ঢাকাবুধবার , ২ আগস্ট ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

চিত্রার কালক্ষেপণ

রাসেল আহমেদ
আগস্ট ২, ২০২৩ ৭:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বটতলী থেকে মহানগর এক্সপ্রেসে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পৌছুতে সন্ধ্যা ৭ টা বেজে ৩০ মিনিট । ট্রেন থেকে ৩ নম্বর প্লাটফর্মে নেমে কোথায় বসব এ নিয়ে ভাবছিলাম । ভাবলাম, আগে হেল্প ডেস্ক এ গিয়ে জিজ্ঞাসা করি লালমনি এক্সপ্রেস কত নম্বর প্লাটফর্মে আসবে , তারপর নাহয় কোথাও বসা যাবে । এজন্য হেল্প ডেস্কে বসা পুলিশকে জিজ্ঞাসা করলাম-
-স্যার, লালমনি এক্সপ্রেস কত নং প্লাটফর্মে আসবে?
-মনিটরে দেখেন।

আমি মনিটরের সামনে গিয়ে কিছু বুঝতে পারছিলাম না । তবে এটা বুঝলাম এখনো ট্রেন এসে পৌছায় নি । তাই মনিটরের সামনে যাত্রীদের জন্য যে চেয়ার রাখা সেখানে বসে পড়লাম । ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে আগে থেকে জানা । সময় কাটেনা, পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রল করছিলাম । ফোনের চার্জ শেষ হওয়ার উপক্রম ।

সেদিন ছিলো ১৪ই এপ্রিল । ১৩ তারিখ সারা দেশে রেলওয়ে স্টাফ স্ট্রাইক ডাকার ফলে আন্তঃনগর সব ট্রেনের নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনে পৌছুতে দেরি হচ্ছিলো ১৪ তারিখ অবধি । সেজন্য কমলাপুরে অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রী সমাগম বেশি । সবাই নিজেদের গন্তব্যে পৌছানোর জন্য ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছে ।
খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিত্রা এক্সপ্রেস কমলাপুর থেকে ৭ টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল । কিন্তু তখনো সে কমলাপুরে পৌছুতে অনেক দেরি । বসে বসে মনিটরের সামনে এগুলো দেখছিলাম । প্রায় সাড়ে ন টার দিকে একজন আন্টি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন । পাশে, ওনার কিছু ব্যাগ ও বস্তা আগে থেকে রাখা ছিল । আমি ওনাকে ভদ্রতার খাতিরে উঠে দাঁড়িয়ে বসতে বললাম । উনি বসলেন কিন্তু কিছু বললেন না । আমি ভেবেছিলাম আন্টি হয়তো আমাকে বলবেন বাবা বসো বসো । উনি কিছুই বললেন না। একটু মন খারাপ করলাম । আবার এটাও ভেবেছিলাম আন্টি হয়তো আমার সাথে খোশগল্প করবেন কিন্তু সেটাও করছিলেন না।
প্রায় ৪০ মিনিট পর তিনি উঠে দাড়ালেন । তিনি আমাকে বললেন বাবা একটু এগুলো দেখিও তো আমি একটু ওদিক থেকে আসি । তিনি সেদিন অসুস্থ ছিলেন এবং অনেক মালপত্র নিয়ে একা । আমার মায়ের বয়সী সবাইকে আমার ভীষণ ভালো লাগে । তাই ওনার কথার চট করে রেসপন্স করলাম। ঠিক আছে আন্টি সমস্যা নাই, আমি আছি এখানে ,আপনি গিয়ে আসেন । এক পর্যায়ে আন্টির সাথে আমার ভাব হয়ে গেল ।

আমি দাঁড়িয়ে আছি ,এমন সময় উনি আমাকে একটা ব্যাগ দেখিয়ে দিয়ে বললেন-
বাবা,ওটাতে ড্রাগন ফল আছে । একটা নিয়ে খাও।
আমি প্রথম বার ও দ্বিতীয় বার না বলেছিলাম । ভেবেছিলাম আন্টি আরেকবার খেতে বললে একটা খাব।
অনেক ক্ষুধাও ছিল ,তিনি আর বলেন নি । ওনার অফার করা ড্রাগন ফলও আমার খাওয়া হয় নি ।

আমার ঠিক মনে পড়ছে না ,চিত্রা এক্সপ্রেস সম্ভবত সেদিন ১২:১০ মিনিটে অথবা এর আশেপাশে ঢাকায় এসে পৌছায় । এরই মধ্যে আমরা অনেক খোশগল্প করেছিলাম । ট্রেন কমলাপুর এলো। আন্টি চলে যাওয়ার সময়ও ঘনিয়ে এলো । তিনি উঠবেন,চলে যাবেন,আমাকে রেখে যাবেন।
তাহলে আমার মায়া জন্মালেন কেন?
একা একা এসব অযথা ভাবছিলাম। আসলে মানুষ জন্মগত ও স্বভাবত আবেগী । তাছাড়া বাঙালিদের আবেগ একটু বেশিই। সে সূত্রে আমিও আবার কম নই ।
আমি চেষ্টা করেছিলাম আন্টির বস্তা ও লাগেজ ট্রেন পর্যন্ত পৌছে দেওয়ার কিন্তু আমার একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না ।
আন্টি বললেন, কুলি ডেকে নিয়ে আসো বাবা । আমি একজনকে ডেকে নিয়ে আসলাম। তিনি চড়া দাম চাওয়ায় আমি আবার চেষ্টা করেছিলাম লাগেজ গুলো হাতে নেওয়ার । এই কাজে হেল্প করার জন্য এগিয়ে এসেছিলও একজন । সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাসে সদ্য চান্স প্রাপ্ত এক ছোট ভাই । বাড়ি পঞ্চগড় । কিন্তু আমরা ব্যর্থ হয়েছিলাম । পরে আন্টি ২০০ টাকা দিয়ে মালপত্র গুলো কুলি দ্বারা এগিয়ে নেন এবং চলে যান ।

আমি আন্টির মায়ায় পড়ে গিয়েছিলাম । কেন জানি মনে হচ্ছে খুব পরিচিত একজন মানুষকে হারিয়ে ফেলছি। হয়তো আমার জীবনাবসান অবধি তার সাথে আর কখনো দেখা হবে না, স্মৃতিতে রয়ে যাবেন। আমার হৃদয় শূণ্যতা অনুভব করছিল ! হাহাকার! আর্তনাদ! সে কি চাপা আর্তনাদ! আর পারছিলাম না । তাই আন্টি চলে যাওয়ার ৫ মিনিট পর আমি মনিটরের সামনে থেকে উঠে ওনাকে চিত্রা এক্সপ্রেসের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খুজতে থাকি । খুজতে খুজতে মালবাহী বগির কাছে ওনাকে দেখতে পাই । নিঃসংকোচে আন্টির নাম্বার চেয়ে বলি-আপনার জন্য মায়া কাজ করছে আন্টি । আমি আপনাকে ভুলতে পারব না । সারা জীবনের জন্য আপনি আমার আন্টি ।
চিত্রার কালক্ষেপণে মায়ার জগত থেকে সৃষ্টি হয় নতুন এক সম্পর্ক ।

চিত্রার কালক্ষেপণ
রাসেল আহমেদ

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial