ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধির উপায় হিসেবে ইসলাম কী বলে!

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ১:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বর্তমান সময়ে চোখে চশমা পড়া ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশিরভাগ লোকই চোখের নানা সমস্যায় ভুগছেন। তবে পূর্বে মানুষের চোখে ছোঁয়াচে রোগ, ধুলাবালি ও এ্যালার্জি জনিত নানা রোগ দেখা দিলেও বর্তমান সময়ে ক্রমাগত এবং বিরতিহীন মোবাইলের স্ক্রীন স্ক্রল করতে করতে এবং ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহারের ফলে  অনেকেই তার মূল্যবান দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলছেন। চাইলেও প্রযুক্তির এই ভয়াল থাবা থেকে বের হতে পারছেন না। তবে ইতোমধ্যে আপনি ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক নিজের চোখের ক্ষতি নিজেই করছেন। এবার এ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তির কথা চিন্তা করুন।

চোখের যত্নে কার্যকরী উপায়গুলো হল-
১) মোবাইল/ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা।
২) ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১ ঘন্টার বেশি মোবাইল/ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার না করা।
৩) বিরতিহীন ভাবে মোবাইল/ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার না করা।
৩) প্রকৃতির সাথে সময় কাটানো, সবুজ প্রকৃতির দিকে দৃষ্টিপাত চোখের জন্য খুবই উপকারী।
৪) ভিটামিন এ যুক্ত খাবার, শাকসবজি ও বেশি বেশি পানি পান করা।
৫) রাসূল (সা.) এর সুন্নাহ মোতাবেক চলা। চোখের যত্নে সুরমা ও মেসওয়াক ব্যবহার করা (নিম্নে ব্যাখ্যা দেওয়া আছে)।

চোখের যত্নে সুরমা ও মেসওয়াক ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। সাথে এটি রাসুল (স.) এর সুন্নাহ।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে সুরমাঃ
সুরমা একটি খনিজ দ্রব্য (লিড টু সালফাইড)। যা চূর্ণ করে এটি তৈরি করা হয়। সুরমা চোখের জন্য খুবই উপকারী। এর কিছু কার্যকরী ভূমিকা আছে চোখকে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতি হতে মুক্ত রাখার জন্য। উপকারিতা গুলো হচ্ছে-
১) সুরমা চোখের জন্য ছোঁয়াছে সব রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে দেয়।
২) চোখের প্রবেশকৃত ধুলা ও ক্ষতিকর পদার্থগুলো নিঃসরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
৩) চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধক জীবাণু গুলোকে ধ্বংস করে।
৪) চোখের জ্বালাপোড়া নিরাময় করে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো এবং তা দিয়ে তোমাদের মৃতদের কাফন পড়াও। কেননা তা তোমাদের জন্য উত্তম পোশাক। আর তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ইচমির সুরমা। কারণ তা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, এবং চোখের পাতার চুল গজায়।” [সুনানে আবু দাউদ: ৩৮৭৮]

এছাড়াও প্রকৃতির এক অপার দান মেসওয়াক। মেসওয়াকের মাঝেও নানা রোগের নিরাময় রয়েছে। নিয়মিত মেসওয়াক পাকস্থলী সুস্থ রাখে, শরীর শক্তিশালী করে। মেসওয়াকে স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ে, অন্তর পবিত্র হয় এবং সৌন্দর্য বাড়ে।মেসওয়াকের মধ্যে মোট ৭০ টি গুণ রয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “মিসওয়াক এর মধ্যে ৭০ টি গুণ। তার মধ্যে সর্বনিম্ন গুণ হলো মৃত্যুর সময় কালিমায় শাহাদাত নসিব হবে।” [মিরকাত-২ঃখ/৩ঃপৃ]

মেসওয়াকের অন্যতম গুণ হচ্ছে চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করা। রাসুল (সা.) এর জীবনের শেষ আমল ছিল মেসওয়াক। তিনি তার উম্মতের কষ্ট হবে বলে প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করা বাধ্যতামূলক করেন নাই। মেসওয়াকের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে। এটি প্রত্যেক নবীর জীবনে ৪ টি সাধারণ সুন্নাহ এর মধ্যে অন্যতম একটি সুন্নাহ।

মর্মকথা হলো, চোখের জন্য মেসওয়াক ও সুরমা দুটোই খুবই উপকারী যা রাসুল (সা.) এর সুন্নাহ ও বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত।
তাই যারা চোখের নানা সমস্যায় ভুগছেন তাদের প্রতি পরামর্শ ও উপদেশ রইল নিয়মিত মেসওয়াক ও চোখে সুরমা লাগানোর। এটি একদিকে যেমন আপনার চোখকে সুরক্ষা করবে অপর দিকে রাসূল (সা.) এর সুন্নাহ পালন হবে। আর যে রাসূল (সা.) এর সুন্নাহ পালন করেন তার জন্য এই হাদিস,
রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে ভালোবাসে সে আমাকেই ভালোবাসে, আর যে আমাকে ভালোবাসে সে আমার সাথেই জান্নাতে থাকবে।” [তিরমিযী: ২৬২৮]

আল্লাহ তায়ালা আমাদের চোখকে সকল প্রকার অনিষ্ট হতে মুক্তি ও রাসূল (সা.) এর সুন্নাহের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন আমিন।

নাম: তাহমিনা আক্তার
প্রতিষ্ঠান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল: tahminaakter59467@gmail.com

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial