ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

আত্মহত্যা প্রতিরোধের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

জোবাইদুল ইসলাম
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ৪:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। কেন শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার দিকে ঝুকছে? কিভাবে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা যায়? সে বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীর মতামত সংগ্রহ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী জোবাইদুল ইসলাম
মানসিক চাপই তরুণদের আত্মহত্যার মূল কারণ 
বর্তমানে তরুণ সমাজের মধ্যে সবচেয়ে আলোড়নের বিষয় হলো আত্মহত্যা। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার খবর এখন প্রায়ই সংবাদপত্রের শিরোনামে। তরুণ সমাজে হতাশা নামক ব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই হতাশা সৃষ্টি হয় পারিবারিক টানাপোড়ন, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, প্রেমে অসফলতা, মাদকাসক্তি,  নৈতিক ও ধর্মীয় অবক্ষয়, র‍্যাগিং বা সম্মানহানির মত বিষয়গুলো থেকে। তাদের এই মানসিক কষ্ট বা চাপ তাদের ছন্দপতনের মূল কারণ। জীবনে দুঃখ বা হতাশাকে জয় করেও যে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা যায় এই চেতনাবোধ তরুণদের মাঝে জাগ্রত করতে পারলে আমরা আত্মহত্যার এই ঊর্ধ্বগতি হ্রাস করতে সক্ষম হবো। ‘এখন যৌবন যার/ যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার’ -এই কাব্যাংশের মাধ্যমে কবি হেলাল হাফিজ বুঝাতে চেয়েছেন তারুণ্য হলো প্রতিকূলতা জয়ের সময়; প্রতিকূলতায় থমকে যাওয়ার নয়। আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা, জীবনবোধের শিক্ষা, নিজের প্রতি ভালোবাসা, সুন্দর পরিবেশ ও চিত্তবিনোদনের সহজলভ্যতা, আত্মবিশ্বাস অর্জনে কাউন্সিলিং। এসমস্ত কিছু নিশ্চিত করা হলেই তরুণ সমাজকে হতাশার ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির মত পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে।
আনিকা তাবাসসুম
শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
মানুষের একাকিত্ব দূর করার চেষ্টা করতে হবে
একজন শিক্ষার্থী দেশের সম্পদ এবং পরিবার ও সমাজের স্বপ্ন, আশা ও ভরসা। সে তার  স্বপ্ন, পরিবারের আশা ও স্বপ্ন এবং দেশের আগামীর সম্ভাবনা হিসেবেই শুরু করে তার পথচলা। কিন্তু পথচলা শুরুর এক পর্যায়ে বা সফলতা ও স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে থেমে যায় অনেকের এই পথচলা। নিজের সব দায়িত্ব ও স্বপ্ন ভুলে সে নিজেই থামিয়ে দেয় তার জীবনের গতি। বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। বর্তমানে অত্যন্ত আলোচিত একটি বিষয় হলো শিক্ষার্থীদের এই আত্মহত্যা।
শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে অস্বাভাবিক হারে। আঁচল ফাউন্ডেশন এর প্রতিবেদন অনুসারে গত আট মাসে সারাদেশে আত্মহত্যা করেছে ৩৬১ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে অন্যতম একটি কারণ হলো সম্পর্কের অবনতি। প্রতি চারজনে একজন এ কারণেই আত্মহত্যা করছে বলে সম্প্রতি করা একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। এছাড়াও রয়েছে পারিবারিক জটিলতা, পড়াশোনা নিয়ে হতাশা, আর্থিক সংকট, মানসিক যন্ত্রণা, মাদকাসক্তি ইত্যাদি। তাই আত্মহত্যা রোধে আমাদের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক, পরিবারের সদস্য ও সিনিয়রদেরকে শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে হবে। তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় ও দিকনির্দেশনা ও মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে; যাতে করে যে কোন ধরনের মানসিক হতাশা ও সমস্যায় তারা আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্তে না যায়। সর্বোপরি আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে আত্মহত্যার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
মো. আব্দুর রহিম
শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সুন্দর পৃথিবীটাকে উপভোগ করতে শিখি
গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাবি থেকে ঝরে গেলো আরো একটি প্রাণ। কাজী ফিরোজ নামের ভাইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের ছাত্র ছিলেন। পাশের বিজয় একাত্তর হল থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন। এভাবে প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। এ নিয়ে নানা লেখালেখি, সংবাদ, আলোচনা-সমালোচনা হয়েই যাচ্ছে কিন্তু আত্মহত্যার সংখ্যা কমছে না। মূলত শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে আর্থিক সংকট, মানসিক যন্ত্রণা, সম্পর্কের টানাপোড়নসহ নানা কারণ বিদ্যমান।
ক্রমাগত ঝরে যাওয়া এই আত্মহত্যার মিছিল আমাদের বন্ধ করতে হবে। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আত্মহত্যা বন্ধে প্রথমেই আমাদের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। তাছাড়া আমাদের মূল্যবোধের পরিবর্তনও জরুরি, কারণ আত্মহত্যার পর শুধু মানুষটার জীবন শেষ হয়ে যায় না, শেষ হয়ে যায় তাঁকে ঘিরে থাকা তাঁর পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে, হলে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করে সেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের এবং মানসপটের যত্নের ব্যবস্থা করতে হবে। জটিল সমাজ ব্যবস্থাটাকে আরোও সহজ করে তুলতে হবে। যখন শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে ভারসাম্য আসবে ঠিক তখনি আত্মহত্যার ঝোঁক কমে আসবে। সেই ভারসাম্য আনয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভূমিকা রাখতে হবে। আসুন, আমাদের মানসিক যন্ত্রণা কাছের মানুষদের সাথে ভাগাভাগি করি, সমাধান করি, সাহস জোগাই, মনের যত্ন নিই, আত্মহত্যাকে না বলি এবং এই সুন্দর পৃথিবীটাকে উপভোগ করতে শিখি।
আল আমিন
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নিজের জন্য হলেও বেঁচে থাকা উচিত

এ পৃথিবীতে মানুষের জন্ম হয়েছে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে। কিন্তু তাই কি সত্য? এর পূর্বে কী কিছু নেই? যখন মানুষ জন্ম নেয় তখন তার সাথে জন্ম নেয় হাজারো স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে ঘিরে থাকে অজস্র ইচ্ছা। কিন্তু তা হারিয়ে যায় একটি আত্মহত্যার কারণে। একজন মানুষ আত্মহত্যা কেন করে? তা নিয়ে তো বিজ্ঞান এবং বিশ্লেষকরা অনেক কথা বলে থাকেন। কিন্তু আমরা কি কখনো চিন্তা করি কেন সে বেঁচে থাকার শক্তি হারিয়ে ফেলে? কেনই বা সে আত্মহত্যার পথকে বেছে নেয়? যে আত্মহত্যা কে বেছে নেয় তার কাছে কি জীবনের মূল্য নেই? আছে। তবে সে তা হারিয়ে ফেলে কিছু কিছু মানুষ বা সমাজের কারণে।
জীবন শব্দটা খুবই ছোট,কিন্তু তার মধ্যে লুকিয়ে আছে এক বিস্তৃত সম্ভবনা। যখন মনে হবে যে আমার আর বাঁচার অধিকার নেই তখন নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত আসলেই কি আমার অস্তিত্বের প্রয়োজন এই পৃথিবীতে নেই? নাকি সহনশীলতার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে নেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। অস্কার ওয়াইল্ড বলেন – “আত্মহত্যা কখনো ব্যাথার অবসান ঘটায় না বরং এটি তা অন্য কারোর উপর চাপিয়ে দেয়।”
তাই এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা উচিত। শুধু অন্যের জন্য নয় বরং শুধু নিজের জন্য হলেও বেঁচে থাকা উচিত। যখন নিজের ছোট ছোট সফলতায় এগিয়ে যাবে, তখনই হয়তো আবার বাঁচার আশার আলো জাগবে। তাই নিজের তুচ্ছ ইচ্ছার জন্য হলেও বেঁচে থাকা উচিত।
মুহাম্মদ আবু সাঈদ আকিব
শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial