ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

একক ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ১:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আসন্ন শিক্ষাবর্ষ ২০২৩-২৪ থেকে কেবল একটি ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের ৫৪ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করতে তোড়জোড় চলছে বেশ ক’দিন থেকেই। এ লক্ষ্যে ১৫ সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।  যাতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। অপেক্ষা কেবল অধ্যাদেশ জারির।  আর এই অধ্যাদেশ জারি হলে দেশের কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একক এই ভর্তি পরীক্ষায় যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করতে পারবে না এবং সেটা হবে তাদের জন্য বাধ্যবাধকতা। এরকটাই বলছে গঠিত সেই ১৫ সদস্যের কমিটি। উক্ত অধ্যাদেশে “এনটিএ” বা ন্যাশনাল টেস্টিং অথরিটি নামের একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান গঠনের বিধানও রয়েছে। যে অথরিটি কেবল এই একক ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে। যেমনটি বিভিন্ন দেশের উচ্চ শিক্ষার ভর্তি কার্যক্রমের জন্য রয়েছে। তবে এই খবর শুনে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের কপালে দেখা গেছে চিন্তার ভাজ। কেননা এই একক পরীক্ষার পাঠ্যক্রমে আসবে ব্যাপক পরিবর্তন, কোন লিখিত প্রশ্ন থাকবে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন এদেশের লাখো শিক্ষার্থীকে উদ্যমী আর পরিশ্রমী করে তোলে।  সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে তারা দিন রাত এক করে পড়ার টেবিলে বসে থাকে। সেই স্বপ্ন পূরণে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে ভর্তি পরীক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি পরীক্ষা। যার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতিও। প্রতিবছরই বহু শিক্ষার্থী সিলেবাস খুব ভালোভাবে আয়ত্ত করা সত্ত্বেও পরীক্ষার হলে গিয়ে মানসিকভাবে ভীত হয়ে পড়ে। যার ফলে সে তার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায় না। এর আরেকটি কারণ পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা। যে কারণে প্রথম ভর্তি পরীক্ষা খারাপ করে অনেকেই পরবর্তী ভর্তি পরীক্ষায় বেশ ভালো সাফল্য অর্জন করে। এতে করে সে তার কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করতে না পারলেও অন্য যে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে নিতে পারতো। কিন্তু আসন্ন শিক্ষাবর্ষে সে সুযোগ থাকছে না।

একটিমাত্র ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবং সেটি পরীক্ষার্থীর জীবনের প্রথম ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়ছে অনেকেই। কেননা পূর্ব অভিজ্ঞতার অভাব,মানসিক ভীতি বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে কেউ পরীক্ষায় খারাপ করলে বা অংশগ্রহণ করতে না পারলে তার স্বপ্ন পূরণে ব্যাঘাত ঘটবে। যদিও একক ভর্তি পরীক্ষার অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাদে বাকি ৫৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা থাকবে। কিন্তু এতেও স্বস্তি পাচ্ছে না ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।  কেননা প্রথমবার অকৃতকার্য হলে স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হাতছাড়া হয়ে যাবে। আবার সেকেন্ড টাইমে পরীক্ষা দিতে গেলে একবছর পিছিয়ে পড়তে হবে। যেমনটা হতো না গতানুগতিক ভর্তি পরীক্ষায়। কারণ একাধিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় একটিতে অকৃতকার্য হলে অন্যগুলোতে কৃতকার্য হবার সুযোগ থাকতো। একক ভর্তি পরীক্ষায় কোন লিখিত অংশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশ্ন কঠিন হওয়ার শঙ্কাও দেখা গেছে। আবার এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক সমস্যারও সম্মুখীন হতে পারে শিক্ষার্থীরা। গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় ভর্তি ফরম পূরণ করার পর উত্তীর্ণ হয়ে আবারো পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে শিক্ষার্থীদের ফি দিতে হয়। এক্ষেত্রে যতটি পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবে ততটির জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। আবার আসন ফাঁকা হওয়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যত্র কিংবা এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে মাইগ্রেশন করতেও বেশ অর্থের প্রয়োজন। এদিক বিবেচনায় নিয়েও চিন্তার ভাজ পড়ছে পরীক্ষার্থীদের কপালে। তবে এতসব চিন্তা,উদ্বেগ আর শঙ্কার মাঝেও যে সম্ভাবনা আছে একক ভর্তি পরীক্ষায় তা অগ্রাহ্য করা যায় না।  কেননা আর শঙ্কার মাঝেও যে সম্ভাবনা আছে একক ভর্তি পরীক্ষায় তা অগ্রাহ্য করা যায় না।  কেননা একক ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রমে সময়ের অপচয় ও শিক্ষার্থীদের হয়রানি দূরীভূত হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা দেয়ার খরচ ও ভোগান্তি থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।

এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচিত হবে একক ভর্তি পরীক্ষার সুফল ও প্রক্রিয়াদি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিস্তারিতভাবে ব্যাখা করা। যাতে করে তাদের মধ্যকার উদ্বেগ ও ভীতি দূর হয়। তাছাড়াও পরীক্ষার মানবণ্টন,আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সূচীও যথাসময়ে প্রকাশ করতে হবে। যাতে করে পরীক্ষার্থীরা যথাযথ ও পরিপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করে লালিত স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হয়।

সাইদুর রহমান শাহিদ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial