ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

যে কারনে বিশ্বকাপে থাকবেন সৌম্য, বাংলাদেশের সম্ভাব্য দল

জুবায়ের আহমেদ
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৩ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্ল্যানিংয়ে সৌম্য সরকার আছেন এটি বুঝা যায় সৌম্যকে ইমার্জিং এশিয়া কাপে খেলানো এবং ভারতের ভিসা করিয়ে রাখার মাধ্যমেই। তবে সৌম্যকে কেন বিশ্বকাপে দরকার, সেই বিষয়েই আলাপ করবো এই লেখায়।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যতীত প্রত্যেকটি দলেই পেস অলরাউন্ডার আছে। একজন পেস অলরাউন্ডার দলে থাকা মানে শুধুই দলের শোভা বর্ধন করে তেমন না। তিনি একাদশে থাকলে একাধারে তৃতীয় পেসারের অভাব পূরণ করতে পারেন এবং ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে পারেন। মূলত পেস অলরাউন্ডাররা এগিয়ে থাকে এক কারনেই।

বাংলাদেশ দলে ফরহাদ রেজা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বহু পেস অলরাউন্ডার এলেও কেউই থিতু হতে পারেননি। সর্বশেষে দলে নিয়মিত খেলা সাইফুদ্দিনও ইনজুরীর কারনে দলের বাহিরে। ফলে বাংলাদেশে নেই কোন পেস অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশ দল পাঁচ পেসার তথা তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও ইবাদাত হোসাইনকে নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে তা প্রায় নিশ্চিতই ছিলো, কিন্তু ইবাদাত হোসাইন ইনজুরীতে পড়ায় বিশ্বকাপে যাওয়া হচ্ছে না তাঁর। সৌম্য বিশ্বকাপে থাকার কারনগুলোর মধ্যে এটিও তাই অন্যতম কারণ হতে পারে। ৫ম পেসার হিসেবে বিশেষজ্ঞ নতুন কোন পেসারকে না নিয়ে পেস বোলিং জানা এবং পূর্বেও জাতীয় দলের হয়ে পেস বোলিং করা সৌম্যকে তাই ইবাদাতের পরিবর্তে দলে নিলে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও অবদান রাখার সুযোগ থাকবে সৌম্যের সামনে। আরেকটি কারণ হলো পেস অলরাউন্ডার লাগবেই বিশ্বকাপের জন্য। কারন বিশেষজ্ঞ ৩ পেসার ও ১ স্পিনার খেলাতে গেলে দলের ব্যাটিং গভীরতা কমে যাবে। এই কারনেও তৃতীয় পেসার হিসেবে সৌম্যকে খেলিয়ে ব্যাটিং গভীরতা বাড়ানো যাবে।

তাছাড়া সৌম্য অফফর্মে থাকলেও তার ব্যাটিং সামর্থ্য কারো অজানা নয়। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজে সৌম্যের সুযোগ পাওয়া প্রায় নিশ্চিতই। এখানে তুলনামূলক ভালো করলেই বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত হবে সৌম্যের। কাউকে বাদ দিয়ে সৌম্যকে নিতে হবে না, বিশ্বকাপের প্ল্যানিংয়ে থাকা ইবাদাত হোসেনের জায়গাতেই সৌম্যকে নিয়ে যাওয়া যাবে অনায়াসে। যেহেতু ৫ পেসারের মধ্যে ৩জন খেলবে একাদশে, সেহেতু সৌম্যকে নিলেই শুরু থেকেই খেলানোর চাপ থাকবে না, উইকেট বুঝে তাকে খেলানো যেতে পারে।

কথা উঠতে পারে, সৌম্যকেই কেনো নিতে হবে। এর উত্তর হলো এই মুহুর্তে সৌম্য ছাড়া কোন পেস অলরাউন্ডার প্রস্তুত নেই জাতীয় দলের জন্য। মৃত্যুঞ্জয়কে সুযোগ দিলেও সে নতুন এবং বড় মঞ্চে তাকে হুট করে নামিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। অপরদিকে সৌম্য অফফর্মে থাকলেও তার বোলিংটা এই সময়েও ভালো হচ্ছে এবং হাতুরুর প্রিয় ছাত্র হওয়ায় মানসিক ভাবেও ভালো অবস্থানে আছে সৌম্য। তাছাড়া বিশ্বকাপে সৌম্যের জ্বলে উঠার অতীত রেকর্ডও তার হয়ে কথা বলে।

আমার দৃষ্টিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দলে যারা থাকবে-
তামিম ইকবাল, লিটন দাস, নাজমুল শান্ত, সাকিব আল হাসান, তাওহীদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ।

উপরোক্ত ১৪ জনের সাথে ব্যাকাপ ওপেনার হিসেবে তানজিদ তামিম, নাইম শেখ ও বিজয়ের মধ্যে যেই ভালো করবে নিউজিল্যান্ড সিরিজে সেই ব্যাকাপ ওপেনার হিসেবে যাবে।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিশ্বকাপে যাওয়া প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়। কারন এশিয়া কাপে ব্যর্থ বাংলাদেশ, ব্যর্থ শামীম ও আফিফ। ফলে অভিজ্ঞ রিয়াদ আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজে একটি ভালো ইনিংস খেললেই তার বিশ্বকাপে যাওয়া কনফার্ম হবে।

আবার আসি সৌম্য প্রসঙ্গে, সৌম্যকে ওপেনিংয়ে কিংবা ৭ নাম্বার পজিশনে, দুটোর একটিতেও অন্যদেরকে বাদ দিয়ে নিতে হচ্ছে না। ইবাদাতের জায়গায় পেস অলরাউন্ডার হিসেবে সৌম্য যেতে পারছে, তাকে দরকারও। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজে সৌম্য পুরোপুরি ব্যর্থ হলে আফিফ অথবা শামীম থাকতে পারে বিশ্বকাপ দলে। তবে ইবাদাতের ইনজুরীতে পেস বোলিং এবং একজন পেস অলরাউন্ডার দলে না থাকা, এই দুটো কারন মিলিয়ে সৌম্য সরকারই বিশ্বকাপের দলে থাকার যোগ্য দাবীদার। আমার বিশ্বাস তেমনটাই হতে যাচ্ছে।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial