ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩ আগস্ট ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিধি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে

জুবায়ের আহমেদ
আগস্ট ৩, ২০২৩ ৩:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা কেন সঠিক সময়ে অবসর নেয় না, এ নিয়ে আমি এবং আমরা অনেক কথা বলি। তবে বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। বাংলাদেশের বাস্তবতায় একজন ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষনা দিয়ে ফেললে তাঁর পরবর্তী ক্রিকেট ক্যারিয়ার শংকায় পড়ে যায় অর্থাৎ স্পন্সর হারানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে লীগ ও ম্যাচ খুবই সীমিত হওয়ায় ডমেস্টিকে সঠিক ভাবে মূল্যায়ণ হবে কিনা এবং জীবিকা নির্বাহ হবে কিনা সেই ভাবনা থাকে।

আমার ধারণা ঠিক এই কারনেই এখনো অবসরের ঘোষণা দেননি মাশরাফি বিন মোর্তুজা। যদিও এটিই একমাত্র কারণ, সেটা আমি বলছি না, আমি ধারণা করছি মাত্র অবস্থা বুঝে।

বাংলাদেশের ঘরোয়া লীগ বলতে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ, জাতীয় লীগ, বিসিএল এবং বিপিএল। এখানে ফরম্যাটভিত্তিক ভাগ করতে গেলে চারদিনের দুটো টুর্নামেন্ট, লিষ্ট এ একটি এবং টি২০ একটি টুর্নামেন্ট হয়। ক্রিকেটে বাংলাদেশের একটি ধনী, পেশাদার এবং উন্নতির পথে থাকা দলের ঘরোয়া ক্রিকেট এতটুকুতেই সমাপ্ত হতে পারে না।

অবসর নেয়া ক্রিকেটারদের জন্য লীগ বাড়াতে হবে এমন না, লীগ এবং ম্যাচ বাড়ানো জরুরী দেশের কিক্রেটের উন্নতির স্বার্থে। বছর জুড়ে ক্রিকেট চলমান থাকলে এমনিতেই ক্রিকেটার উঠে আসবে এবং ঘরোয়া ক্রিকেট শক্তিশালী হবে, যাতে লাভবান হবে দেশ।

পাশাপাশি যে সকল ক্রিকেটাররা জাতীয় দল থেকে অবসর নেয়ার সময়ে থাকে, তারাও চাইলে জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে অনায়াসে নিজেদের সামর্থ্য মত ফরম্যাটে আরো কয়েক বছর খেলতে পারবে, জীবিকা নির্বাহের চিন্তা কমে যাবে।

আমরা স্টুয়ার্ট ব্রড কিংবা মঈন আলীর অবসরে খুশি হই, বাহবা দেই যে, তারা সঠিক সময়ে অবসর নিয়েছে। তাঁরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও টেস্ট ফরম্যাট থেকে বিদায় নিলেও বসে থাকবে এমন নয়, ব্রড ঠিকই এই সময়ে আরো কয়েক বছর কাউন্টিতে খেলবে। মঈন আলীও চাইলে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলতে পারবে, ঐরকম সুযোগ পর্যাপ্ত ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে খুব বেশি ফাঁকা সময় থাকে না। বছর জুড়েই তাদের দেশে ক্রিকেট হয়।

আমাদের দেশের তুষার ইমরান, রাজিন সালেহ, অলক কাপালি সহ বহু ক্রিকেটার আছে যারা জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা না থাকলেও জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা দেয়ার সাহস করেনি, ডমেস্টিকে খেলেই একসময় সবধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছে তুষার, রাজিন সহ অনেকে। অলক এখনো খেলছে ঘরোয়া লীগে, এই তালিকায় আছে নাইম ইসলামের নামও। মাশরাফি বিন মোর্তুজার আর জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা না থাকলেও সেও ঘরোয়া লীগে খেলছে। অবসরের ঘোষণা দিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললে ঘরোয়া ক্রিকেটে মূল্য কমে যাওয়ার শংকা থেকেই মূলত অবসর না নিয়েই ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে থাকে ক্রিকেটাররা।

আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে লীগের সংখ্যা বাড়াতে হবে, চারদিনের দুটি টুর্নামেন্টের মতো লিষ্ট এ ২টি টুর্নামেন্ট, টি২০ দুটি টুর্নামেন্ট এবং চারদিনের বিসিএলে চার দলের পরিবর্তে ৬ দলকে নিয়ে আয়োজন করেত হবে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ততা বাড়লে, ক্রিকেটারদের মধ্যে অবশ্যই জাতীয় দল নিয়ে মরিয়া হওয়ার মানসিকতা কমবে। ঘরোয়া লীগ খেলেও সুন্দরভাবে জীবিকা নির্বাহ করা যায়, এই মানসিকতা তৈরী হবে। জাতীয় দলে না খেললেই সব শেষ নয়, এই বিশ্বাস তৈরী হবে এবং এক সময় ব্রড, মঈনদের মতো বাংলাদেশেও সময় মত অবসর নেয়ার সংস্কৃতি তৈরী হবে, যেমনটা আমরা চাই।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial