ঢাকাশনিবার , ২১ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বর্তমান সময়ে পরকীয়ার ভয়াবহতা ও সমাধানের পথ

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২১, ২০২৩ ৮:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

বর্তমান সময়ে এক মহামারির নাম পরকীয়া। বিবাহবহির্ভূত এমন অবৈধ সম্পর্কের কারণে সংসারে অশান্তি-ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণ প্রেমের গল্পের চেয়ে পরকীয়ার মধুমাখানো গল্প অনেক বেশি মুখরোচক ও অনেক বেশি আকর্ষণীয়। একই কারণে পরকীয়া সম্পর্কের প্রতি ঝোঁকটাও অনেকটাই বেশি। পরকীয়ার অন্তর্নিহিত কুশক্তি দুইটা পরিবার ও পরিবারের সদস্যদের কাটানো ধারাবাহিক জীবনকে লন্ড ভন্ড করে দেয়। একটা বাস্তব সত্য হলো পরকীয়ার মধু পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়া নারী পুরুষ ঠিকঠাকই উপভোগ করে যখন পরিবারের বিচ্ছেদ ঘটে তখনও তারা দুইজন ঠিকঠাকই থাকে কিন্তু এদের উভয় পরিবারের সন্তানসন্ততিদের সৃষ্টি হয় মানবেতর অবস্থা।
একজন সন্তান সে বালেগ হোক অথবা নাবালক হোক অবশ্যই তাকে চিন্তামুক্ত পরিবেশ উপহার দেওয়া সকল মা বাবার কর্তব্য কিন্তু পরকীয়া এই চিন্তামুক্ত পরিবেশের বিপরীতে উপহার দেয় বিষমাখা পরিবেশ। এই পরকীয়া হাজার হাজার পরিবারের বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছে দক্ষভাবে, ফলে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার তরুণ শিক্ষার্থী ও হাজার হাজার কচি সন্তানের জীবন এবং লক্ষ্য।
পরকীয়ার পথে বাধা হওয়ায় নিজ সন্তানকেও নির্মমভাবে হত্যা করছে মমতাময়ী মা। পত্রিকার পাতা খুলতেই চোখে পড়ে এমন খবর। কারণ আজ আমাদের কাছে পরকীয়াটা জিতে যাচ্ছে যা খুবই ভয়াবহ। আজ আমি কখন যে পরকীয়ার বিষমাখানো লোভনীয় তীরে ক্ষত বিক্ষত হবো অথবা আমার দ্বারা যে কখন কে দংশিত হবে এটা অজানা হয়ে পড়েছে।এ কাজের বিষফল মানবাজাতি কয়েক যুগ ধরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ্য করে আসছে।
ইসলাম হলো নীতি ও আদর্শের ধর্ম। ইসলামে পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্ক থেকে নারী-পুরুষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। সুন্দরভাবে আলোকপাত করা আছে যে কিভাবে এই অবস্থা থেকে বেঁচে থাকা যায়। ইসলামে নারীদের কথার আওয়াজকেও সতরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।অপ্রয়োজনে পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজনে কথা বলতে হলেও সুরা আহযাবের ৩২ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। যাতে নারীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোনো পুরুষ আকর্ষণবোধ না করেন।
শুধু নারীদেরই নয়, বরং সুরা নুরের ৩০ নম্বর আয়াতে প্রথমে আল্লাহ তায়ালা পুরুষদেরকে দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর ৩১ নম্বর আয়াতে মহিলাদেরকে তাদের দৃষ্টি সংযত রাখার পাশাপাশি তাদের গোপন শোভা অনাবৃত করতে নিষেধ করা হয়েছে। অপাত্রে সৌন্দর্য প্রদর্শনকে হারাম করে সবটুকু সৌন্দর্য স্বামীর জন্য নিবেদনে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কারণ, স্বামী তার স্ত্রীর সৌন্দর্যে মোহিত হলে সংসারের শান্তিই বাড়বে। পক্ষান্তরে স্ত্রীর সৌন্দর্য দিয়ে অন্যকে মোহিত করার পথ অবারিত করলে তা কেবল বিপদই ডেকে আনবে।
পুরুষ-মহিলা সবাইকে চরিত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘”তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হইও না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।’” (সুরা বনি ইসরাইল, ৩২)
ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে এক’শ ঘা করে বেত্রাঘাত কর।’ (সুরা নুর, ২)
হাদিস শরিফে ব্যভিচারের ভয়ানক শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মুসলমানগণ! তোমরা ব্যভিচার পরিত্যাগ কর। কেন না এর ছয়টি শাস্তি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দুনিয়াতে ও তিনটি আখেরাতে প্রকাশ পাবে। যে তিনটি শাস্তি দুনিয়াতে হয় তা হচ্ছে, তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য বিনষ্ট হয়ে যাবে, তার আয়ুষ্কাল সংকীর্ণ হয়ে যাবে এবং তার দারিদ্রতা চিরস্থায়ী হবে। আর যে তিনটি শাস্তি আখেরাতে প্রকাশ পাবে তা হচ্ছে, সে আল্লাহর অসন্তোষ, কঠিন হিসাব ও জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।’ (বায়হাকি, হাদিস নং: ৫৬৪)
সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী (অঙ্গ জিভ) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী (অঙ্গ গুপ্তাঙ্গ) সম্বন্ধে নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।
(সহিহ বুখারী :৬৪৭৪)
এসব ভয়াবহতা অবলোকন করেও আমরা পরকীয়ার পেছনে ছুটছি তাহলে কি এর কোন সমাধান নেই????
যদি এর থেকে বিরত থাকার উপায় উল্লেখ করি তাহলে বলতে হয়
(১.)স্বামীর সঙ্গে থাকা।
স্ত্রী যদি প্রবল আশঙ্কা করে যে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে না বা যেনা-ব্যভিচার ও পাপাচারে জড়িয়ে পড়বে; তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে স্বামীর কাছে তার এ দাবি করার অধিকার আছে যে-
★হয় সে (স্বামী) তাকে (স্ত্রীকে) সঙ্গে করে বিদেশে নিয়ে যাবে। অথবা
★স্বামী তাকে রেখে একাকী বিদেশ বা দূরের সফর থেকে বিরত থাকবে।
কারণ বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নিজের ইজ্জত-সম্ভ্রম হেফাজত করা এবং গোনাহের কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করা।
(২).আমল করা।
যাদের স্বামী দূরে থাকে তারা নিম্নোক্ত আমলগুলি করার চেষ্টা করা।যেমন:-
★ধৈর্যধারণ করবে,
★নিয়মিত নফল রোজা রাখবে; বিশেষ করে সোম ও বৃহস্পতিবার এবং আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের আইয়্যামে বিজের রোজা রাখা। এবং
★কুরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন, ইসলামিক জ্ঞানার্জন, সাংসারিক ও অন্যান্য উপকারী কাজকর্মসহ নিজেকে ইবাদত বন্দেগি ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করা।
(৩)স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা।
নিয়মিত স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে একে অপরের প্রতি সুসম্পর্ক ও ভালোবাসা অটুট রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখা।
(৪) নারীদের কোনোভাবেই সুগন্ধি ব্যবহার না করা। যা পুরুষদের আকর্ষণ করে।
(৬)গায়রে মাহরাম থেকে দূরে থাকা। সর্বোপরি মহান আল্লাহকে বেশি বেশি ভয় করা। যেনা-ব্যভিচার, পাপাচার ও পরকীয়ার জন্য দুনিয়ার শাস্তির পাশাপাশি পরকালের জাহান্নামের শাস্তির কথা অন্তরে জাগ্রত রাখা। স্ত্রী অথবা স্বামীর আবেগ ও ভালোবাসাপূর্ণ কথাগুলো বেশি বেশি স্মরণ করা এবং প্রিয় মানুষটি ও নিজের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
বিবাহিত ও অবিবাহিত সব মুমিন-মুমিনা পুরুষ-নারীদের উচিত কুরআন সুন্নাহ নির্দেশিত শৃঙ্খলিত জীবন যাপন করা। আল্লাহর সাহায্য কামনা।

মো. আব্দুল ওহাব
শিক্ষার্থী আরবী বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সদস্য বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম
ঢাকা বিশ্ব

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial