ঢাকাশনিবার , ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

যহন টেহা হাতে পাই, কষ্ট আর থাহে না

জুবায়ের আহমেদ
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৩ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

হালিম মিয়া চট্টগ্রাম শহরে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিন সন্তানের জনক হালিম মিয়া স্বপ্ন দেখেন সন্তানেরা লেখাপড়া করে অনেক বড় হয়ে বাবা মায়ের কষ্ট লাগব করবে। সেদিন আর সংসারে কোন অভাব থাকবে না।

রিক্সা চালিয়ে সামান্য আয়ে সংসার খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়া মিলিয়ে টানাপোড়নের মধ্যে থাকতে হয় হালিম মিয়াকে। হালিম মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম স্বামীর কষ্ট খেয়াল করে, তাকে কোন কাজে লাগিয়ে দিতে বললেও হালিম মিয়া রাজী হয় না। ঘরের বউ ঘরেই থাকবে, বলে হালিম মিয়া। যে সন্তানদের নিয়ে হালিম মিয়ার স্বপ্ন, সে সন্তানদের দেখভাল করবে স্ত্রী। মায়ের আদর শাসনে থাকলে সন্তানরা ভালো হয়, মা কাছে না থাকলে সন্তানরা পড়ায় মন বসাবে না, স্কুল ছাড়া অন্য সময়ে দুষ্টমিতে মেতে থাকবে, আবার কখনো কখনো মা বাবার অনুপস্থিতিতে মনমরা হয়ে থাকবে। বাবার অনুপস্থিতিতে মায়ের আদর শাসন ছাড়া সন্তানরা মানুষ হয় না, এমনটাই মনে করেন হালিম মিয়া।

হালিম মিয়া ভাড়ায় রিক্সা চালান। সারাদিনের জন্য মালিককে ১০০ টাকা দিতে হয়। এর বাহিরে যত ইনকাম হয় তা হালিম মিয়ার। প্রতিদিন মালিকের টাকা দিয়ে পাঁচ ছয়শত টাকা থাকে হালিম মিয়ার, কখনো কম বেশি হয়। এই রোজগার দিয়ে চলে তার সংসার। তবে কখনোই হতাশ হন না তিনি, দুই ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে হাসিখুশিতেই দিন পার করেন।

পাহাড়ী এলাকা চট্টগ্রাম শহরের রাস্তাগুলো উঁচু নিচু হওয়ার কারনে রিক্সা চালকদের বেশ কষ্ট করতে হয়। উপর থেকে নিচুতে নামা সহজ হলেও নিচ থেকে উপরের দিকে যাওয়ার সময় অনেক কষ্ট করতে হয়। কোন কোন যাত্রী মানবিক আচরণ করে। ড্রাইভারের কষ্ট কমাতে উঁচু রাস্তায় উঠার সময় নেমে যায় রিক্সা থেকে। আবার অনেক যাত্রী নামবে তো না, উল্টো বুঝিয়ে দিতে চায় এটাই রিক্সাওয়ালার কাজ, বিনিময়ে ভাড়া দিচ্ছেই। একটু গড়মিল হলে কেউ কেউ গালি দিতেও পিছ পা হন না রিক্সাওয়ালাদের।

হালিম মিয়াও অনেক অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হন, তবে তিনি শান্ত প্রকৃতির। কখনো কারো কথায় কষ্ট পেলেও জবাব দেন না। মনকে শক্ত করে নিজের কাজটা করে যান। ভাবেন, মন্দ মানুষের ভীড়ে ভালো মানুষও কম নয়। সন্তানদের মানুষ করার লড়াইটা তাকে করে যেতেই হবে। যেভাবেই হোক।

চট্টগ্রামে একটি কর্পোরেট হাউসে জব করেন কালাম সাহেব। তিনি অফিসে যাতায়ত করেন রিক্সায় করে। সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য তিনি হালিম মিয়ার রিক্সায় উঠেন। পথিমধ্যে উঁচু রাস্তায় উঠার সময় কামাল সাহেব রিক্সা থেকে নেমে হেঁটে এগুতে থাকেন। হালিম মিয়াকে বলেন টেনে সামনে আসতে। হালিম মিয়া প্রথমে বসে থাকার জন্য বললেও, শোনেননি কালাম সাহেব। খুশি হয় হালিম মিয়া।

সমতল জায়গায় এসে পুনরায় রিক্সায় উঠেন কালাম সাহেব। হালিম মিয়াকে জিজ্ঞেস করেন,
এতো উঁচু নিচু রাস্তা চট্টগ্রাম শহরে, আপনার তো অনেক কষ্ট হয়, তাই না?
কষ্ট তো হবেই সাহেব, কষ্ট না করলে কি আর পেটে ভাত জুটবো, তয় আপনার মতো অনেকেই নেমে যায় উঁচুতে উঠার সময়, আবার অনেকেই নামে না, তহন অনেক কষ্ট অয় টেনে তোলতে। তবে প্যাসেঞ্জার নামাইয়া দিয়া যহন টেহা হাতে পাই, কষ্ট আর থাহে না। হেটা রোজগার করতে অইলে কষ্ট করতে অইবই।

হালিম মিয়ার সরল সোজা উত্তর ও পরিশ্রমের ইতিবাচক মানসিকতায় মুগ্ধ হয় কামাল সাহেব। তিনি বলেন,
আপনি যদি পারেন প্রতিদিন সকালে আমাকে বাসার সামনে থেকে অফিসে নিয়ে আসবেন।
আমি চেষ্টা করমু স্যার। তয় কথা দিতে পারতাছি না। যদি সময় মতো কখনো আইতে পারি আসমু।

মাঝে মাঝেই কামাল সাহেবকে অফিসে নিয়ে আসে হালিম মিয়া। দুজনে সুখ দু:খের কথা বলেন। কামাল সাহেব নির্ধারিত ভাড়া থেকে বাড়িয়ে দেন মাঝে মাঝে। হালিম মিয়া খুশী হয়।

হালিম মিয়া জীবন যুদ্ধে লড়াকু সৈনিকের ভূমিকায় আছেন, লড়াই করতে কখনো পিছপা হন না তিনি। তিনি বিশ্বাস করেন, আজ নিজে এতো পরিশ্রম করলেও আল্লাহ চাইলে সন্তানদের কল্যানে তার দিন ফিরবেই। সন্তানদের নিজের মতো নয়, লেখাপড়া শিখিয়ে সাহেবদের মতো বানাবেন। ছেলেরা বড় চাকুরী করবে, বাবার কষ্ট লাঘব করবে, এই স্বপ্ন দেখেন হালিম মিয়া।

সকাল ৬ টাকা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকাল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রিক্সা চালান হালিম মিয়া। অন্যান্য চালকদের তুলনায় তিনি একটু বেশি সময়ই চিক্সা চালান, তাকে যে এ পরিশ্রমটুকু করতেই হবে, সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যের জন্য এ পরিশ্রম যে তুচ্ছ হালিম মিয়ার কাছে।

জুবায়ের আহমেদ
০৯ সেপ্টেম্বর ২৩

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial