ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ক্যাম্পাসে প্রথম দিন স্মৃতি অমলিন

জোবাইদুল ইসলাম
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ৪:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সবার স্বপ্ন থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কিন্তু সে স্বপ্নকে ছুঁতে ক’জনই বা পারে! যারা  ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হয়ে স্বপ্নের ঢাবি ক্যাম্পাসে আগমন করেছে ঢাবি ক্যাম্পাসে তাদের প্রথম দিনের অনুভূতি কেমন ছিলো? সদ্য ঢাবিতে ভর্তি হওয়া পাঁচজন শিক্ষার্থীর অনুভূতি তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী জোবাইদুল ইসলাম
সারা দিন ক্যাম্পাসে ঘুরে-ফিরে কাটিয়েছিলাম
ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের আনন্দ এতদিনে ম্লান হয়ে এসেছে আনন্দহীন টানা অবসরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হওয়ার পর ভর্তি হওয়ার আগে বেশ কিছুদিন সময় ছিলো। প্রতিটা রাত ভাবতাম কবে স্বপ্নের ক্যাম্পাসে পা রাখবো? ক্যাম্পাসে নিজের উপস্থিতি জানান দিবো! আমি এর আগে মাত্র দু’বার ঢাকা এসেছিলাম কিন্তু কখনোই প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের সাক্ষাৎ পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। এরপর হঠাৎ আমাদের ভর্তির দিনক্ষণ ঠিক হলো আর আমি অসম্ভব জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ডুবে যাচ্ছিলাম। যাইহোক, আমি ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করলাম এক ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে। এই অনুভূতি খানিকটা নব্বই দশকের হাজারো চিঠি বিনিময়ের প্রেমের পর প্রেমিকার দেখা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার মতো। যাত্রা প্রায় শেষে নীলক্ষেত দিয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের গেটের ভেতরে ঢোকার সময় এক অদ্ভুত অজানা শিহরণ দু’ফোঁটা অশ্রু হয়ে আমার চোখ বেয়ে নামলো। আমি একে একে দেখছি আর মুগ্ধ হচ্ছি ভিসি চত্ত্বর, কলাভবন, হল মাঠ, হাকিম চত্ত্বর, টিএসসি। আমি সারাটা দিন ক্যাম্পাসে ঘুরে-ফিরে কাটালাম আর অনেক বন্ধুও বানালাম এই সময়ের মধ্যেই।মগজে জীবনানন্দের লাইনগুলো বারবার দোলা দিচ্ছিলো, “কোনো এক অন্ধকার লাইব্রেরির নিস্তব্ধ হলুদ পাণ্ডুলিপির মতো দেখলাম তাকে/ শ্রাবণের রৌদ্রে রেবা নদীর মতো ছিল যে এক দিন।”
নাহিদ হাসান ইমন
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আমিও হয়ে গেলাম ঢাবির একটা অংশ
দুই চোখে অসীম স্বপ্ন নিয়ে আমি যখন প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখি তখনও আমি ভাবতে পারছিলাম না যে সামনে আমার জন্য ঠিক কোন সময়টা অপেক্ষা করছে! ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে পা ভিজিয়ে আমি একটু একটু করে যখন কলাভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম তখন আমার চোখে একদিকে ছিল প্রিয় শহর, প্রিয় মানুষগুলোকে ছেড়ে আসার কষ্ট আবার অন্যদিকে ছিল নিজের সারাজীবনের লালিত স্বপ্নকে পূরণ হতে দেখার আনন্দ। অনেক আগেই নিজের কাছে নিজে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ভর্তি না হওয়া অবধি আমি ঢাবিতে আসবো না। নিজের স্বপ্নকে এত কাছ থেকে পূর্ণতা পেতে দেখার এই অনুভূতি সত্যি বলতে কখনো পরিপূর্ণভাবে ভাষায় বা লেখনীতে প্রকাশ করার মতো না। আমাদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়াম লেকচার থিয়েটার ভবনে। শরতের শুভ্রতার মতো সাদা-নীল রঙে সাজানো হয়েছিল অনুষ্ঠানের মঞ্চ। চারদিকে এতো এতো আনন্দ দেখে আমার মন স্বাভাবিকভাবেই মেতে ওঠে নতুনের আনন্দে। বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এবং বড় ভাই-বোনদের দেওয়া উপদেশ সারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই আমার জন্য নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। পরিচয়পর্ব শেষে আমরা গিয়ে উপস্থিত হলাম অপরাজেয় বাংলার সামনে। সারাজীবন বইয়ের পাতায় দেখা ভাস্কর্যটি আমার মনে যেনো অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি করলো। বিভাগের সকলে মিলে অপরাজেয় বাংলার সামনে ছবি তোলা হলো। এভাবে আমিও হয়ে গেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অংশ।
তাহমিনা তামান্না
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রথম দিনটা স্মৃতি হয়ে থাকবে আজীবন
প্রাচ‍্যের অক্সফোর্ডে পড়ার স্বপ্নটা সবারই থাকে কিন্তু সবাই কি পারে তার স্বপ্নটা বাস্তবে রূপ দিতে? ভর্তি পরীক্ষা নামক এক বিশ্বযুদ্ধে অবতরণ করে কেবল জয়ী হয়ে ফিরতে পারলেই আপনি আপনার সপ্নটাকে বাস্তবে রুপ দিতে পারবেন। কিন্তু তার জন‍্য কত ত‍্যাগ স্বীকার করতে হয় তা একমাত্র ভর্তি যোদ্ধারাই জানে। আলহামদুলিল্লাহ্ এই ভর্তি যুদ্ধে সৃষ্টিকর্তার দয়ায় জয়ী হতে পেরেছিলাম। ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর ক‍্যাম্পাসের প্রথম দিন নিয়ে মাথায় ঘুরতে থাকে হাজারও প্রশ্ন। আমি তো গ্রাম থেকে এসেছি, আমি কি নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবো? ক্লাসম‍েটরা কেমন হবে? ক্লাসরুম কেমন হবে? শিক্ষকরা কেমন হবেন? ইত‍্যাদি নানা প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে থাকায় ক‍্যাম্পাসে যাওয়ার আগের রাতে ঠিকমতো ঘুম হলো না। আমাদের ক্লাস শুরু হয় ২০ আগস্ট। সেদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ক‍্যাম্পাসে যাওয়ার জন‍্য প্রস্তুত হয়েছিলাম। মনের মধ‍্যে আনন্দ ও ভয়ের সংমিশ্রণে এক অন‍্যরকম অনুভূতি তৈরি হয়েছিল সেদিন। যখন ক‍্যাম্পাসে পা রাখলাম তখন মনের মধ‍্যে আলাদা একটা সাহস চলে এলো। কারণ আমিও এখন ঢাবির একটা ক্ষুদ্র অংশ। ক্লাসে প্রবেশ করে দেখলাম সবার ভেতরেই যেন আলাদা আনন্দ বিরাজ করছিল। কারো সাথে কোন কথা না বলে একেবারে শেষে বসলাম। তারপর স‍্যার ক্লাসে আসলেন। সবার সাথে পরিচিত হলেন। কিছুটা ভয় ভয় লাগছিল।প্রথম দিনেই ক্লাস করতে হয়েছিল অনেকগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাস সরাসরি করছি ভাবতেই কেমন জানি মনটা আনন্দে নেচে উঠলো। সারাটা দিন ক্লাসেই কাটলো। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে কয়েকজনের সাথে পরিচিত হয়েছিলাম। প্রথম দিনে সবার সাথে পরিচিত হতে পারিনি। যাই হোক প্রথম দিনটা ক্লাসের মধ‍্য দিয়ে কাটলেও এটা স্মৃতি হয়ে থাকবে সারাজীবন।
ফাইয়াজ উদ্দিন স্মরণ
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আসলেই সুন্দর
ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়ার পর থেকে প্রতিটা দিন অপেক্ষার প্রহর গুনছিলাম প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে পদার্পণ করার। অবশেষে স্বপ্ন এবং বাস্তবের সন্ধিক্ষণের দিনটি ছিলো ২২ আগস্ট ২০২৩। আগের দিন চট্টগ্রাম থেকে রওয়ানা দিয়ে দিলাম এই উপলক্ষে। কানে একটি সুরই বারবার বেজে চলছিলো, “স্বপ্ন টানে দিলাম পাড়ি, অচিন পথে আপন ছাড়ি।” প্রিয় শহর, প্রিয় মানুষজনকে ছেড়ে লালিত স্বপ্নের উদ্দেশ্যে। কিছুটা ভয়, কিছুটা উত্তেজনা, কপাল ঘামানো, মুখ শুকানো, পানির পিপাসা। নতুন পরিবেশ, অজানা পরিস্থিতি। তবে এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে বেশি সময় লাগলো না। বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত নবীন বরন অনুষ্ঠানে বড় ভাই-বোনদের বরন করে নেওয়া আর সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের উপদেশ আর নির্দেশনামূলক বাক্য খুব সহজেই মানিয়ে নিতে সাহায্য করলো। এরপর নতুন সহপাঠীদের সাথে আলাপ, পরিচয় যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশের আমেজ এনে দিয়েছিল অপরাজেয় বাংলার সম্মুখে। এরপর চারুকলা অনুষদ এবং কলা অনুষদের ঘুরাঘুরি মনে থাকবে আজীবন। বর্ষার কালো মেঘের ন্যায় যে পরিস্থিতি নিয়ে ক্যাম্পাসে পদার্পণ করলাম অচিরেই যেন তা শরতের সাদা মেঘে রূপান্তরিত হলো। এই অনুভূতি সদ্য প্রস্ফুটিত পদ্মকলির সৌন্দর্যের ন্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনের এত এত অনুভূতির  সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বুঝেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আসলেই সুন্দর। অতএব, নতুন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে হোক নতুন প্রভাতের সূচনা জ্ঞান করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পথচলা শুরু করলাম এর মধ্য দিয়ে।
সৌরভ দাশ বিজয়
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ফুলগুলো যেন আমায় বরণ করে নিচ্ছে
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্যে ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর পরই বারবার মায়ের অশ্রুসিক্ত চোখ আর কম্পিত মুখে বলা কথাগুলো মনে পড়ছিলো। মনে হচ্ছিলো গ্রামের সবুজ প্রান্তর ছেড়ে ইট পাথরের শহরে কীভাবে টিকে থাকবো!একটু পরই বন্ধুর সাথে ক্যাম্পাসের উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দিলাম। গণতন্ত্র তোরণ দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সাথে সাথেই শরীরে লাগলো এক শান্তির সুবাতাস, সে মুহুর্তটা অবর্ণনীয়। তখনই যেন ঢাকা শহরের নিষ্ঠুরতাকে ভুলে গিয়ে আমার মনে হতে লাগলো রাস্তার পাশে ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন আমায় বরণ করে নিচ্ছে। কারণ এবারই আমার ক্যাম্পাসে প্রথম আসা।
সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পর কলাভবনের সামনে এক বটগাছের নিচে দাঁড়ালাম। শুনলাম এটিই নাকি সেই ঐতিহাসিক বটতলা! মধুর ক্যান্টিনে গিয়ে চায়ের কাপে মুখ দিতেই  আলাদা একটা শিহরণ জেগে উঠলো। মনে হলো আমার মতো এখানে বসে হয়তো একদিন  দেশের শীর্ষ ব্যক্তিরা চায়ের কাপে ঝড় তুলতো।আলোচনা করতো রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এরপর চলে গেলাম টিএসসি সেখানের সবুজ চত্বর থেকে ভেসে আসা গানের সুর  মন ছুঁয়ে দিচ্ছিলো। সোহরাওয়ার্দী, রমনা কালীমন্দির, বাংলা একাডেমি, দোয়েল চত্বর পেরিয়ে চলে গেলাম সবার স্বপ্নের সেই কার্জন হলে। স্থাপনাগুলোর সৌন্দর্য সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। যা বাস্তবে না দেখলে বোঝা যায় না। এরপর  দেখার সৌভাগ্য হলো ভাষা আন্দোলনের প্রতীক শহিদ মিনার, যেন শিল্পির তুলিতে আঁকা  চারুকলা অনুষদ, জাতীয় কবির সমাধি, ঢাবি শহিদদের নামখচিত ‘স্মৃতি চিরন্তন’। বহুদিনের লালিত স্বপ্নটা যেন ধীরে ধীরে বাস্তবে ধরা দিচ্ছিল। সারাটা দিন এভাবেই কেটে গেল। সূর্য ডোবার পর  ক্যাম্পাসে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বিদেশি, আদিবাসি সকল শিক্ষার্থীর পদচারণা আমায় মুগ্ধ করলো।এ যেন এক অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সারাদিন এভাবেই বহুদিনের মনে পুষে রাখা কৌতূহল পূর্ণ করার আকাঙ্ক্ষা সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পায়ে হাঁটার ক্লান্তিকে যেন এক নিমেষেই দূরে ঠেলে দিলো। ক্লাস শুরু হলে হয়ত বহুদিন এই ক্যাম্পাসেই কাটাতে হবে। একসময় হয়ত ক্যাম্পাস জীবনের উচ্ছ্বলতা ম্লান হয়ে যাবে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হবে, জীবনযুদ্ধ শুরু হবে তবু  আজকের এই বিশেষ দিনটা প্রতিনিয়তই স্মৃতির জানালায় উঁকি দিবে।
মৃত্যুঞ্জয় সরকার পিয়াল
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial