ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

পথশিশুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ৮:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সৈয়দ মাহফুজ ইসলাম

রাস্তায় বের হওয়া মাত্রই হাজারো পথশিশু নজরে পড়ে। বংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই পথশিশুদের দেখা যায়। বিশেষ করে রাজধানী  ঢাকাতে সবচেয়ে বেশি পথশিশু চোখে পড়ে।  ২০২২ সালের ইউনিসেফ কর্তৃক ‘সার্ভে অন স্ট্রিট চিলড্রেন ২০২২’ শীর্ষক জরিপে দেখা যায়, এদেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০,০০,০০০ এর বেশি যার ৭৫% ঢাকাতে বাস করে। এদের থাকার নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই। এসব শিশুরা সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, রাতে  খোলা আকাশ, মার্কেটের বারান্দা, ফুটপাত, ওভারব্রিজ, পার্ক, রেলস্টেশন বা বাস টার্মিনালগুলোতে রাত কাটায়। দরিদ্রতা পথশিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ। এছাড়া বাবা-মায়ের মৃত্যু, বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ,  অবৈধভাবে জন্ম নেওয়া শিশু, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়াসহ অন্যান্য নানা সামাজিক কারণে পথশিশুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব শিশুরা তাদের জীবিকার তাগিদে নানা ধরনের বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। চুরি, ছিনতাই, পকেটমার, মাদক চোরাচালান, মাদকের ব্যবসা এবং মাদক সেবন ছাড়াও নানা রকমের কিশোর অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৮৫% পথশিশুই কোনো না কোনো ভাবে মাদকের সাথে জড়িত।  ড্যান্ডি, হেরোইন,  ইয়াবা, ফেনসিডিল, নেশার ইনজেকশন ইত্যাদি নানা ধরনের মাদকের নেশায় বিভোর থাকে এসব পথশিশুরা। শুধু তাই নয় অনেক রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নিজেদের স্বার্থের জন্য এসব পথশিশুদের দিয়ে অপরাধমূলক কাজ করিয়ে নেয়।

অনেকসময় তারা বাসের হেলপারি, ভিক্ষাবৃত্তি, মুচির কাজ,  হকারি করা, গার্মেন্টসে কাজ, বাসাবাড়িতে এবং বিভিন্ন কল-কারখানাতে কাজ করে থাকে। তারা বাবা-মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। ছোটবেলা থেকে কেউ তাদের ভালো-খারাপ সম্পর্কে ধারণা দেয়নি। সমাজে তাদের ন্যূনতম কোনো  মর্যাদা নেই। সকল মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। এমনকি ৩ বেলা পেট ভরে খাবারটা পর্যন্ত তারা পায় না। প্রায় সকল পথশিশুই অপুষ্টিতে ভোগে। তাদের থাকার জায়গা যেমন নেই, তেমনি পরার মতো পোশাকও নেই। শীত মৌসুমে তাদের কষ্ট বহুগুণে বেড়ে যায়। পঁচা ও বাসি খাবার গ্রহণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করার কারণে তাদের নানা রকম অসুখ হয়। কিন্তু চিকিৎসার অভাবে অসুখ-বিসুখকে সঙ্গী করেই তাদের বেঁচে থাকতে হয়।

শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। এসব শিশুরাও সমাজের অন্য শিশুদের মতো জীবন যাপন করার অধিকার রাখে। তারাও তাদের অধিকারগুলা ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে শিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু করেছে। ঢাকাতে ২টি সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু এত অধিক সংখ্যক পথশিশুদের তুলনায় তা নগন্য। শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা রয়েছে। তবে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বদিচ্ছার কারণে তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। পথশিশুরা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া আমাদের দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার এবং পথশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত সবাইকে আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ প্রহণ করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদেরকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial