ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ডিপফেক : চেনা প্রযুক্তির ওপিঠ

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অর্পন আহমেদ
হঠাৎ একদিন আপনি দেখলেন যে আপনার একটি রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং দেশদ্রোহীতার অপরাধে আপনাকে জেলে পর্যন্ত যেতে হলো। কিন্তু আশ্চর্য এর বিষয় হলো আপনি ধরনের কোনো কাজই করেননি! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এ ধরনের ঘটনা কিন্তু বর্তমানে মোটেই অসম্ভব কিছু নয়। এ ক্ষেত্রে অবদানটি রাখছে প্রযুক্তির নতুন একটি বিষয় ডিপফেক। ডিপফেককে ফটোশপের যোগ্য উত্তরসূরীই বলা যায়। ফটোশপে কেবল ছবি ইডিট করা গেলেও ডিপ-ফেইক এর মাধ্যমে নকল ভিডিও এমনভাবে তৈরি করা হয় যেটা দেখলে নকল বলে মনেই হবে না। এতে থাকে ভিডিও, অডিও ও বাস্তবতার ছাপ যাতে মানুষের ধোঁকা খাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। ডিপফেক এর সুফল হাতে গোনা কয়েকটি যেমন- সিনেমা জগতে যুগান্তকারী পরিবর্তন, মৃত ব্যক্তির হুবহু ইমেজ তৈরি, শিক্ষা ক্ষেত্রে, গ্রাফিক্স ডিজাইন, আর্ট ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও এর কুফল ব্যক্তি থেকে দেশ পর্যন্ত ভুগতে পারে। ডিপফেক তৈরিতে ব্যবহার করা হয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি। মার্কিন প্রযুক্তি উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা ও ধনকুবের ইলন মাস্ক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে পারমানবিক বোমার চেয়েও বেশি ভয়ংকর বলে উল্লেখ করেছেন।
ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি এত নিখুঁত ভাবে ভিক্টিম-এর মুখ স্ক্যান করে তার অঙ্গভঙ্গি , নড়াচড়া অনুকরণ করে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বোঝা প্রায় অসম্ভব। আর তাই এর সুযোগটা বেশি নিচ্ছে অসুস্থ মানসিকতার নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী কিছু মানুষ। আর সবচেয়ে আশংকার বিষয় হচ্ছে ডিপফেক শনাক্তকরণ এর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত বের হয়নি যদিও এম আই টি এর কয়েকজন গবেষক এটি নিয়ে গবেষণা করছেন কিন্তু সেটি এখনো ল্যাবের সীমিত পর্যায়েই আছে।
কী ভয়ংকর একটি ব্যাপার যে একজন লোক ঘরে বসেই একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, নেতা, ধর্মগুরুর নকল ভিডিও বানিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে জাতিগত দাঙ্গা কিংবা যুদ্ধ পর্যন্ত বাধিয়ে দিতে পারে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরো বেশি কেননা আমরা জাতিগত ভাবে আবেগী।আমরা কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই বিশ্বাস করে নিই, বিশেষত ধর্মের বিষয়গুলোতে।ধর্মকে কেন্দ্র করে গুজব সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনা আমরা আগেও দেখেছি। যেহেতু বর্তমানে ডিপফেক প্রযুক্তি বেশ সহজলভ্য হয়ে গেছে তাই এখন কেবল নেতা, সেলিব্রেটিদেরই নকল ভিডিও তৈরি হচ্ছে না বরং সাধারণ মানু্ষও এর ভিক্টিম হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় যে ক্রোধবশবর্তী হয়ে ফেক পর্ন ভিডিও বানিয়ে ইন্টারনেট এ ছেড়ে দিচ্ছে কিছু নিম্নমানসিকতার লোক। বিশেষ করে মেয়েরা এর বেশি শিকার হচ্ছে। মানুষকে এমন কিছুর জন্য শাস্তি পেতে হচ্ছে যা তারা কোনোদিন করেইনি।
যেহেতু ডিপফেক এখন অতি আধুনিক এবং শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব তাই এর খারাপ ব্যবহার হুমকির মুখে ফেলতে পারে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে তীর্যক মন্তব্য নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হলে পরে জানা যায় যে সেটি একটি ভুয়া ভিডিও ছিলো। এরকম আরো অসংখ্য উদাহরণ আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাই। ডিপফেক সহজলভ্য হয়ে যাওয়ার কারণে এর ব্যবহার আমরা নানাবিধ ক্ষেত্রে দেখতে পারছি। যেহেতু দুনিয়াতে খারাপ লোকের অভাব নেই, ডিপফেক তৈরিকারীদেরও তাই অভাব হয়না।
মজার ছলে ডিপফেকের মাধ্যমে কোনো পছন্দের মুভিতে নায়কের মুখে নিজের মুখ ব্যবহার করা পর্যন্ত ঠিক থাকলেও তা আর বর্তমানে কেবল মজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। যেহেতু ডিপফেক শনাক্তের শতভাগ কার্যকরী কোনো পদ্ধতি নেই, কিছু ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে খেয়াল করলে অনেক সময় ডিপফেক শনাক্ত করা যায়। যেমন: অস্বাভাবিক আলো-ছায়া, অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি, কথার সাথে ঠোঁটের মিল না থাকা। যেহেতু এটি শনাক্তের নির্ভরযোগ্য কিছু তৈরি হয়নি এখনো তাই এগুলাই প্রাথমিকভাবে খেয়াল করতে হবে। আশা করে যাচ্ছে খুব শীঘ্রই এর শনাক্তকরণের উপায় বের হবে।
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial