ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

আত্মহত‍্যা কোন সমাধান নয়

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ১৯, ২০২৩ ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 

” আত্মহত‍্যা কোন উত্তর নয় বরং জীবন নামক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালানোর অজুহাত মাত্র ” — আল গ্রিন।
বর্তমান সমাজে এক সামাজিক ব‍্যাধির নাম ‘আত্মহত্যা’। ‘আত্মহত‍্যা ‘ নিছক ব‍্যক্তিগত ঘটনা নয়, এটি একাধারে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস‍্যা। আত্মহত‍্যা বলতে কোন ব‍্যক্তির মানসিক অবস্থার সেই পরিণতিকে বোঝায়, যখন ব‍্যক্তি নিজের প্রাণকে নিজেই হরণ করে।

বর্তমানে আত্মহত্যার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করছে যা প্রতিবছর দাড়ায় ১০ লাখেরও বেশি । আত্মহত‍্যার শতকরা ৮০ ভাগ ঘটনা ঘটে উন্নত বিশ্বে। বিশ্বে যে কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটে তার মধ‍্যে আত্মহত‍্যা ত্রুয়োদশতম প্রধান কারণ। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সের নিচে, মানুষের মৃত‍্যুর প্রধান কারণ আত্মহত্যা। যার মধ‍্যে শিক্ষার্থীদের সংখ‍্যাই সিংহভাগ।

প্রতিকূল সময় ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব আত্মহত‍্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজ সব সময় শিক্ষা দিচ্ছে প্রতিযোগিতার। আর এই প্রতিযোগিতায় তাল মিলিয়ে চলতে না পারলেই একজন মানুষ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে।

আত্মহত্যার কারণ হিসেবে যে বিষয়গুলো লক্ষ‍্য করা যায় তার মধ‍্যে অন‍্যতম হলো হতাশা। বর্তমানে যুবসমাজের মাঝে এই হতাশার পরিমাণ দিন দান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক পর্যায়ে সে আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে আত্মহত‍্যার পথ বেছে নেয়। ব‍্যক্তিগত, সামাজিক ও পারিবারিক সমস‍্যাও আত্মহত‍্যার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে। দাম্পত‍্য কলহ, পরকীয়া, প্রেম, যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন, দারিদ্র্য, অপ্রাপ্তি, অর্থনৈতিক সমস‍্যা, মাদকাসক্তি ইত‍্যাদি কারণে বর্তমানে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। প্রেমে ব‍্যর্থতা বর্তমানে যুবকদের মাঝে আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এভাবেই প্রতিদিন শত শত মানুষ সামান্য কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। আবার বংশগত কারণে অর্থাৎ যে পরিবারে বা বংশে আত্মহত্যার ইতিহাস আছে সে বংশ বা পরিবারে নিকটাত্মীয়দের মধ‍্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি।

তাই এই ধ্বংসের হাত থেকে এদেশের মানুষকে বাঁচনোর জন‍্য আমাদের প্রত‍্যেকেরই এগিয়ে আসতে হবে। আত্মহত‍্যার চিন্তা মাথায় আসার সাথে সাথে প্রিয়জন, বাবা-মা বন্ধুবান্ধব বা কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বলা। যারা আত্মহত্যা করে তারা অনেক আগে থেকেই কিছু সংকেত দেয়। হয়তো আমরা সে বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে হাসি তামাশার ব‍্যাপার হিসেবে গ্রহণ করি। কিন্তু আমাদের এ রকম করা উচিত নয়। যখন আমরা কোন বন্ধু বা প্রতিবেশির মধ‍্যে কোন রকম আত্মহত্যার সংকেত লক্ষ‍্য করতে পারবো, সেই বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করবো। তাকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করবো। আত্মহত‍্যার বিভিন্ন সরঞ্জাম যেমন: কীটনাশক, আগ্নেয়াস্ত্র,নিদিষ্ট কোন ঔষধ ইত‍্যাদি হাতের কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে। আত্মহত্যাই কোন সমস‍্যার সমাধান হতে পারে না এই বিষয়টা তাকে ভালোভাবে বোঝাবো। যারা আত্মহত্যা করে তারা মনে করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তাদের কোন অধিকার নেই। নিজেকে অন‍্যের উপর বোঝা মনে করেন। তাই তাদেরকে এই পথ থেকে বের করে আনার জন‍্য সেই ব‍্যক্তিদের সাথে সর্বাত্বক কাউন্সেলিং করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সম্পর্কে কোন লেখা দেখলে তার সাথে অতি দ্রুত যোগাযোগের চেষ্টা করে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি আত্মহত‍্যার সংবাদ পরিবেশনের সময় গণমাধ্যমকে সব সময় অনুমোদিত নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। সামাজিক সাইট গুলোতে আত্মহত‍্যার সাথে সম্পর্কিত কোন বিষয়ে পোস্ট বা ছবি শেয়ার করার সময় অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যেন তা অন‍্যকে প্রভাবিত করতে না পারে। সভ্য সমাজে আত্মহত‍্যাকে একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও নিরুৎসাহিত করা যেতে পারে। আল কোরআনেও এ সম্পর্কে একটি আয়াতে বলা হয়েছে,”তোমরা নিজেদের হত‍্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে অন‍্যায় ভাবে তা (আত্মহত্যা ) করবে, তাকে আগুনে পোড়াবো, এটা আল্লাহ্ পক্ষে সহজ।” সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে জাতীয় স্বার্থেই আমাদেল মানসিক সু- স্বাস্থ্য অর্জনের লক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো নির্মাণ সহ প্রয়োজনীয় মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে হব। সরকারি ভাবেও বিভিন্ন উদ‍্যোগ গ্রহণ করতে হবে।যেমন :জরুরি সেবা চালু করার মাধ‍্যমে সরাসরি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বলে পরামর্শ গ্রহনের ব‍্যবস্থা করা যেতে পারে।সরকারি ভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলোতে আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রচরণা চালানো যেতে পারে । হতাশা গ্রস্থদের হতাশা কাটানোর জন‍্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ কর উচিত।

আত্মহত্যা কোন সমাধান নয় আর এই সমস‍্যা থেকে পরিত্রানের জন‍্য সর্বপ্রথম আমাদের সবার সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। যেকোন সমস‍্যা সমাধান করতে হবে দৃঢ় মনোবলের সাথে। এটি একটি প্রতিরোধ যোগ‍্য বিষয়। সঠিক সময়ে সঠিকভাবে সবাই এই সমস‍্যার প্রতিকার করার মাধ‍্যমেই গড়ে তুলতে পারি একটি সুস্থ সমাজ ও রাষ্ট্র।

ফাইয়াজ উদ্দিন স্মরণ
শিক্ষার্থী, গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
01857248485
mdsoron2002@gmail.com
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial