ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

উপলব্ধিতে শিরে সংক্রান্তি

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ১৯, ২০২৩ ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 

এই যে জোড়া কিশোর হেঁটে যায় তাদের পথের ইতি টানবে কয়েক ক্রোশ অতিক্রম করলেই, এদের কী কেউ সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে পথরেখা, কেমন হত যদি এরা বাঁচতে জানত? যদি এদের মাথায় ফিরবার কোনো আশংকা নাই থাকত? কেমন হত?
তিন চাকার বাহনে অর্থে যে সুখ কিনে গা বাতাসে ভাসাইয়া ছুটে চলে, তাদের স্টপেজ কোথায় গিয়ে শেষ হয়? কোনো জনাকীর্ণ ক্যাম্পের কাছে? নাকি কোনো গৌরস্থানের পাশে? আমারে একবার বুঝায়া দেন না খালি কী আমিই উদ্দেশ্যেহীন পথিক? যে কিনা সুরের ইন্দ্রজালে বসে ও ছাইড়া গেছে সামুদ্রিক ঝড়, যে কিনা পৌঁছায়া গেছে মরুঝড়ের মাঝে? আমি হয়ত উপেক্ষা করেছি স্বাদ, আহ্লাদ এই সব কিছুই।
এম্বুলেন্স সাইরেন বাজিয়ে যে নিথর দেহ লইয়া যায় সেই দেহ নিয়া যাইতে ও কী সবাই কে সাইরেন বাজিয়ে জানানোর প্রয়োজন আছে? একটু জায়গা দেন লাশের গাড়ি বলে কথা, শরীরে পচন ধরবে একটু আগেই যদি না যাইতে পারি শ্মশানে, জায়গা নাই এই পৃথিবীতে তার, যে কিনা চলে গেছে মেঘের স্তরে, তার লাইগা এত রোনাজারি’র ও বা কী আছে? তারে কী যাপন করে নাই এরা অন্তরের অন্তঃস্থলে? যে যাইবার চায় তারে যাইতে দেওয়াটাই কী উত্তম না? কেন এত বাঁধাধরা?
শহরের কাক রে ও আমার মনে লাগে। সবকিছুই ভাল্লাগে তবু আমি ইস্টিশন এ দাঁড়াইয়া থাকি, অপেক্ষা করি প্লার্টফর্মে, শেষ ট্রেন কী আমারে গ্রহণ করবে? আমাকে ছেড়ে যেতে দিবে কী এইসব থেকে? আঁখি ফেলে রাখি লন্ঠন এ, সময় কী হয়েছে, যে বাহন আমারে নিয়ে যাবে পাহাড়ের পাদদেশে, তারপর যদি পাহাড়ি কোনো বুন্যমেয়ে কে ধরে এনে তাকে সভ্য করবার ইচ্ছে পোষণ করলেই তো আমি খুনিদের তালিকায় পড়ব।
যার যেইখানে থাকবার কথা তারে সেখানেই থাকতে না দিলে, কেন তারে তাল মিলাতে হবে এক যান্ত্রিক কোলাহলে, যে বা যাদের কারণে অকারণে ঘটে এইসব রীতিনীতি, পরিবর্তন, তারা কী সবাই খুনি নয়? আমি ও খুনি, নিজ ইচ্ছেকে যে হত্যা করে দিব্যি হেঁটে যাই তেপান্তরে। মনশ্চক্ষু তে সবই সুন্দর,তিক্ত সুন্দর। চলেন আমরা সাধুবাদ জানাই যারা টিকে আছে এইসব মেকি মায়ার মাঝে ও নিজেকে নিয়ে, আমরা একটু সহানুভূতি দেখাই যারা পথ চলা থামায় নাই এই সার্কাসের ভিতরে ও, দিন শেষে আমরা সবাই সঙ, আমরা সবাই হুদাই তর্ক লাগাই, এইসব আর কত? এইবার একটু ফুল স্টপ মারা যায় না?
এইসব ব্যাধি পিছন ছাড়েই না আমার,
ভীষন অসুখ এ রুপ নেয়।
মুহুর্তে ধ্বংসাবশেষে পরিনত হয় আমার খড়কুটোর বাসা, মানুষের চামড়ার দ্বারা তৈরি জুতাজোড়া ক্ষয়ে যায় পদচারণায়। ক্ষুদার্থ পেট, আর অন্তর জুড়ে সৃষ্টি হয় সামুদ্রিক ঝড়। পৃথিবীর আদিম দেবতারা ফন্দি আঁটে আমাকে পরাজিত করবার জন্য! যা প্রয়োজনীয় না ব্যক্ত করা। তবুও বলছি, “মানবসৃষ্ট পাগলকে পরাজয় করবার মাঝে কোনো আত্মিক শান্তি পাওয়া যাবে কী?”
আমার অস্তিত্ব বিদ্ধস্ত হয়ে নতিয়ে পড়ে প্রহরে প্রহরে,
অভিরুচি অনুযায়ী এইখানে আমার থাকার কথা না, দূর লাউয়াছড়া বনের মাঝে আঁখি তুলে দিয়ে গলাফাটা চিৎকার করে নিজের সুখের জানান দেওয়ার কথা,সুদুর বিস্তৃত বালুতীরে হামাগুড়ি দিয়ে অবসাদ কাটানোর কথা, রাজহংসের পিঠে চড়ে অক্ষরে ছেয়ে থাকা, অবহেলা অযত্নের ছায়ায় গড়ে উঠা পথশিশুর ন্যায় দশ,কুড়ি টাকায় সুখ বিক্রি করে বেড়ানোর কথা, তা সে যে আমি শুচিস্মিতার বুকে আঘাত হেনে মস্ত বড় শহরে সত্তা বিকিয়ে চলছি তা ও তো হবার কথা না।
ধূমপান দন্ডের ১০, ১২ টানে চা এর কাপের ৪-৫ জোড়া চুমুতে যে রহস্য উদঘাটন এর চেষ্টা চালিয়ে যাই, কোনোরকম দূরত্ব বজায় রেখে ও তো সে সব থেকে মুক্তি পাওয়া হয়ে উঠে না, শরীরের কাপুনি ধরলে ও যে পথচলা থেমে যাবে ঠিক তা ও না, জনবহুল শহরের নির্মমতা ও তথাকথিত কমিউনিস্ট পার্টির নেতার শব্দের দংশনে ধীরে ধীরে আমার, আপনার, আমাদের যে বিশ্বাসের ভাঙন ঘটে তা যেমন অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি মৃত্যুকে সাদরে গ্রহণ করবার অপেক্ষা ও ভুল প্রমাণিত হয় না।

মনিরুল আলম শাহেদ
ডিপার্টমেন্টঃ বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
যোগাযোগঃ 01824357752
ই-মেইলঃ monirulshahed539@gmail.com

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial