ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

নিরাপদ সড়ক নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

মো. আবদুর রহিম
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ১২:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের অন্যতম একটি মর্মান্তিক বিষয় হলো সড়ক দুর্ঘটনা।স্বপ্ন,আশা, আকাঙ্ক্ষা ও তীব্র মনোবাসনার প্রতিনিয়ত কবর রচিত হচ্ছে আমাদের সড়কগুলোতে। প্রতিনিয়ত অঝোরে ঝরে পড়ছে প্রাণ। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কয়েক দশক ধরে নিরাপদ সড়কের দাবি নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন,সংগ্রাম, সভা,সেমিনার, সিম্পোজিয়াম সংঘটিত হলেও নিরাপদ হয়নি সড়ক। প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর সারি। আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। নিরাপদ সড়ক দিবসে নিরাপদ সড়ক নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবনা, মতামত, দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুর রহিম

সরকার ও জনগণের সচেতনতাই পারে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে
বর্তমানে নিরাপদ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনা বিরাট হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি সড়ক ও মহাসড়ক এখন দুর্ঘটনার সূতিকাগার । প্রতিদিন জীবন-জীবিকার তাগিদে বাইরে গিয়ে দুর্ঘটনার বলি হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। প্রতিনিয়ত পত্রিকার পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন মর্মান্তিক খবর। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২২ সালে সারাদেশে ৬৭৪৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৯৯৫১ জন এবং আহত হয়েছে ১২৩৫৬ জন ।এইসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণের মধ্যে রয়েছে অনুন্নত সড়ক,অদক্ষ চালক,ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ট্রাফিক ব্যবস্হার ত্রুটি,নানামুখী দুর্নীতি ও জনগণের অসচেতনতা। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেও কমেনি দুর্ঘটনা। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের তিন দশক পেরিয়ে গেলেও থামানো যায়নি সড়কে মৃত্যুর মিছিল। ২০১৮ সালে সারাদেশব্যপী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ‘সড়ক পরিবহন আইন – ২০১৮ ‘ করা হলেও সেই আইনের নেই যথাযথ প্রয়োগ । প্রতিদিন অবাধে ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ। কিন্তু প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনা রোধে নেই কোনো জোরালো পদক্ষেপ। নিজেদের জন্য নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে হলে আইনের শক্তিশালী প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে ।শুধু আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলবে না ; এর সাথে প্রয়োজন চালকের লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত করা, সড়কে সেইফটি ইন্সপেকশন, গাড়ির ফিটনেস যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা,শুধু দক্ষ নয় নিরাপদ চালক তৈরি, ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহী করে তোলা,সিগনাল বাতির যথাযথ ব্যবহার, অতিরিক্ত গতি পরিহার করা,রাস্তায় পর্যাপ্ত গতি পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন, রিক্সা চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনা,ফিটনেসবিহীন গণপরিবহন নিষিদ্ধ করা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ যত জটিলই হোক না কেন জনগণ ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্যাপক দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
তাসনিয়া তাবাসসুম মিথিলা
শিক্ষার্থী , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সড়কপথ নিরাপদ থাকুক সারাবছর
প্রত্যহ নানান প্রয়োজনে আমাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে হয়।বাহন হিসেবে ব্যবহার করতে হয় নানান যানবাহন। প্রত্যহ এ যাতায়াতে মানুষ ও গাড়ির বেপরোয়া চলাচল, সড়কের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অনভিজ্ঞ চালক ও মানুষের ট্রাফিক সাইন সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের জীবন। ঢাকা-শহরের সড়কপথ যেন এক মৃত্যুপুরী। মানুষ হারাচ্ছে তার প্রিয়জনকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে পরিবারের উপর নেমে আসে এক সীমাহীন দুর্ভোগ। কেউবা আবার শরীরের কোন এক অঙ্গ হারিয়ে বরণ করে নিচ্ছে পঙ্গুত্বের জীবন। সারাজীবন হতে হচ্ছে তাকে লাঞ্ছনার স্বীকার। দিবস আসছে-যাচ্ছে, কিন্তু সড়ক নিরাপদ হচ্ছে কতটুকু!
সড়কপথ নিরাপদ থাকুক সারাবছর, কেউ যেন না হারায় তার প্রিয়জনকে। জাতীয় সড়ক দিবসে এই আমাদের প্রত্যাশা।
আলা উদ্দিন আফছার
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আর কত দিবস পালনের পর আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপদ সড়ক পাবো?
ঠিক এই মুহূর্তে যখন নিরাপদ সড়ককে উপজীব্য করে আমার মন্তব্য সাজাচ্ছি, তখনই হয়তো বাংলাদেশের কোনো রাজপথ বা অলিতে গলিতে হয় ট্রাক বা বাস চাপায় অথবা মোটরসাইকেলের আঘাতে ঝরে পড়েছে কোনো তাজা প্রাণ।।২০১৭ সালের ৪ জুন মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ২২ অক্টোবরকে “জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস” হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু এরপর প্রতিবছরই এই দিবস এলো-গেলো কিন্তু সড়ক আর নিরাপদ হলো না। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২০১৮ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কঠোর আন্দোলনের পরেও কাজের কাজ কিছু হলো না।সড়কে প্রতিনিয়ত প্রাণ ঝরছেই।সড়ক দুর্ঘটনার ফলে প্রতিনিয়তই কতো কর্মক্ষম ও জিডিপিতে অবদানকারী ব্যাক্তি প্রাণ হারাচ্ছেন; ফলে আর্থিকভাবে পঙ্গু হচ্ছে একটি পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশও। শুধু চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও‌ জনসচেতনতার অভাবকেই দায়ী করলে হবে না, কঠোর আইন প্রয়োগের অভাব, ট্রাফিক পুলিশের অবহেলা ও বছরের পর বছর সড়ক দুর্ঘটনার মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার ফলেও‌ নিরাপদ সড়ক‌‌‌ আমাদের কল্পনাতেই রয়ে গেছে। সরকার ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টায় সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে আমাদের প্রতিদিনের যাত্রাপথকে মৃত্যুকূপ না বানিয়ে নিশ্চিন্তে যেনো আমরা চলাফেরা করতে পারি সেই পদক্ষেপ নেয়ার এখনি সময়।
মেহরীন আক্তার নিপা
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করবে নিরাপদ জীবন 
বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম সড়ক পথ।কিন্তু সড়ক দূর্ঘটনা বর্তমানে নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।খবরের কাগজ ও টিভি চ্যানেলের এখন শিরোনাম হয়ে দাড়িয়েছে ” সড়ক দুর্ঘটনা।” সড়ক দূর্ঘটনার মূল কারনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ফিটনেস বিহীন গাড়ির চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, অবৈধ লাইসেন্স প্রদান, অদক্ষ চালক, লাইসেন্স প্রদানে দূর্নীতি ইত্যাদি। সড়ক দূর্ঘটনা গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সড়ক দূর্ঘটনায় প্রানহানি ঘটেছে ৪২ হাজার ৫২৬ জনের। সড়ক দূর্ঘটনার কারন হিসেবে দেখানো হয়েছে গাড়ির অতিরিক্ত গতি ৫৩.২৮ ভাগ। মোটর‍যান আইনে গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া থাকলেও অধিকাংশ চালকই এ নিয়ম মানেন না। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারন দেখানো হয়েছে ৩৭.৩৮ শতাংশ। পথচারীদের ভুলের কারনে মৃত্যু হয় ৩.৫৬ শতাংশ এবং অন্যান্য কারনে ৫.৭৮ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে সড়ক দূর্ঘটনার অর্থনৈতিক ক্ষতি জিডিপির ১থেকে ২ শতাংশ। দেড় শতাংশ ধরলেও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। সড়ক দূর্ঘটনায় যারা অকাল মৃত্যুবরন করে তারা আত্মীয় – স্বজনের হৃদয়ে চির শোকের যন্ত্রনা রেখে যায়। যারা পঙ্গুত্ব বরন করে তারা আসহায় জীবন যাপন করে। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই পারে সড়ক দূর্ঘটনা রোধ করতে। মোট কথা, স্বরাষ্ট্র, যোগাযোগ এবং আইন মন্ত্রণালয় সক্রিয় হলে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব। আর আমাদের জাতীয় জীবনে এই সমস্যার সমাধান হলেই সম্ভব হবে বহু মূল্যবান জীবন অকালে ঝরে পড়া রোধ ও বহু আকাঙ্ক্ষিত নিরাপদ সড়কের স্বপ্ন বাস্তবায়ন।
নুসরাত জাহান বাঁধন
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে আত্মসচেতনতা ও নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের বিকল্প নেই
সড়ক দুর্ঘটনা যা কিনা অভিশাপ। কেড়ে নেয় তাজা প্রাণ। অনেকে আবার বিকলাঙ্গ হয়ে জীবন্ত লাশ হয়ে পড়ে থাকতে হয় জীবনের বাকি সময়টুকু বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের যানবাহনের ০.৫ শতাংশ বাংলাদেশে থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে প্রায় ১০ হাজার মানুষ।যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, ২০২২ সালে সংঘটিত ৬৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৯,৯৫১ জন। আর আহত হয়েছে আরো ১২,৩৫৬ জন। যা গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সড়ক দুর্ঘটনার কারণের মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চলাচল, জনসাধারণের জেব্রাক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, রাস্তাঘাটের নাজেহাল অবস্থা, যেখানে সেখানে বাইপাস, টার্নিং নির্মাণ ইত্যাদি।সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রথমত মানুষকে আত্মসচেতন হতে হবে। নিরাপদ সড়কের জন্য দাবি করবার পূর্বে সবার নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। জনসাধারণকে ট্র্যাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে হবে। আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি, বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কে জনগণ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করেন। যদি আমরা নিজেরাই নিজেদের জায়গা থেকে সচেতন না হই , তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানোও সম্ভব হয়ে উঠবে না।এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করবার জন্য নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নও অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন ত্রুটিপূর্ণ রাস্তা সংস্কার,গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ,ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল রোধ,লাইসেন্স বিহীন গাড়ি ও ড্রাইভিং রোধ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভার ব্রিজ ও ফ্লাইওভার গুলো পুনরায় সংস্কার এর প্রয়োজন রয়েছে। প্রকৌশলগত ত্রুটি ও জটিলতার সমাধান করতে হবে। নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি ট্র্যাফিক আইনেরও যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সকলে সমন্বিত হয়ে নিরাপদ সড়ক এর জন্য আন্দোলন ও সচেতন মানসিকতা তৈরি করার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার মতো অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠবে।

মনিরুল আলম শাহেদ
শিক্ষার্থী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial