ঢাকাবুধবার , ২ আগস্ট ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

প্রসঙ্গ ডেঙ্গু জ্বর: নাগরিক সচেতনতা জরুরী

জুবায়ের আহমেদ
আগস্ট ২, ২০২৩ ১২:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশে বছরজুড়েই নিয়মিত সমস্যা মশার উপদ্রপ। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বরে প্রতি বছর ঢাকা-চট্টগ্রাম শহর দেশব্যাপী বহু মানুষ আক্রান্ত হয়, মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। সেই সাথে সাধারণ মশার উপদ্রপে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হওয়ার অবস্থা, শুধুমাত্র সন্ধা থেকে সারা রাতই নয়, দিনের বেলাতেও মশা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। ক্ষুদ্রাকৃতির মশার কাছে মানুষের অসহায়ত্বও প্রকাশ হচ্ছে বারবার। ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যা সাগর মশার উপর বিরক্ত হয়ে একবার বলেছিলেন “রাতে মশা দিনে মাছি, এই নিয়ে কোলকতায় আছি”। এ ছিল প্রায় দেড়শ বছর পূর্বের ঘটনা, তখনকার সময় থেকে এখন চিকিৎসা ব্যবস্থা কিংবা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মকান্ড বেশ ভালো হলেও মশার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ ও নাগরিক অসচেতনতার কারনে। মশা থেকে শুধু ডেঙ্গু জ্বরই নয়, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, পীত জ্বর, জিকা ভাইরাস সহ আরো অনেক রোগের উৎপত্তি হয়। বাসায় মশার কয়েল কিংবা স্প্রে ব্যবহার করে মশক নিধনের চেষ্টা করা হলেও এই পদ্ধতি শান্ত¦না মাত্র, উল্টো মশার কয়েল বেশ ক্ষতিকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে মশার উপদ্রব স্বাভাবিক পর্যায়ের হলেও জেলা-উপজেলা ও সিটি শহরগুলোতে মশার চেয়ে বড় মহামরি আর কিছু নেই। নাগরিক জীবন অতিষ্ট হয়ে গেছে মশার নিবর আক্রমণে। মশার উপদ্রপ কমাতে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা সহ দায়িত্ববান কর্তৃপক্ষরা মশা নিধনের বিষয়ে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ লক্ষ্য করা যায় না। মাঝে মধ্যে রাস্তাঘাটে মশা নিধনের জন্য স্প্রে করা হলেও তা অব্যাহত না থাকায় পুনরায় অল্প সময়ের মধ্যেই আবোর মশা বাসা বাধে। নাগরিক জীবন অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছে মশার উপদ্রবে। এ নিয়ে নেই কোন আলাদা পরিকল্পনা ও উল্লেখযোগ কর্মকান্ড। দায়িত্ববানদের উদাসিনতার পাশাপাশি অসচেতন নাগরিক কর্তৃক যত্রতত্র ময়লাফেলা, বাসা-ছাদে, ফুলের টবে পানি জমে থাকা, বাড়ীর সামনে পেছনে জমে থাকা ময়লা পরিস্কার না করাও মশার উপদ্রব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। মশার অত্যাচারে অতীষ্ট নাগরিকদের অনেকেই মন্তব্য করেন “মেয়ররা যদি মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলেই তারা সফল মেয়র হিসেবে বিবেচিত হবেন”। সত্যিই তাই, কেননা মশার যন্ত্রনা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরম ভাবে ব্যাহত করছে”। ঢাকা-চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ভয়াবহ। অন্যান্য শহরগুলোতেও মশার উপদ্রবে অতিষ্ট সকলে।

পত্রিকায় প্রকাশিত পরিসংখ্যান মতে গত বছর রেকর্ডসংখ্যক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল বাংলাদেশে। ৬১ হাজার রোগীর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮১ জনের। অপরদিকে চলতি বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত হিসেবে ৪৯ হাজার ১৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২৪৭ জনের। তম্মধ্যে শুধুমাত্র জুলাই মাসেই ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে গর্ভবতী নারীও আছে। চলতি আগষ্ট মাসে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে মর্মে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। (সূত্র-বিবিসি)।

এই অবস্থায় সিটি কর্পোরেশনগুলা সহ দায়িত্ববান সকল সংস্থা ও ব্যক্তিদের মশক নিধনের জন্য সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার অধীনস্থ সকল ময়লারস্তুপ পরিস্কার সহ ড্রেনগুলোতে ময়লা জমতে না দেয়া এবং পানি চলাচল যাতে বিঘœ না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংশের জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। টিভি, পত্রিকা সহ সকল মিডিয়াও সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির আহŸান জানানো সহ জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আগ্রহী করে তোলতে পারে। সেই সাথে দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে, বাড়ীর আনাচে-কানাচে জমে থাকা পানি পরিস্কার করতে হবে, বারান্দায়-ছাদে, ফুলের টবে জমে থাকা পানি পরিস্কার করতে হবে। বাসায় কিছু কার্যকরী ব্যবস্থা যথা ফ্যান চালু রাখা, সুযোগ চলে চা পাতা ও নিম পাতা পোড়ানো, সুগন্ধি ব্যবহার করা যেতে পারে। সর্বোপরি দায়িত্ববান কর্তৃপক্ষকে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মশার কামড় ও মশা বাহিত রোগ থেকে দেশের সকল নাগরিককে রক্ষা করার সকল প্রচেষ্টা জরুরী ভিত্তিতে করা সময়ের দাবী।

জুবায়ের আহমেদ
সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial