ঢাকামঙ্গলবার , ১ আগস্ট ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

দিন ফিরবেই

জুবায়ের আহমেদ
আগস্ট ১, ২০২৩ ৪:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দারিদ্রতাকে জয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার বহু ঘটনা বাংলাদেশে বিদ্যমান, রহিম মিয়াও জয় করেছে দারিদ্রতা, ধৈর্য্য আর চেষ্টার সমন্বয়ে পেয়েছে সর্বোচ্চ সফলতা। অজপাড়া গায়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তান রহিম মিয়া। পৈত্রিক সূত্রে ৩ শতক ভিটি ভূমি ও ৫ শতক কৃষি জমি পেয়েছেন, অল্প বয়সেই বিয়ে করার পর দুই সন্তান জন্মগ্রহণ করলে দৈনন্দিন খরচ ও সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় পরে রহিম মিয়া।

অন্যের জমিতে দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে সামান্য আয় দিয়েই চলে তার সংসার, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৫ শতক জমি অনাবাদী অবস্থায় পরে থাকলেও স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে জমিতে শাক-সবজির চাষ শুরু করে রহিম মিয়া। দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নিজের জমিতে রোপিত শাক-সবজি বাজারে বিক্রয়ের মাধ্যমে পরিবারের সকল খরচ মেটানোর পাশাপাশি সামান্য কিছু টাকা সঞ্চয়ের সুযোগ হয় রহিম মিয়ার সংসারে।

দুই সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে হাসি ও ছোট ছেলে হাসানকে স্কুলে দেওয়ার পর রহিম মিয়ার সংসারে খরচ বাড়লে স্ত্রী হালিমা বেগম হাঁস-মুরগী লালন পালনে মনযোগী হন। পরিশ্রমী রহিম মিয়ার স্ত্রীও স্বামীর কষ্ট বুঝেন, সন্তানের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করবেন, সে স্বপ্ন দেখেন। অল্প জমিতেই শাক-সবজির ভালো ফলন হলে বাজারে বিক্রি করে ভালোই আয় করেন রহিম মিয়া, স্ত্রীও বাড়ীতে হাস-মুরগীর ডিম ও বাচ্চা বিক্রি করে আয় করতে থাকেন। এভাবেই একদিন সঞ্চিত টাকা দিয়ে নিজের ৫ শতক জমির পাশে আরো ৫ শতক জমি ক্রয় করে একত্রে ১০ শতক জমিতে সবজি চাষ করেন।

ছোট ছোট দুই ছেলে মেয়েও লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়ীতে ও জমিতে মা বাবাকে সহায়তা করেন। ছেলে মেয়ে বড় হওয়ার পাশাপাশি রহিম মিয়া ও হালিমা বেগমও স্ব স্ব কাজে সফলতা পেতে থাকেন।

এক সময় সঞ্চিত থাকার সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেলে গ্রামের পাশেই বাজারে মুদির দোকান খোলেন রহিম মিয়া। মেয়ে এখন ক্লাস ৮ম শ্রেণী ও ছেলে ৭ম শ্রেণীতে পড়ে। দোকানে ও জমিতে প্রয়োজনে বাবাকে সহযোগিতা করে হাসান, বাড়ীতে মাকে সহায়তা করে হাসি।

বাড়ীতে হালিমা বেগমের হাস-মুরগী পালনে সফলতা, জমিতে শাক-সবজি চাষে সফলতার পাশাপাশি নতুন দোকানেও ধীরে ধীরে সফল হয় রহিম মিয়া। ছেলেকে অনেক লেখাপড়া করানোর পাশাপাশি মেয়েকে লেখা পড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও গ্রামে মেয়েদের অল্প পড়ালেখা করিয়েই বিয়ে দেওয়ার রীতির কারনে হালিমা বেগমের সাথে হাসির বিয়ে নিয়ে কথা বলে রহিম মিয়া।

বাবা মায়ের কথা শুনতে পায় হাসি, কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাকে জানান অনেক লেখাপড়া করবে সে। মেয়ের চাওয়ার মূল্য দিতে চায় রহিম মিয়া, মেনে নেয় মেয়ের কথা। ব্যবসায় স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সফলতা পাওয়ায় বাড়তে থাকে রহিম মিয়ার সঞ্চয়। সঞ্চিত টাকা থেকে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ভিটি ভূমির পাশে আরো ৪ শতক জমি ক্রয় করে, বড় করে ঘর তোলেন রহিম মিয়া।

ছেলে মেয়ের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে বাড়ীর পরিবেশ সুন্দর করার পাশাপাশি ব্যবসা থেকে সঞ্চিত টাকা জমা রাখছেন ব্যাংকে। নিজে কায়িক পরিশ্রম করলেও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফল হওয়া রহিম মিয়া এখন এলাকার মানুষদের গর্বের নাম।

পরিশ্রমে আসে সফলতা, আর অলসায় আসে দারিদ্রতা। সৎ পথে চেষ্টা করা কোন ব্যক্তির চেষ্টা-পরিশ্রমই বিফলে যায় না, একবার ব্যর্থ হলে বারবার চেষ্টা করার মাধ্যমেও হলে সফলতা ধরা দেয়। রহিম মিয়ার সফলতা নিয়ে এ লেখাটি কাল্পনিক হলেও আমাদের সমাজে এমন বহু পরিশ্রমী মানুষ সফল হয়েছেন, হচ্ছেন। আমাদের পূর্ব পুরুষদের অনেকেই দারিদ্রতাকে জয় করে বড় হয়েছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও ব্যবসায়িক ভাবে সফল মানুষগুলোর পেছনের গল্পগুলোও অনেকটাই রহিম মিয়ার মতো। কেউ গ্রামে, কেউ শহরে, কেউ চাকুরী কিংবা কেউ ব্যবসা বা কেউ দৈনন্দিন ভিত্তিতে কাজ করেই সফলতা অর্জন করেছে এবং করছে। সৎপথে পরিশ্রম করলে, দিন ফিরবেই।

লেখক-গল্পকার ও প্রাবন্ধিক

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial