকে যায়। কাউন্সিল অব ফরিন রিলেশন নামে একটি সংগঠন রিপোর্ট করেছে বর্তমানে পৃথিবীতে ২৭ টি দেশে যুদ্ধ চলমান। তাহলে এই থেকে বুঝা যায় পৃথিবীর পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে। সুতরাং আজকের পৃথিবীতে শান্তি নিয়ে আসতে বিশ্ব নেতাদের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া সময়ের দাবি।
মো. রুকন উদ্দিন
শিক্ষার্থী, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শান্তিদিবসে শান্তির বার্তা বয়ে যাক বিশ্বময়
বিশ্ব শান্তি দিবস, প্রতিবছর ২১ সেপ্টেম্বরে পালিত হয়, এটি এমন একটি দিন যা আমাদের পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা এবং শান্তি সৃজনে আমাদের ভূমিকা চিন্তা করার জন্য আমাদের প্রয়োজন। ছাত্র হিসেবে, আমি মনে করি যে শান্তি শুধুমাত্র দ্বন্দ্বের অস্তিত্বহীনতা নয়, বরং এটি সমন্বয়, ন্যায়, এবং একত্রীকরণ সহ একটি সামগ্রিক ধারণা যাপন করে।
বর্তমান বিশ্বের যে সমস্যাগুলো প্রতিনিয়তই দেখছি তা সত্যিকার অর্থেই ভীতির সঞ্চার করে। তখন মাথায় চিন্তা আসে, আসলেই কি শান্তি আনা সম্ভব কিংবা শান্তি বলতে আসলেই কি কিছু আছে? শান্তির ধারণাটা তাই প্রতিদিনই পরিবর্তন হচ্ছে। যেমন, একজন দিনমজুরের কাছে শান্তি বলতে বুঝায় কাজের পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক পেয়ে ৩বেলা দুমুঠো খেয়ে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানো। রাষ্ট্রীয় কিংবা আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলো স্পর্শ বা প্রাভাবিত করবেনা। কিন্তু অপরদিকে যদি একজন রাজনীতিবিদের কথা বলি তার কাছে শান্তি বলতে বুঝায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আশীন হওয়া এবং সে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা, এই ব্যক্তি অন্ত্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সমস্যা দ্বারা প্রচন্ডভাবে প্রভাবিত।
এখন যদি বলি, আমি শান্তি বলতে কি বুঝি? আমার উত্তর হবে- স্বাভাবিক একটা পরিবেশ বিরাজ করা, সেটা নিজ জীবন এর কোনো বিষয় কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক যেকোনো বিষয় হতে পারে। আমি চাই সবক্ষেত্রেই যেন একটা স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করে এবং সকলে যেন ঝামেলামুক্ত থাকতে পারে।
সিয়াম সাজিদ
শিক্ষার্থী, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্বশান্তি দিবসে শান্তির জয় হোক
মানব সভ্যতার শুরু থেকেই মানবজাতির প্রধান লক্ষ্য ছিলো পৃথিবী থেকে সকল দ্বন্দ্ব-সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। মানব সভ্যতা শত শত যুদ্ধ-বিগ্রহ, বিপ্লব আর অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আজ তার সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করছে। নানা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে? ইউরোপে যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা,আফ্রিকায় খাদ্যাভাব কিংবা এশিয়ায় মন্দা কোনো কিছুই কি শান্তির বার্তা দেয়!মানব সভ্যতার শিখরে থেকেও মানব জাতিকে আজ লড়তে হচ্ছে যুদ্ধের সাথে,অভাবের সাথে,শোষণ-নির্যাতন কিংবা বৈষম্যের সাথে।শক্তিধর রাষ্ট্র শোষণ করছে দুর্বল রাষ্ট্রকে আর শক্তিশালী ব্যক্তি করছে দুর্বল ব্যক্তিকে। বিশ্বে শান্তি অর্জনের লক্ষ্য থেকে মানবজাতি এখনো অনেক দূরে আছে। আমরা এমন একটা পৃথিবী চাই যেখানে থাকবে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা। ঝরবে না রক্ত, পড়বে না লাশ। এক রাষ্ট্র অপর রাষ্ট্রের বিপদে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির বিপদে এগিয়ে আসার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হবে পরস্পরের মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতি। যুদ্ধ-বিগ্রহ,অভাব,বৈষম্যসহ যাবতীয় অকল্যাণ মুছে যাক আমাদের ধরা থেকে। এই পৃথিবী হোক শান্তি ও কল্যাণের।
মো. ইসমাঈল হোসেন
শিক্ষার্থী, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্বশান্তি দিবসে শান্তির খোঁজে..
শান্তি একটি আপেক্ষিক ধারণা, একজনের কাছে যেটি শান্তি অন্য জনের কাছে সেটি অশান্তির বিষয় হলেও হতে পারে।  মানুষ তার সারাজীবনেই এই এক চিলতে শান্তির খোঁজে দিকবিদিক ছুটোছুটি করে , কিন্তু আদোও কি সে এই শান্তির দেখা পায়?  শান্তির সাথে সফলতার এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সফল হলে মানুষ শান্তির দেখা পায় , কিন্তু এই সফলতা মানুষ তার সারাজীবনেই অর্জন করতে থাকে।  আজ হয়তো আমি শাহাবাগ থেকে গুলিস্তান যেতে পারলে নিজেকে সফল মনে করবো , আবার কাল হয়তো আমার গন্তব্য ভিন্ন হবে ,আমার সাফল্যের মাত্রা ভিন্ন হবে ,  আমার শান্তির পরিমাণও ভিন্ন হবে।  বিশ্ব শান্তির ধারণাটা কিছুটা আলাদা।  বিশ্ব শান্তির কথা আসলেই বার বার যুদ্ধের কথা উঠে আসে। আজ যারা বিশ্বে নিজেদের শান্তির বার্তা বাহক বলে দাবি করে , তারাই গোটা বিশ্বকে অশান্ত করতে মুখ্য ভুমিকা পালন করছে। তারা যেমন শান্তির পায়রা উড়ানোর কথা বলে , রাত হলেই তাদের দিক থেকে ছুটে আসে ব্যালিস্টিক মিসাইল। যুদ্ধ বিনা শান্তি নেই , এই মনোভাব আজ গোটা বিশ্বকে যুদ্ধের আখাড়ায় পরিনত করছে। শান্তির জন্য সবার আগে প্রয়োজন নিজের সাথে নিজের যুদ্ধ , মানুষ এই আত্মযুদ্ধে জয়লাভ করতে পারলেই প্রকৃত শান্তির দেখা পেতে পারে।  অন্যথায় বিশ্ব শান্তি , আত্মশান্তি কোনোটিই সম্ভব নয়।

জায়েদ হাসান সৌরভ
শিক্ষার্থী, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial