ঢাকাবুধবার , ২ আগস্ট ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

দান সদকা ও বদান্যতা

সালেহ আহমেদ
আগস্ট ২, ২০২৩ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আল্লাহ তায়ালার দেওয়া বান্দার প্রতি হেদায়েতের অন্যতম একটি। আর কুরআনুল কারীম তার বর্ণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুবীর নস্কর এক বিষয়। আল্লাহ তাআলার দেওয়া বান্দার প্রতি যে পরিমাণ ধন দৌলত শক্তি সামর্থ্য ও নিয়ামত রাজি দান করেছেন তা যেন শুধু সে-ই ভোগ না করে; বরং পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজন অন্যদের কেউ শরিক করে এটাই দানশীলতা সারকথা।

আর অত্যন্ত বিস্তৃত ও সুবিন্যস্ত এর পরিধি। মানব সেবামূলক সমস্ত কিছুই এই শিরোনামের অধীনে। অভাবী মানুষদের জন্য অর্থ খরচ করা, নিজের জ্ঞানগত যোগ্যতা বা পদগত ক্ষমতার মাধ্যমে তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকা। নিজের সুবিধা অসুবিধা না ভেবে তাদের সেবায় উদার মনে কাজ করতে পারাই হবে বদান্যতা।
স্বয়ং কোরআনুল কারীম বদান্য তাকে একটি মৌলিক নেক কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন সকলকে।
কুরআনুল কারীমের প্রথমদিকে সুরা বাকারার প্রথম রুকুর আয়াতগুলোতে মুমিনের কামিয়াবির মৌলিক গুনাগুন বলা হয়েছে। যেমন: আল্লাহ তা’আলা বলেন- তারা আমার দেওয়া জীবনোপকরণ হতে (আমার রাস্তায় অন্যদের উপর) খরচ করে।
মুফাসসিরগণ আয়াতের তাফসিরে বলেন- আল্লাহর দেওয়া বান্দার প্রতি অর্থ-সম্পদ ছাড়াও দৈহিক শক্তি, শিল্প-গুণ, কর্ম- যোগ্যতা ইত্যাদির মাধ্যমেও সৃষ্টি কুলের সেবা করা দানশীলতার অংশবিশেষ। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে এরশাদ করেন- হে মমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দান করেছি, তা হতে তোমরা (আল্লাহর রাস্তায় মানব কল্যাণে) ব্যয় করো সেই দিন আসার পূর্বে, যেদিন কোন ক্রয়-বিক্রয় থাকবে না, কোন বন্ধুত্ব কাজে আসবে না এবং সুপারিশও গ্রহণযোগ্য হবে না।
(সূরা বাকারা-২৫৪)
অন্য এক আয়াতে দানশীলতার প্রতি উৎসাহিত করতে, তার উপকারিতা ও সওয়াবের গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন- তোমরা যে সম্পদই (মানুষের কল্যাণের জন্য) ব্যয় করবে তা তোমাদেরই কল্যাণে আসবে। আর তোমাদের অর্থ ব্যয় কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত এবং তোমরা যে সম্পদই ব্যয় করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে। তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না
 (সূরা বাকারা-২৭২)
আরো এক মর্মস্পর্শী ভঙ্গিতে আল্লাহ তায়ালা দানশীলতাকে উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- এবং আল্লাহকে ঋণ দাও, উত্তম ঋণ।
(সূরা মুজাম্মিল-২০)
অন্যত্র ইরশাদ করেন- এমন কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম পন্থায় এবং ঋণ দিবে, ফলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন।
এভাবে একাধিক সুরায় একাধিকবার দানশীলতার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।
দানশীলতার ব্যাপারে কোরআনের আরেকটি হেদায়েত হলো, দান-সদকা ও সহযোগিতা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার রাজি খুশির নিমিত্তেই হওয়া। লোক দেখানো, নিজের প্রভাব বিস্তার ও অন্য কোন মতলবে না হওয়া। বরং মানব সেবাই যে কাজই হোক না কেন তা হবে কেবল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা বলেন- আর তোমাদের অর্থ ব্যয় কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হবে।
(সুরা বাকারা-২৭২)
দানশীলতার ক্ষেত্রে কোরআনের আরেকটি হেদায়েত হলো, কাউকে কিছু দান করে বা কারো কোন উপকার করে খোঁটা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এর দ্বারা দানের সমস্ত সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা খোঁটা দিয়ে এবং কষ্ট দিয়ে তোমাদের দান সদকা বিনষ্ট করে ফেলো না।
প্রত্যেকটা জিনিসেরই রয়েছে কিছু নিয়ম-নীতি ও শৃঙ্খলা।
ঠিক তেমনি এর দান ও বদান্যতার ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু আজব ও পদ্ধতি।
যেমন:
১. একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য দান করা। এতে মানুষের প্রশংসা কুড়ানো বা দুনিয়াবি কোন স্বার্থে জড়িত না থাকা।
২. পবিত্র অর্থ দান করা। কেননা আল্লাহ নিজে পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।
৩. নিয়মিত দান করা যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়। এটি আল্লাহর নিকট প্রিয় আমল।
৪. প্রশস্ত মনে, উদার চিত্তে সওয়াবের নিয়তে দান করা।
৫. রক্ত সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয় অভাবীদের দান করার সওয়াব দ্বিগুণ। এতে দান ও আত্মীয়তা রক্ষার সওয়াব পাওয়া যায়।
৬. অত:পর বেশী অভাবীকে অগ্রাধিকার দেয়া। (যদিও বিশেষ প্রয়োজন ও জরুরি দরকার হলে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা জরুরি নয়।)
৭. গোপনে দান করা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, গোপনে এমনভাবে দান করতে হবে যে, যেন ডান হাত দান করলে বাম হাত জানতে না পারে। এভাবে গোপনে দানকারীকে মহান আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দান করবেন। তবে কেউ তাকে দান করতে দেখলে উৎসাহিত হবে বা অন্যরাও এগিয়ে আসবে এই নিয়তে প্রকাশ্যে দান করা জায়েজ আছে।
৮. যদি জানা যায়, যাকে দান করা হবে তার হাতে অর্থ গেলে সে তা হারাম ও গুনাহের কাজে ব্যয় করবে তাহলে তাকে দান কর জায়েজ নাই।
৯. বিশেষ কোনও উদ্দেশ্যে পূরণের নিয়তে মাজার, কবর, মৃত ব্যক্তি বা কোন মন্দিরে দান করা জায়েজ নাই।
১০. দীনী প্রতিষ্ঠানে দান করার ক্ষেত্রে ঐ সব প্রতিষ্ঠানে দান করা উচিৎ, যেখানে তাওহিদ ও সুন্নাহ ভিত্তিক দীনী ইলম শিক্ষা দেয়া হয়। যে সব প্রতিষ্ঠানে শিরক-বিদআত শেখানে হয় সেগুলোতে দান করা হারাম। কারণ তাতে শিরক-বিদআত চর্চায় সহায়তা করা হয়।
১১. নিজের প্রিয় জিনিস দান করা অধিক সওয়াবের।
১২. পিতামাতা বা অন্যান্য মৃত মুসলিমদের পক্ষ থেকে দান-সদকা করা জায়েজ। এতে তারা কবরে থেকেও সওয়াব লাভ করে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ দান করা উত্তম যা দ্বারা মানুষ দীর্ঘদিন উপকৃত হয়। যেমন: জায়গা-জমি ওয়াকফ করা, মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণ, টিউবওয়েলের ব্যবস্থা, দরিদ্র দীনী শিক্ষার্থীদের জন্য বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা, পোশাক, বই-পুস্তক ইত্যাদির ব্যবস্থা করা। এগুলো সব সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
১৩. সারা বছর দান করা যায়। তবে রমাযানে অধিক পরিমাণে দান করা সুন্নত। কারণ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসে ‘প্রবহমান বাতাস’ এর চেয়ে বেশি দান করতেন।
২৪. সমাজের অভাবী লোকদের খোঁজ নিয়ে তাদের বাড়িতে দানের সামগ্রী গোপনে পৌঁছিয়ে দেয়া উত্তম। কারণ এ শ্রেণীর মানুষেরা অভাবে কষ্ট পায় কিন্তু চক্ষুলজ্জায় কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারে না।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial