ঢাকাশুক্রবার , ৪ আগস্ট ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

জব্বার ডাকাতের বিশাল হৃদয় (শেষ পর্ব)

জুবায়ের আহমেদ
আগস্ট ৪, ২০২৩ ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জুবায়ের আহমেদ

জব্বার আলী চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, আর কখনো ডাকাতি করবে না। বাবার কালে এবং নিজে সহ ডাকাতি করে যত সম্পদ গড়ছে সব ডাকাতীর শিকার হওয়া মানুষদের ফেরত দেবে এবং দাদার কালের সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করবে। বাজারে গিয়ে লোকজনের সামনেই জব্বার আলী ঘোষণা দেয় “আমাদের শ্যাম নগরে কোন ইস্কুল নাই, পোলা-মাইয়াদের লেহাপড়ার লাইগা আমি একটা ইস্কুল করমু, তোমরা আমারে সহযোগিতা করতে অইবো”।

জব্বার আলীর ঘোষণায় সবাই খুশি হয়। জব্বার আলীর অর্থায়নে একটি স্কুল নির্মাণ করা হয় এবং অন্য এলাকা থেকে শিক্ষকের ব্যবস্থা করা হয় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানোর জন্য। শুধু স্কুলই প্রতিষ্ঠাই নয়, এলাকার মানুষের যেকোন বিপদে আপদে পাশে থাকার ঘোষণা দেয় জব্বার আলী এবং নিজের ছোট্ট দোকানটি বড় করে দোকানেই ব্যবসা করে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চায়।

শ্যাম নগরের লোকজনও এখন জব্বার আলীর প্রতি বেশ আন্তরিক। পঁয়তাল্লিশ বৎসর চলা জব্বার আলীরে তারা এবার বিয়ে করাতে চায়। এদিকে শ্যামনগরের রশিদ মিয়ার মেয়ে জমিলা এক বৎসর স্বামীর সংসার করলেও জমিলাকে ছেড়ে দিয়ে আরেক বিয়ে করে ফেলে। গ্রামের মানুষও ঠিক করে জব্বার আলীর সাথে জমিলার বিয়ে দেবে। জব্বার আলীর তরফ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে খুশি মনেই গ্রহণ করে জমিলা ও তার বাবা রশিদ মিয়া। মহা ধুমধামে বিয়ে করে জব্বার আলী।

ডাকাতি জীবন নিয়ে অনুশোচনায় ভ‚গা জব্বার আলী বিয়ের পরই সিদ্ধান্ত নেয় দাদার রেখে যাওয়া সহায় সম্পত্তি ছাড়া বাবা ও নিজের
ডাকাতির মাধ্যমে অর্জিত সব সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করবে এবং যেসব বাড়ীগুলোতে ডাকাতি করেছে সুযোগ হলে সেসব বাড়ীর
বাসিন্দাদের সব ফিরিয়ে দেবে। জব্বার আলীর সিদ্ধান্তে খুশি হয় গ্রামবাসী। জব্বার আলীও নিজের কলংকিত ডাকাত পরিচয়কে পেছনে
ফেলে আট দশজন সাধারণ মানুষের মতো করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।

জব্বারকে বাবা হওয়ার সুসংবাদ দেয় জমিলা। খুশিতে আত্মহারা হয় জব্বার। ডাকাতির পরিচয়ের কারনে বিয়ে করতে না পারা জব্বার উত্তরাধিকার না থাকায় নিজের পরিচয় মুছে যাবার ভয়ে চিন্তিত ছিলে। অবশেষে বিয়ের পর সন্তান হওয়ার সংবাদ পেয়ে আরো সাহসী সিদ্ধান্ত নেয় জব্বার। অনাগত সন্তানের গায়ে কিছুতেই ডাকাতির কলংক লাগতে দেবে না। বাবা ও নিজের হাতে ডাকাতি করা সব সম্পদ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে ডাকাতি করা বাড়ীর মালিকদের ফিরিয়ে দেবে। আত্মসমর্পণ করলে জেলে যেতে হবে জেনেও সিদ্ধান্তে অটটু থাকে জব্বার।

জব্বারের সিদ্ধান্তে জমিলা ও গ্রামবাসী খুশি হলেও জব্বার জেলে চলে গেলে ছাড়া পাবে কিনা এই ভেবে ভেঙ্গে পরে সকলে। সবাইকে আশ্বস্ত করে জব্বার। নিজের পাপের পায়শ্চিত করতে গিয়ে কোন মায়ায় জড়িয়ে পিছপা হতে চায় না।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। জব্বার এলাকার লোক সমেত ডাকাতি করা সব সম্পদ স্থানীয় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। জব্বারের কান্ড দেখে অবাক হয় থানার বড় বাবু। এমনও হয় নাকি আজকাল! এলাকার লোকজন জব্বারের হয়ে সাফাই গায়। বড় বাবু সকলকে আশ্বস্ত করে, জব্বারকে আইনের মুখোমুখি করা ছাড়া ছেড়ে দেয়া সম্ভব নয় বলে জানায়।

জব্বারের কথা মতো ডাকাতির সম্পদ ডাকাতি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা আদালতের মাধ্যমে আসল মালিকদের বরাবরে ফেরত দেয় পুলিশ। ডাকাতি হওয়ার এতো বছর পর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াই ডাকাতের স্বইচ্ছায় সব ফেরত পাওয়ার ঘটনায় আশ্চর্যান্বিত হয় সকলে। এমনও হয় নাকি, ঘোর কাটেনা তাদের।

আদালত জব্বার আলীর আত্মসমর্পণ ও ডাকাতি করা সম্পদ ফেরত দেয়ার ঘটনায় বিস্মিত হয়। জানতে চায় কেনো হঠাৎ কেনো জব্বারের এমন উপলব্ধি হলো। জব্বার জানায়, আমি নিজেরে একা ভাবতে শুরু করি মাননীয় আদালত, ডাকাতি করার কারনে কেউ আমার পাশে থাহে নাই। কেউ আমারে দেখতে পারতো না, সামনে ভয়ে সালাম দিলেও পেছনে আমার ঘৃণ্য কাজের সমালোচনা করতো। এসব আমারে ভাবনায় ফেলে দেয়।

নিজের অনুভূতি এবং ভবিষ্যত ভাবনা প্রকাশ করে আদালতের সামনে। আদালতের কৃপা পেলে মানবতার সেবায় বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চায় বলে জানায় জব্বার। আদালত জব্বারকে জেলে পাঠায় এবং স্বপ্রনোদিত হয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জব্বারের মামলার বিস্তারিত জানান।

এলাকাবাসী এবং স্বয়ং জব্বারের দ্বারা ডাকাতির শিকার হওয়া সকলে আদালতের কাছে জব্বারকে একটি সুযোগ দেয়ার আর্জি জানায়। যে মানুষ ডাকাতির মতো জঘন্য কান্ডে নিয়োজিত থেকেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য এতোসব করতে পেরেছে, সে ভবিষ্যতে আর পূর্বের মতো কাজ করবে না এ বিশ্বাস তৈরী হয় সকলের মাঝে।

সরকারের উদ্ধর্তন মহল, এলাকাবাসী এবং ডাকাতির শিকার হওয়া সকলের সুপারিশ বিবেচনা শেষে দ্রুত মামলা নিস্পত্তি শেষে জব্বারকে মাত্র ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। আদালতের মহানুভবতায় খুশি হয় সকলে।

জব্বারের সন্তান সম্ভবা স্ত্রী জমিলার পাশে থাকে এলাকাবাসী। নিয়মি জমিলার যত্ন নেয় মহিলারা। ভাগ্যক্রমে জব্বারের সাজা শেষ হওয়ার দিনেই জমিলা একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। জেল থেকে বের হয়ে বাড়ী ফিরেই আনন্দের সংবাদ পায় জব্বার। নবজাতক কন্যাকে কোলে নিয়ে নিজের মাকে কল্পনা করে জব্বার, এ জেনো মহান আল্লাহ তায়ালা সন্তানরুপে জব্বারের মাকেই তার ঘরে পাঠিয়েছে।

ধুমধাম করে সন্তানের আকিকা অনুষ্ঠান করে জব্বার। বাবার হাতে গড়া দোকান বড় করে এখানে ব্যবসা করেই বাকি জীবনটা কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখে জব্বার।

বাবার কথা মনে করে জব্বার, বাবা জব্বারকে লেখাপড়া করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিজেই বাবার অজান্তে ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। লেখাপড়া করা সহ বাবার করা দোকানে নিয়মিত বসলে ডাকাতির মতো ঘৃনিত কাজে জড়াতে হতো না জব্বারের।

সমাপ্ত
খারাপ কাজে নিয়োজিত থাকা মানুষজন এক সময় অনুশোচনায় পড়ে সৎ জীবন যাপনে ফিরতে চাইলেও আমাদের সমাজ ব্যবস্তা তাদের গ্রহণ করে না, ভালো হতে দেয় না, তাদের ভালো হওয়া হয় না। এভাবে কুলষিত হয় সমাজ। খারাপের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু জব্বার আলীকে গ্রহণ করেছিল তার সমাজ। স্বাভাবিক জীবণে ফিরতে চাওয়া জব্বারকে গ্রহণ করেছিল তারা। যার মাধ্যমে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছিল জব্বার। শ্যামনগর হয়েছিল ডাকাত মুক্ত। অন্যান্য অপরাধীরাও সৎ পথে ফেরার অনুপ্রেরণা পায়।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial