ঢাকাশনিবার , ২১ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

মুসলমানদের দ্বিতীয় কাবা

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২১, ২০২৩ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম যা সৌদি আরবের হেজাজ অঞ্চলে মক্কার পবিত্র মসজিদ (আল-মসজিদ আল- হারাম) এর কেন্দ্রে একটি ঘনক্ষেত্রের মতো ভবন। কাবা আরবি শব্দ যার অর্থ উঁচু স্থান। এর আভিধানিক অর্থ কালো পাথর। পানিসর্বস্ব এ পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি হয়েছে কাবা কে কেন্দ্র করেই। এটি পৃথিবীর সর্বপ্রথম ও সুপ্রাচীন ঘর। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে -” নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর,যা মক্কা নগরীতে অবস্থিত।(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৯৬)। বর্তমানে যে কাবা শরীফ কে কেন্দ্র করে মুসলিমরা হজ্জ ও উমরাহ পালনকারীরা তাওয়াফ (প্রদক্ষিণ অনুষ্ঠান)করে তা মূলত দ্বিতীয় কাবা।‌ প্রথম কাবার মর্যাদা দেওয়া হয় জেরুজালেম এ অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ কে। ৬২৪ হিজরির রজব মাসে আল কিবলা আয়াত নাজিলের পর মুসলিম বিশ্বের কিবলা কাবা শরীফের দিকে পুনঃ নির্দেশিত হয়েছিল। কাবা পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে একটি চমৎকার থিসিস রয়েছে। “ইসকাতুল কুর্বাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবাতি লিমাক্কতিল মুকাররম ” অভিসন্দর্ভটি তৈরি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দিন আহমদ। যে থিসিসে তিনি প্রমাণ করেছেন – কাবাই পৃথিবীর মেরুদন্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত।(মাজাল্লাতুল বহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ:২/২৯২) কাবা ঘরের উচ্চতা ১৫ মিটার, দৈর্ঘ্য ১২ মিটার ও প্রস্থ ১০ মিটার।কাবার সঠিক অবস্থান ২১.৪২২৫°উ. থেকে ৩৯.৮২৬২°পূ.। প্রতিটি মুসলিম যারা মক্কা কেন্দ্রিক গোলার্ধে অবস্থিত (মক্কা থেকে প্রায় ১০,০০০ কি.মি. দূরে) তারা সঠিক সময়ে এই দিনগুলিতে সূর্য পর্যবেক্ষণ করে কিবলার দিক নির্ধারণ করতে পারে। সূর্যের দিকে ক্যাম্পাসের দিকটি তখন কিবলা দেয়। বর্তমানে কাবা শরীফে একটি মাত্র দরজা আছে কিন্তু কোনো জানালা নেই। কাবা ঘরের গিলাফের রং কখনোই কালো ছিল না। আব্বাসীয় খলিফাদের পরিবারের প্রিয় রং ছিল কালো। তাদের সময় থেকেই কাবাঘরে কালো গিলাফ পরানো হয়। এর আগে কাবাঘরে সবুজ, লাল, সাদা গিলাফ পরানো হতো। কাবার ভিতরে একটা সিন্ধুকে উন্নত মানের সুরভি। কাবাঘর মোছার জন্য কয়েকটি মখমল তোয়ালে রাখা আছে। বিভিন্ন যুগের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি মশাল ও পিদিম রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন রাজা-বাদশা পবিত্র কাবার জন্য উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।কাবার ভিতরে ডানপাশে একটি সোনার দরজা আছে। এই দরজার নাম ‘বাবুত তাওবা’। কাবার ছাদে ওঠার জন্য এটি দিয়ে কাবার সিঁড়ির দিকে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। দেওয়ালের ওপরের অংশে সাঁটানো সবুজ রেশমি কাপড় রয়েছে। তাতে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত স্বর্ণখচিত করে অঙ্কিত। কাবার ছাদবাহী তিনটি করে কাঠের স্তম্ভ ও বিম রয়েছে। কাবার মেঝে ও দেয়াল মার্বেল পাথর মোজাইককৃত। এছাড়াও মর্মর পাথরের তিনটি ফলক রয়েছে। একটি দরজার ডানপাশে পূর্ব দেয়ালে, দ্বিতীয়টি উওর পাশের দেয়ালে, তৃতীয়টি পশ্চিম পাশের দেয়ালে। কাবা শরীফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মাতাফ থেকে দেড় মিটার ( চার ফুট) উঁচুতে রয়েছে ‘হাজরে আসওয়াদ’ নামে কালো রঙের প্রাচীন পাথর। মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী এ পাথর আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) এর সময় বেহেশত থেকে পৃথিবীতে এসে পড়ে এবং তখন থেকেই পৃথিবীতে রয়েছে। প্রাক ইসলামিক পৌত্তলিক সমাজেও এ পাথরকে সম্মান করা হতো। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূল মুহাম্মদ (সঃ) ৬০৫ সনে এ পাথর কাবার দেয়ালে স্থাপন করেছিলেন। বর্তমানে এটি একটি রূপার ফ্রেমে আটকানো অবস্থায় কাবার সাথে সংযুক্ত রয়েছে।এর রং গাঢ় কালো এবং লক্ষাধিক হাজির স্পর্শের কারণে এটি মসৃণ আকার ধারণ করেছে। তাওয়াফ করার আগে হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়ার রীতি রীতি রয়েছে। ফ্রেমে মুখ ঢুকিয়ে হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করতে হয়।এর পাশে ২৪ ঘন্টা সৌদি পুলিশ থাকে। তারা খেয়াল রাখে ফ্রেমে মাথা ঢোকাতে বা চুম্বন করতে কারো যেন কষ্ট না হয়। তবে চুমু দেওয়া সম্ভব না হলে হাত ইশারা করে তাওয়াফ করা শুরু হয়। মুসলিমরা এটিকে উপাসনা করে না। মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সঃ) কাবা ঘরের চাবির দায়িত্ব বনি শায়বাহ গোত্রের ওসমান ইবনে তালহা (রঃ) এর কাছে হস্তান্তর করেন। বংশ পরম্পরায় তারাই এখনো কাবা ঘরের তালা চাবির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অনেকদিন ধরেই কাবা ঘরে বিশেষ ধরনের তালা চাবির ব্যবহার হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন পর পর পরিবর্তন করা এসব তালা চাবি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। এখনো পর্যন্ত কাবা ঘরে ৫৮ টি তালা চাবি নিবন্ধনের খবর পাওয়া গেছে। আগে কাবাঘরে সবার অবাধ প্রবেশের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে বিশেষ নিয়ম মেনে শুধু দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিয়ম মেনে কাবাঘরে প্রবেশ করতে পারে। বছরে দুইবার বিশেষ পানি দ্বারা কাবাঘর ধৌত করা হয়। কাবাঘর প্রথম গোসল দেন মহানবী (সঃ)। কাবাঘরে আলো প্রবেশের জন্য একটি কাঁচের ভেন্টিলেটর রয়েছে যা কাবাঘর ধোয়ার সময় খোলা হয়। কাবাঘরের ছাদ প্রথমে কুসাই নির্মাণ করে অতঃপর কুরাইশ। কাবাঘরে প্রথম মূর্তি স্থাপন করে আমর বিন্ লুহাই। কাবাঘরে প্রথম আযান দেন হযরত বেলাল বিন রাবাহ (রঃ)। এই কাবাঘরকেই আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থান হিসেবে কবুল করেছেন।

মীম খান
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

www.mimkhan30@gmail.com

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial