ঢাকাবুধবার , ২ আগস্ট ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

সরিষা চাষ, শৈশবের স্মৃতি এবং কিছু কথা

জুবায়ের আহমেদ
আগস্ট ২, ২০২৩ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কয়েকমাস আগে সরিষার মৌসুমে গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে সরিষা ক্ষেতের সমারোহ দেখে মুগ্ধ হলাম। ঠিক কত বছর পর জমির পর জমি জুড়ে সরিষা চাষ দেখছি মনে পড়ছে না। বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সরিষা চাষ হচ্ছে এবার গ্রামাঞ্চলে।

হঠাৎ করে সরিষা চাষ বৃদ্ধি পাওয়ার বড় কারণ হতে পারে সয়াবিন/পাম ওয়েলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া। যে দামে এখন ক্ষতিকর সয়াবিন/পাম ওয়েল কিনতে হয়, সেই দামে সরিষা তেল পাওয়া যেত গত বছর পর্যন্ত। ফলে সরিষা চাষ বাড়িয়ে সরিষা তেল ব্যবহার কিংবা সরিষা চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই হয়তো এবার বেড়েছে সরিষা চাষ।

সরিষা চাষের সাথে আমাদের শৈশবের স্মৃতি জুড়ে আছে ব্যাপকভাবে। সরিষার বীজ রোপনের পূর্বে জমিতে চাষ করা হয় না। বর্ষা শেষে আমন/হাইট্টা ধান কাটার পর জমিতে যে মূলগুলো (নাড়া) থাকে, সেগুলো শুকানোর পর আগুণ লাগিয়ে দেয়া হতো জমিতে। তারপর আমরা ছোট ছোট ছেলেরা সেই ছাইমাখা জমিতে ফুটবল খেলতাম। বিনিময়ে আমাদের দেয়া হতো তৎকালীন (১৯৯৯-২০০০) সুপার বিস্কুটের ১/২/৩প্যাকেট।

ফুটবল খেলা শেষ হলে একই দিন সন্ধ্যা বা পরের দিন ছিটানো হতো সরিষার বীজ। সেই সময়টা আমরা দারুণ ভাবে উপভোগ করেছি শৈশবে। বর্তমানে একই পদ্ধতিতে সরিষার বীজ ছিটানো হয় কিনা আমার জানা নেই। নতুন কোন পদ্ধতিও চালু হতে পারে।

তখনকার সময়ে যতটুকু মনে পড়ে। রান্না করা হতো সরিষার তেল দিয়ে। আমি নিজেই সরিষার তেল দিয়ে ডিম ভাজি করে খেয়েছি অসংখ্যবার। সেই সাথে মাছ-মাংশ ভূনাতেও সরিষার তেল ব্যবহার করেছি। এক সময় সয়াবিন/পামওয়েলের আমদানী ও ব্যবহার বাড়তে থাকে। একই সময়ে ইরি ধানের চাষও বাড়তে থাকে। ফলে ডিপ টিউবওয়েল/স্যালো মেশিনের পানি সেচের মাধ্যমে ইরি রোপনের জন্য নালা তৈরী করা এবং এরিয়া নির্ধারণের মাধ্যমে উক্ত এরিয়ার জমিগুলোর মধ্যে ইরি রোপনের ফলে এক ইরির প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সরিষা চাষ, কলুই, তিষি, মডর, গম, মিষ্টি আলু, শশা, ভাঙ্গি, তরমুজ চাষ সহ বহু দেশীয় কৃষিজ পণ্যের চাষ।

দৈনন্দিন রান্নার কাজে তেল ব্যবহার আবশ্যক। ক্ষতিকর সয়াবিন/পাম ওয়েল ব্যাপক ক্ষতিকারক হলেও সরিষার তেল অনেক উপকারী। যেহেতু সরিষা চাষের জন্য বাংলাদেশের মাটি বেশ উপযোগী এবং সরিষা চাষের মতো প্রচুর কৃষিজমি বিদ্যমান আমাদের দেশে। সেহেতু সরিষা চাষ বাড়ানোর মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারলে কিংবা চাহিদার অর্ধেক তেলও যদি উৎপাদন করা যায়, তাহলে সয়াবিন/পাম ওয়েলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার পাশাপাশি চড়া মূল্যে আমদানীও কমে যাবে।

সরকার মুনাফালোভী বর্গী ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য না দিয়ে যদি প্রয়োজনে ভতুর্কি দিয়ে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহী করতে পারে এবং সরিষা চাষ বৃদ্ধি করতে পারে এবং উৎপাদিত সরিষা সরকারী ব্যবস্থাপনায় ভোগ্যতেলে পরিণত করার মাধ্যমে জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মূল্য নির্ধারণ পূর্বক বাজারজাত করতে পারে, তাহলে সরিষা তেলের হারানো সুদিন ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নাগরিকদের সয়াবিন/পাম ওয়েলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা কঠিন হবে না।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial