ঢাকাশনিবার , ২১ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

শুভ শারদীয়া 

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২১, ২০২৩ ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলায় একটি লোকগান প্রচলিত আছে,
” শিবের সঙ্গে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী।
আশ্বিন মাসে বাপের বাড়ি আসেন ভগবতী। “
এবছর ভগবতীর আগমন আশ্বিনে না হলেও, হয়েছে কার্তিকের শিশির ভেজা সকালে। ঢাকের বাদ্যি মায়ের আগমনী সংবাদ দিচ্ছে। বাঙালি সনাতনী সমাজে দূর্গাপুজা এক আবেগ ও ভালোবাসার নাম। কিন্তু আমরা কি জানি এই পূজার সঠিক ইতিহাস?  না, জানি না।  তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক, কি ইতিহাস এই পুজার।
সত্য যুগে চন্দ্র বংশীয় রাজা সুরথ রাজ্য হারিয়ে পথে পথে ঘুরছিলেন, তখন তার সাথে পরিচয় ঘটে সমাধী নামে এক ব্যবসায়ীর, যে সংসারের যাতাকলে পৃষ্ঠ হয়ে যাযাবর বৃত্তি বেছে নেন। তাদের দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয় এবং এক সময় তারা সুখের খোঁজে মেধস মুনির আশ্রমে যান৷ মহর্ষি মেধস তাদের মার্কণ্ডেয় পুরাণ থেকে দেবী মহামায়ার আখ্যান শুনিয়ে তাদের দূর্গার পুজা করতে উৎসাহিত করেন। তখন বসন্ত কাল ছিল। ওইসময় তারা দূর্গা পুজা করে তাদের হারানো সম্পত্তি ফিরে পান।
কৃত্তিবাস বিরচিত রামায়ণ থেকে জানা যায় রামচন্দ্র রাবণ বধের জন্য আশ্বিন মাসে  দেবী দূর্গার পুজা করেন। আসলে আশ্বিন মাস যেকোনো শুভ কাজ বা পুজার জন্য অনুপযোগী ছিল, কারণ এই মাসে দেবতারা নিদ্রতে যেতেন।  কিন্তু রাম ব্রহ্মার আদেশে দেবী ঘট আশ্বিন মাসে প্রতিষ্ঠা করে পুজা দেন৷ তাই এ পুজা অকাল বোধন নামে পরিচিত। শরৎকালে এই পুজা হয় বলে, এই পুজাকে শারদীয়া দুর্গা পুজা বলে। এবং বসন্তকালীন দূর্গোৎসব  বাসন্তী দূর্গাপুজা নামে খ্যাত।
তবে আধুনিক দূর্গা পুজার প্রচলন ঘটে এই বাংলার মাটিতেই। তখন ছিল মুঘল আমল৷ মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামল। তখন সুবাহ বাংলার দেওয়ান ছিলেন সুনামগঞ্জ তথা রাজশাহীর মহারাজা কংসনারায়ণ রায়বাহাদুর। তাঁর রাজধানী ছিল তাহিরপুর। শেষ বয়সে তিনি চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে ধর্মচর্চায় মননিবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই জন্য তিনি তৎকালীন সুনামগঞ্জের সকল পণ্ডিত ব্রাহ্মণদের তাঁর সভাতে আমন্ত্রণ জানান। তিনি ওই সভাতে কোনো বৃহৎ যজ্ঞ করার কথা প্রস্তাব করেন। তখন কুলপুরোহিত পণ্ডিত রমেশ শাস্ত্রি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ” হে রাজন, বিশ্বজিৎ, রাজসূয়, অশ্বমেধ ও গোমেধ, এই ৪ টি শাস্ত্রে বর্ণিত মহাযজ্ঞ। এর প্রথম ২ টি কলিতে নিষিদ্ধ আর পরের ২টি কেবল স্বাধীন রাজারায় করতে পারেন। তাই তোমার জন্য দূর্গোৎসবই উত্তম ধর্মীয় আচার।এ পুজাতে ৪ যজ্ঞের ফল লাভ হয়।” তখন রাজা রমেশ শাস্ত্রীর কথা মতো তৎকালীন ৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করে এই পুজার আরম্ভ করেন। পরবর্তীতে নবদ্বীপের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় দেবী বিগ্রহে মহামায়ার শক্তি স্বরুপ দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে যুক্ত করেন। অনেকেই দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে দূর্গার মেয়ে ভাবলেও, সে ধারণা ভূল।
এবার আসি দেবীর বাহন সম্পর্কিত তথ্যে। আমরা শুনি যে, প্রতি বছর দেবী কোনো না কোনো বাহনে আসেন, কখনো নৌকায়, কখনো ঘোড়ায়। কিন্তু কেন?  দেবীর বাহন তো সিংহ, তাহলপ ওসবে কেন আসতে যাবেন দেবী?  আসলে এইটা একটি কল্পনা মাত্র৷ এর পিছনেও রয়েছে চমৎকার এক কাহিনী । পুরাকালে দূর্গোৎসবের সময় হলেই নানারকম ঝড়, মহামারী বা হানাহানির দেখা দিত। এইটা নিতান্তই প্রাকৃতিক ঘটনা। কারণ প্রতি বছর এমন হতো না, অনেক বছর শস্য খুব ভালো উৎপাদিত হতো। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ সম্পর্কে যাতে আগে থেকে সতর্ক হওয়া যায়, এজন্য তৎকালীন আবহাওয়াবিদরা একটি সূত্রের অবতারণা করলেন, যা দেবীর আগমব ও গমনের বাহনের ওপর নির্ভর করে। সূত্র জানলে আপনিও বলে দিতে পারবেন যে, দেবী কোন বছর কোন বাহনে আসবেন ও যাবেন। সাধারণত, এটি ঠিক করা হয় সপ্তমী ও দশমী কি বারে পড়ছে, তার ওপর ভিত্তি করে। সূত্রটি হলো –
“রবৌ চন্দ্রে গজারূঢ়া “- সপ্তমী রবি বা সোমবার পড়লে দেবী গজে আসবেন, আর দশমী রবি বা সোম বার পড়লে দেবী গজে যাবেন। গজে আগমন মঙ্গলজনক লক্ষণ৷ এতে শস্য ভালো হয়। সুখ সমৃদ্ধি বাড়ে।
“ঘোটকে শনি ভৌময়ো “- শনি বা মঙ্গলবার সপ্তমী পড়লে, দেবী আসবেন ঘোটকে(ঘোড়া) আর দশমী পড়লে দেবী যাবেন ঘোড়ায়। ঘোড়ায় আসা খুবই অশুভ। এটি রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, মহামারী, যুদ্ধের সংকেত।
” গুরৌ শুক্রে চ দোলায়াং ” – গুরুবার( বৃহস্পতিবার)  ও শুক্রবার সপ্তমী পড়লে দেবী আসবেন দোলায়, আর দশমী পড়লে, দেবী যাবেন দোলায়। ফলস্বরূপ বহুমৃত্যু, দুর্ভিক্ষ।
“নৌকায়াং বুধবাসরে “- বুধবারে সপ্তমী পড়লে দেবী আসবেন নৌকায়, এবং দশমী পড়লে যাবেন নৌকায়। ফলস্বরূপ বন্যা।
এক বাহনে যদি দেবীর আগমন ও গমন হয় তাহলে তা খুবই অশুভ। এবছর দেবীর আগমন ও গমন উভয়েই ঘোটকে হবে, যা খুবই অশুভ ইঙ্গিত। মা আমাদের সকল জাতিকে রক্ষা করুন,  এই কামনা করি।
অংকন বিশ্বাস
১ম বর্ষ (২০২২-২০২৩)
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ফোন নম্বর -০১৭৩৯৭৬৫৫৭৮
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial