ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

প্রকৃত মুমিন কখনো “আত্মহত্যা” করতে পারে না

মোঃ শাফেয়ী শ্রাবন
অক্টোবর ১৯, ২০২৩ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রকৃত মুমিন কখনো “আত্মহত্যা” করতে পারে না।কারণ এ জীবনটা তার নয়,এটা আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে দেওয়া ” আমানত “। এ হাত,পা,মাথা,পুরো দেহের সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত।কাল হাশরের ময়দানে এগুলোর জবাবদিহি নেওয়া হবে।যদি হাত পা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা তা করা না হয়, যা আল্লাহ পছন্দ করেন,তবে এসব তারই বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে।

আল্লাহ বলেন,

يَّوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ اَلْسِنَتُهُمْ وَاَيْدِيْهِمْ وَاَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ

যেদিন তাদের জিহবাগুলো, তাদের হাতগুলো ও তাদের পাগুলো তারা যা করত, সে ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।(সূরা আন-নূর,আয়াত:২৪)

আবার সে যদি এগুলোর সঠিক ব্যবহার করে তবেই তাকে জান্নাতে নিজের শরীরের মালিক বানিয়ে দেওয়া হবে।

তাছাড়া, মুমিন কিভাব” আত্মহত্যা ” করবে যেখানে তার রব্ব তাঁকে এটা করতে নিষেধ করছেন!আল্লাহ বলেন-

….আর তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু।(সূরা আন-নিসা,আয়াত২৯)

এমনকি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স) আত্মহত্যার কঠোর তিরস্কার ও শাস্তির কথা বর্ণনা করেছেন:

عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ ذَكْوَانَ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ تَرَد‘ى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَه“ فَهُوَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ يَتَرَدّ‘ى فِيهِ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ تَحَسّٰى سُمًّا فَقَتَلَ نَفْسَه“ فَسُمُّه“ فِي يَدِه„ يَتَحَسَّاه“ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَه“ بِحَدِيدَةٍ فَحَدِيدَتُه“ فِي يَدِه„ يَجَأُ بِهَا فِي بَطْنِه„ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا.

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরকাল সে জাহান্নামের ভিতর ঐভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে লোক বিষপানে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে। যে লোক লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনের ভিতর সে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।[১৩৬৫; মুসলিম ১/৪৭, হাঃ ১০৯, আহমাদ ১০৩৪১০] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৫০)
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৭৭৮

حَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، – وَهُوَ ابْنُ هِشَامٍ – قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ لَيْسَ عَلَى رَجُلٍ نَذْرٌ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ وَلَعْنُ الْمُؤْمِنِ كَقَتْلِهِ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَىْءٍ فِي الدُّنْيَا عُذِّبَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنِ ادَّعَى دَعْوَى كَاذِبَةً لِيَتَكَثَّرَ بِهَا لَمْ يَزِدْهُ اللَّهُ إِلاَّ قِلَّةً وَمَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينِ صَبْرٍ فَاجِرَةٍ ‏”‏ ‏.‏

সাবিত ইবনু যাহ্‌হাক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সে বস্তুর মানৎ কার্যকরী নয়, যার মালিক সে নয়। মু’মিনকে অভিশাপ করা তাকে হত্যা করার সমান। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করবে কিয়ামাত দিবসে উক্ত বস্তু দ্বারা তাকে শাস্তি দেয়া হবে। যে ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধির জন্য মিথ্যা দাবী করে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য স্বল্পতাই বৃদ্ধি করবেন। আর যে ব্যক্তি বিচারকের সামনে দৃঢ়তার সাথে মিথ্যা শপথ করবে (তাঁর অবস্থাও মিথ্যা দাবীদারের অনুরূপ হবে)। (ই.ফা. ২০৪; ই.সে. ২১১)

অর্থাৎ যে যেভাবে আত্মহত্যা করেছে তাকে সেভাবেই আজাব দেওয়া হবে।

আরেক হাদিসে তো রাসূল আত্মহত্যাকারীর জানাজাই পড়েননি!

حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ سَلاَّمٍ الْكُوفِيُّ، أَخْبَرَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ قَتَلَ نَفْسَهُ بِمَشَاقِصَ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ ‏.‏

জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জনৈক ব্যাক্তির লাশ উপস্থিত করা হল। সে চেপ্টা তীরের আঘাতে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযার সলাত আদায় করেননি। (ই.ফা. ২১৩১, ই.সে. ২১৩৪)

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২১৫২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com

.

তাছাড়া মুমিন কেন ডিপ্রেসড হবে যেখানে সে জানে সুখ-দুঃখ আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে!আর এ দুঃখের সাথেই তো স্বস্তি আছে!

আল্লাহ বলেন,
Ash-Sharh ৯৪:৬
اِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ؕ

নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে সুখ।

.

আর মুমিন বান্দা জানে,আল্লাহ পরীক্ষা করেন, যার মাধ্যমে তার সম্মান বৃদ্ধি পাবে,সে জান্নাতের উচ্চতর স্থানে পৌঁছাবে অথবা এ সাময়িক কষ্টের ফলে আল্লাহ তা’য়ালা তার গুনাহ মাফ করবেন।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স) মুমিনের এ উভয় অবস্থাতেই মুমিনের কল্যাণ দেখে আশ্চর্য হন!

وعن أبي يحيى صهيب بن سنان رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ “‏عجبا لأمر المؤمن إن أمره كله له خير، وليس ذلك لأحد إلا للمؤمن ‏:‏ إن أصابته سراء شكر فكان خيراً له، وإن أصابته ضراء صبر فكان خيراً له‏”‏ ‏(‏‏‏رواه مسلم‏‏‏)‏‏.‏

আবূ ইয়াহয়া সুহাইব ইবনু সিনান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মুমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক । তার প্রতিটি কাজে তার জন্য মঙ্গল রয়েছে। এটা মু’মিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। সুতরাং তার সুখ এলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। ফলে এটা তার জন্য মঙ্গলময় হয়। আর দুঃখ পৌঁছলে সে ধৈর্য ধারণ করে। ফলে এটাও তার জন্য মঙ্গলময় হয়।’’
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ২৮

অর্থাৎ সুখ আর দুঃখ দুটোই তার জন্য কল্যাণকর!তবে কেন সে আশাহত হবে!কেন সে নিজেকে কষ্ট দিবে।তার মূল লক্ষ্য তো দুনিয়া নয়,মূল লক্ষ্য তো আখিরাত ” জান্নাত”!সে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জান্নাতের জন্য কাজ করে যাবে।

আমাদের ক্যারিয়ারটাও হবে আখিরাতমুখী।সে সম্পদ আহরণ করবে আল্লাহর জন্য।সম্পদ উপার্জন মানেই দুনিয়াপ্রেমী না বরং সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত মুহাব্বত দুনিয়াসক্তি।

ইমাম গাজ্জালির অনুসন্ধান,দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত বুঝার উপায়:
পয়সা আসলো গেলো কোনো অনুভূতি নেই,ভালো লাগা খারাপ লাগা কাজ করে না
কেউ প্রশংসা করলেও ভালো লাগে বা,নিন্দা করলেও খারাপ লাগে না

-এগুলো যদি থাকে আর বিলিয়ন ডলারেরো মালিক হও তবুই তুমি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত।

আলী রা, বলেন,কেউ যদি দুনিয়াকে ত্যাগ করে কিন্তু তা আল্লাহর জন্য না তাহলে সে দুনিয়াদার আর কেউ যদি পুরো দুনিয়াকেও আল্লাহর জন্য গ্রহন করে নেও তবুও সে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত।

মুমিন ব্যক্তির কাছে সম্পদ থাকা খারাপ কিছু নয়!সে তো তা দীনের খেদমতেই তা ব্যয় করবে।

ভুলে গেলে চলবে না,আমাদেরকে পাঠানোই হয়েছে আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দীনের খেদমত করতে!

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial