ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

গোধূলি মায়া

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সে আছে কোথাও, খুঁজে দেখো। আচ্ছা দাড়াও যাওয়ার আগে বলে যাও তুমি কেমন আছো?কবে ফিরলে?কাকিমার কী খবর?শুনেছিলাম, কাকিমা  না কি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন?
একসাথে অনেকগুলো প্রশ্ন করায় শুভাশিস একটু থমকে দাড়ালো। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,মা কে কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিলাম। ডাক্তার বললেন,”এ ভীষণ জটিল রোগ।বেশিদিন বাঁচবার আশা নেই।”
জানোই তো বড়দি মা ছাড়া আমার কেউ নেই।
এ ভয়ানক একাকিত্বের ভয় আমাকে বার বার জাপটে ধরছে বড়দি। মা ছাড়া পৃথিবী যেন গোলাকার প্রাণহীন এক বস্তুপিণ্ড। ইতোমধ্যেই শুভাশিস এর চোখ জলে ভরে গেছে।চোখ মুছতে মুছতে বলল,বড়দি মা তোমায় একবার দেখতে চেয়েছেন। যখন বাড়ি থেকে বার হচ্ছিলাম মা বুঝতে পেরেছিল আমি এখানে আসছি তাই ডেকে বলল,সৃষ্টি কে একবার আসতে বলিস তো।
ওকে বহুদিন দেখি না।মায়ের মনের জোর বড়ই অদ্ভুত। মা জানে,ওনি আর বেশিদিন নেই এই জগতে তবু ও ভেঙে পড়তে দেখি নি,জানো বড়দি।

এভাবেই বলে যাচ্ছিল শুভাশিস। আহ! ছেলেটার কেউ নেই বড় কষ্ট হয় ওর জন্য। কাকিমার যে কী হলো!কাকিমা বড় ভালো মানুষ।মানুষটার জন্য আমার ভীষণ পীড়া হয়।
শুভাশিস কে বললাম, আচ্ছা কাকিমা  যখন দেখতে চেয়েছেন আমি অবশ্যই যাব। আমি অবশ্য স্থীরই করে রেখেছিলাম আজ বিকালে শশী,আমি,মা যাব কাকিমা কে দেখতে।
ঠাকুমা আমাদের কথা শুনে শুভাশিস কে বলল,”থাক বাবা কাঁদিস নি।ওপরওয়ালা সব ঠিক করে দেবেন।মানুষকে তো যেতেই হবে বাবা।আমরা কেউ চিরকাল থাকতে আসিনি।কেউ একটু আগে যায় আর কেউ একটু পরে।”ঠাকুমা কে প্রনাম করে তার কথার সঙ্গে হ্যাঁ মিলিয়ে শুভাশিস চলল শশী কে খুঁজতে।
আমাদের পুরনো আমলের মস্ত প্রাচীর ঘেরা বাড়ি।অনেক গুলো ঘর।চারেদিকে ফুলের বাগান দিয়ে ঘেরা।পাশে মস্ত পুকুর। পুকুরের অায়তন বোধ করি আমার জানা নেই।
এদিকে অনেকক্ষণ হয়ে গেল মা একা কাজ করে যাচ্ছে।অনেকক্ষণ মায়ের আওয়াজ পেলাম না;ব্যাপার কী? রান্নাঘরে গিয়ে দেখি মা একাই জলখাবার তৈরি করে ফেলেছে।প্রতিদিনই এমন হয়ে যায়।কতবার ভাবি আজ আমি জলখাবার বানাবো কিন্তু তা আর হয় কই। মা রেগেমেগে বলল শ্রী,”তুই কখন গেছিস বলতো?বেলা গড়িয়ে দুপুর হতে চলল যে, দুপুরে কি সবাই জলখাবার খাবে?” আমি শশব্যস্ত হয়ে বললাম, এখুনি সবাই কে ডাকছি মা।মা রান্নাঘরের দাওয়ায় সবার জলখাবার দিয়ে দিল।একে একে সবাই খেলো কিন্তু শশী আর শুভাশিস এর দেখা নেই।
শুভাশিস ওর ছোটবেলার বন্ধু।একসাথে ওরা স্কুলে গিয়েছে;মাধ্যমিক দিয়েছে। এখন কলেজের পাঠ চলছে ওদের।দুজন একসাথে হলেই কোন গল্পের জগতে হারিয়ে যায়।
শশী বই পড়তে বড়ই ভালোবাসে।শুভাশিস কে আসার সময় দেখলাম হাতে অনেকগুলো বই এনেছে।ওগুলো নিয়েই এখন দুজন মেতেছে।এখন বইগুলো পড়ে শেষ করবে তারপর খাবে সে দুপুর গড়িয়ে বিকাল হোক না কেন।
গিয়ে দেখি যেমন ভাবা তেমন কাজ;বইয়ে দুজন মুখ গুজে বসে আছে।আর একটা করে চরিত্র পড়া হয়ে গেলে সেটা নিয়ে তাদের বিস্তর আলোচনা।

অবশেষে দুজনকে ধরে জলখাবার খাওয়ালাম। শুভাশিস আজ আর বেশিক্ষণ থাকলো না।বাড়ি গেলো।কাকিমার জন্য নাকি মন কেমন করছে।শশী পুনরায় বই নিয়ে বাগানের দিকের বড় গাছটার সাথে লাগানো দোলনায় দোল খেতে খেতে পড়া শুরু করলো।খোলা চুল যেন কালবৈশাখীর মেঘের মতো,টানা টানা কালো চোখ যেন তরবারীর মতো ধারালো,দু ভ্রুয়ের মাঝে ছোট গাঢ় লাল রঙা টিপ যেন এক বিন্দু অগ্নির ঝলকানির মতো দগদগে দ্যুতি ছড়াচ্ছে, গালের মাঝখানে একটা ছোট তিল,গায়ের রং যেন দুধে আলতা ওর অপরূপ সৌন্দর্যে ও যেন সবাই কে ছাড়িয়ে গেছে।ও সত্যিই সুস্মিতা,সুহাসিনী ওর হাসিতে যেন যাদু আছে সবাইকে কেমন আপন করে নেয় সহজে।ওর নির্মল দীপ্তি ওর নির্মল আত্মার বহিঃপ্রকাশ। ওর গতি সহজ,ও যেন রূপকথার রাজকুমারীর মতোই বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
আমাকে দূরে দাড়িয়ে থাকতে দেখে শশী বলল, বড়দি এখানে এসো না।বললাম ওখানে গিয়ে কাজ নেই তুই পড় আমার অনেক কাজ।শশী মুখ ভার করে বলল;অাচ্ছা যাও।
বাবা বাড়িতে নেই।জমিজমার কাজ নিয়ে কলকাতায় গেছেন। ফিরবেন ১০ দিন পর।এখনই শশীর সুযোগ নিজের ইচ্ছামতো যা খুশি করার।বাবা খুব কড়া।আমাদেরকে কড়া শাসনে রাখাই যেন তার মূল কাজ।
বড়দাদা গেছেন ব্যবসায়িক কাজে।দাদা কাজ নিয়েই ব্যস্ত।দাদার সম্বন্ধ দেখা হচ্ছে।বয়স অনেক হয়েছে তবু ও দাদা কেন জানি বিয়ে করতে চায় না।
শশীর পছন্দ দারুণ।দাদা পাত্রীর ছবি দেখতে লজ্জা পায়।আমাদের কে বলে;তোরা দেখ তোদের যাকে পছন্দ আমি তাকেই বিয়ে করব।এদিকে যার ছবিই দেখানো হোক শশীর পছন্দই হয় না।

আমি ভুলেই তো গিয়েছিলাম আমি জলখাবার খাইনি।মনেই পড়ত না যদি না মা বলতেন।জলখাবার খেয়ে ঘরে ঢুকলাম।মা তার মতো নানা কাজে ব্যস্ত।ঠাকুমা কুলের আচার বের করছেন রোদে দেবেন বলে।গীতবিতান টা হাতের কাছেই ছিল।কখন যে হারিয়ে গেলাম মনে পড়ে নাহ।হঠাৎ, সৃষ্টি-এই-সৃষ্টি  ডাক শুনে উঠে বসলাম। আমার কলেজের বান্ধবী তমা ডাকছে আমায়। জবাব দিয়ে বললাম আমি ঘরে।এখানে আয়। তমার সাথে গল্প করতে করতে বিকেল হয়ে গেলো।তমাকে বললাম,কাকিমা কে দেখতে যাব মা,শশী আর আমি।তুই যাবি? তমা রাজি হলো।মাকে আর শশী কে নিয়ে আমরা চললাম শুভাশিসের বাড়ির দিকে,,,

পর্ব ২
চলবে,,,

রোকেয়া আক্তার
বাংলা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial