ঢাকাবুধবার , ২৬ জুলাই ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

চিকিৎসাসেবা  সহজ ও উন্নত হউক আরও

মৃধা প্রকাশনী
জুলাই ২৬, ২০২৩ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চিকিৎসাসেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি। যদিও মানুষ টাকার বিনিময়ে ওষুধ, চিকিৎসা পরামর্শ ক্রয়করে থাকে। তথাপি এ চিকিৎসা মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে  অন্যতম একটি। আমাদের এই বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসা নামের সোনার হরিণ আসলে কতটা মৌলিক এটাই বর্তমানে সবার মৌলিক প্রশ্ন।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ছাড়াও বেশ কিছু কারণে জনগণের এই মৌলিক অধিকারটি আজো পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি-আধাসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ এবং এনজিওগুলো এক্ষেত্রে একযোগে সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে না এলে সকলের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ আদৌ সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ। কেননা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে আমাদের দেশে পর্যাপ্ত ডাক্তার, দক্ষ নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব অনেক বেশি। সেই সাথে আমাদের অসচেতনতা রোগীদের দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। এমন অনেক শিক্ষিত লোকও দেখা যায় যারা জানেনই না কোন রোগের বিশেষায়িত হাসপাতাল কোনটা। এবং তার অবস্থানটাই বা কোথায়। সকলকে এমএলএফএফ ডিগ্রীধারী হতে হবে এ কথা আমি বলছি না। তবে স্বাস্থ্য সচেতনতা, প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান, কোন রোগের বিশেষায়িত হাসপাতাল কোনটা এবং তার অবস্থান সম্পর্কিত জ্ঞান যে অনেক ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে তা সকলেই মেনে নিতে বাধ্য। এ সম্পর্কিত জ্ঞান নিঃসন্দেহে বাঁচিয়ে দিতে পারে অনেক মূল্যবান প্রাণ।
আমাদের আশেপাশে বা চলার পথে নানা দুর্ঘটনা ঘটে । এই দুর্ঘটনা কবলিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো একজন সুনাগরিকের কর্তব্য । তবে এই পাশে দাঁড়ানোটা যদি হয় আন্তরিকতাপূর্ণ এবং ফাস্ট এইড জ্ঞানসম্পন্ন তবেই তা হয় যথার্থ। ডাক্তার আসার পূর্ব পর্যন্ত সময় আহত বা আক্রান্ত ব্যক্তির আরোগ্যের পথ সুগম করা এবং অবস্থার অবনতি না ঘটে সে মত ব্যবস্থা করাই প্রাথমিক চিকিৎসা।
তাই বিশেষ শিক্ষার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে চিকিৎসাসেবার প্রাথমিক শিক্ষা ও সচেতনতা প্রদান করা অতান্ত জরুরী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল—এর কথাই যদি বলি,এখানে প্রতিদিন অসংখ্য নতুন রোগী আসছে, রোগীকে সহযোগিতা করার মত অজ্ঞ-বিজ্ঞ দুই ধরনের লোকই পাওয়া যাবে। তারা কাছাকাছি কোন নিরাময় কেন্দ্রে নিয়েও যাবেন। সমস্যার শুরুটা হয় এরপর থেকে। আমাদের একটা জাতীয় চরিত্র হল আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যের স্বার্থের বেলায় আন্তরিক, যতক্ষণ না তার সাথে নিজ স্বার্থের সংযোগ ঘটে। আর এ কারণেই সমস্যার শুরু হয় কেননা এর পরবর্তী ধাপগুলোই কারো না কারো স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
উল্লেখ যোগ্য কিছু অভিযোগ যা অনেক পূর্বথেকে করা হচ্ছে যেমন বিভিন্ন হাসপাতালে নার্স এবং ডাক্তারদের কাজ করে থাকে ওয়ার্ডভয় ও আয়ারা যার ফলে অনেক দূর্ঘটনা ও ঘটে। মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এধরণের কাজ যে শুধু মাত্র সরকারি হাসপাতালে-ই লক্ষ করা যায় বিষয় টি এমন নয় প্রাইভেট হাসপাতালে তা আরও ভয়াবহ অবস্থা।
প্রাইভেট হাসপাতালে ওযার্ডভয় গলার অপারেশন করতে গিয়ে রুগীর মৃত্যুর মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। একই ইনস্টোম্যান কোনো প্রকার ভায়েল ছাড়াই একরে অধিক রুগীর ক্ষেত্রে ব্যাবহার করতেও দেখা যায়। তারপরও বন্ধ হচ্ছে না এই সকল অনিয়ম। বড় ধরনের কোনো দূর্ঘটনা ঘটলে অভিযুক্ত হাসপাতাল কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে। কিছুদিন পর পুনঃ যথারীতি উক্ত হাসপাতালের সকল কার্যক্রম চালুকরা হয়।

সমস্যার সমাধানে প্রস্তাবনা:
✪একই ডাক্তার দিয়ে যাবতীয় জটিল রোগের চিকিৎসার সনাতনী পদ্ধতি পরিহার।
✪ সঠিকভাবে সরকারী ঔষধ সরবরাহ এবং বিলি নিশ্চিত করা ।
✪ ডাক্তারদের চাকুরীর বয়স এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে প্রমোশনের ব্যবস্থা করা।
✪ প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে অন্তত একজন পাবলিক রিলেসন্স অফিসার নিয়োগ।
✪অনতিবিলম্বে দেশে প্রয়োজনানুযায়ী মানসম্মত মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। যেখান থেকে বেড়িয়ে আসবেন চিকিৎসক–নার্স যা আমাদের দেশের চিকিৎসক–নার্স এর ঘাটতি পূরণে করতে সক্ষম হবে।
✪ পরিচালনা ব্যাবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।
✪ জেলা, উপজেলা, গ্রাম পর্যায়ে অবস্থানরত ডাক্তারদের শহরের তুলনায় বেশি সুযোগ সুবিধা প্রদান করা।
✪ প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ,নার্স এবং মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টের ব্যবস্থা করা।
✪ প্রতিটি ডাক্তারকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এফসিপিএস ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তৈরি করা।
✪ সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্র ক্লোজ মনিটরিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ। যা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই সম্ভব।
✪ যেসব ব্যক্তিবর্গ হাসপাতাল পরিচালনা করেন তাদের দেশের বাইরে চিকিৎসা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা উচিৎ।
✪ হাস্যকর মনে হলেও বলব এলাকার প্রতিটি জনপ্রতিনিধি এবং সরকারী অফিসারদের স্থানীয় সরকারী নিরাময় কেন্দ্রগুলো থেকে চিকিৎসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা উচিৎ।
✪ একটি হাসপাতালের রোগী থেকে শুরু করে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়সহ সবার সুযোগ–সুবিধা দেখা এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্য সেখানে  ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
✪ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বা পুরো স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ বাজেট কীভাবে কোথায় খরচ করতে হবে, সেটির পরিকল্পনা ও তদারকি করার দক্ষতা এই ব্যবস্থাপকের থাকতে হবে।
✪ জবাবদিহিতা থাকতে হবে পরিকল্পনামাফিক কাজ ঠিকমতো না হলে তার ব্যাপারে জবাবদিহি করার পরিবেশ থাকতে হবে। ব্যবস্থাপকদের যেমন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, তেমনি কাজে ত্রুটি থাকলে সেই ব্যাপারে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
✪ চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যারা চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলবে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকদের রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানো জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

ঢামেকহা আশপাশের পরিবেশের কথা যদি বলি,
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আশেপাশে দেখা যায় নেশাখোরদের অবস্থান। যেখানে সর্বসমূখে নেশা করে বেড়াচ্ছে ঔষধ, গ্লাভস, ক্যানোলা, সিরিঞ্জ ইত্যাদি ইকুইপমেন্ট খোলামেলা নিয়ে সাজিয়ে বসে আছে ক্রয়-বিক্রয়ও চলছে দিব্বি।
এই দিকেও নজর দিতে হবে কেন এসব হচ্ছে! এবং এর শেষ কোথায়! কি এর সমাধান।
প্রতিটি হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে।

সরকারি হাসপাতালগুলোর চারপাশে ভিতরে-বাহিরে দালালদের আনাগোনা রোগীদেরপরতে হয় দালালদের খপ্পরে।
বাহিরে ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধি প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো ব্যায়বহুল যা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন তবে এখানেও নিস্তার নেই ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাত থেকে এসব দেখে মনে হয় এখানে সেবানয় ব্যাবসাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

সেবা নিতে আসা রোগীরা প্রশ্ন তুলছে,
কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং এর পরিচালকদের এ পেশাটাকে মহৎ পেশা হিসেবে কি দেখন না?। সেবা দিয়ে সম্মানি নিবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু সুদের কারবারিদের মত সন্তানকে, রোগীকে আটকে রাখেন কি করে! এ সমাজ, এ দেশ আপনাদের কাছে কি কিছু দাবি করতে পারে না? কোন দায়বদ্ধতাই কি আপনাদের নেই? রোগীদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন ভাবে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে এর জন্য তারা দ্বায়ী ভাবছেন এই ব্যাবস্থাপনাকে।
বাহিরে এসে গালি দিচ্ছে এই দেশকে দেশের সিস্টেম কে হাসপাতালের সাথে জড়িত সবাইকে।

এক ভুক্তভোগী রোগীর বক্তব্য,
আমরা লজ্জিত হই যখন দেখি যেসব ব্যক্তিবর্গ নিজেদের নিরাময় কেন্দ্রকে বিশ্বমানের বলে সারা বছর গলাবাজি করলেও নিজের স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার সময় নিজেই নিজের হাসপাতালের উপর আস্থা রাখতে পারেন না। ছুটে যান ভিনদেশে। এদের কি তখন লজ্জা করেনা যখন বিদেশি হাসপাতালগুলোর থেকেও এরা বেশি চার্জ ধার্য করেন? অথচ সেবার মানের ব্যাপারে নিজেরাই আস্থাশীল নন। আমাদের জানতে ইচ্ছে করে এদের গায়ের চামড়া কতটা মোটা। চিকিৎসা তাদের কাছে সেবা নয় ব্যবসা।

স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা সেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সরকারের দায়িত্ব স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা। সরকারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে রোগীরা সেবা নিতে আসেন মুলতঃ বিনামূল্যে মান সম্মত চিকিৎসার আশায় । গরীব রোগীদের শেষ আশ্রয়স্থল এই সরকারী হাসপাতাল। আর তাই প্রয়োজন যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহন এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা খাতের আমূল পরিবর্তন।

চিকিৎসাসেবায় হোক মানুষের কল্যাণে

উন্নত হউক চিকিৎসা সেবা

সহজতর ও উন্নত হউক চিকিৎসা ব্যাবস্থা

চিকিৎসা সেবায় নিয়ে আসুন উন্নয়নের পরিবর্তন

চিকিৎসা সেবা মানুষের মৌলিক অধিকার

চিকিৎসাসেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি। যদিও মানুষ টাকার বিনিময়ে ওষুধ, চিকিৎসা পরামর্শ ক্রয় করে থাকে। তথাপি এ চিকিৎসা মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম একটি। আমাদের এই বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসা নামের সোনার হরিণ আসলে কতটা মৌলিক- এটাই বর্তমানে সবার মৌলিক প্রশ্ন।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ছাড়াও বেশ কিছু কারণে জনগণের এই মৌলিক অধিকারটি আজও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি-আধাসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এবং এনজিওগুলো এক্ষেত্রে একযোগে সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে না এলে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ আদৌ সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ। কেননা, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে আমাদের দেশে পর্যাপ্ত ডাক্তার, দক্ষ নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব অনেক বেশি। সেই সঙ্গে আমাদের অসচেতনতা রোগীদের দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। এমন অনেক শিক্ষিত লোকও দেখা যায়, যারা জানেনই না- কোন রোগের বিশেষায়িত হাসপাতাল কোনটা এবং তার অবস্থানটাই বা কোথায়। সবাইকে এমএলএফএফ ডিগ্রিধারী হতে হবে এ কথা আমি বলছি না। তবে স্বাস্থ্য সচেতনতা, প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান, কোন রোগের বিশেষায়িত হাসপাতাল কোনটা এবং তার অবস্থান সম্পর্কিত জ্ঞান যে অনেক ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে তা সবাই মেনে নিতে বাধ্য। এ সম্পর্কিত জ্ঞান নিঃসন্দেহে বাঁচিয়ে দিতে পারে অনেক মূল্যবান প্রাণ।

আমাদের আশপাশে বা চলার পথে নানা দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনাকবলিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো একজন সুনাগরিকের কর্তব্য। তবে এই পাশে দাঁড়ানোটা যদি হয় আন্তরিকতাপূর্ণ এবং ফাস্ট এইড জ্ঞানসম্পন্ন তবেই তা হয় যথার্থ। ডাক্তার আসার পূর্ব পর্যন্ত সময় আহত বা আক্রান্ত ব্যক্তির আরোগ্যের পথ সুগম করা এবং অবস্থার অবনতি না ঘটে, সে মতো ব্যবস্থা করাই প্রাথমিক চিকিৎসা।

তাই বিশেষ শিক্ষার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে চিকিৎসাসেবার প্রাথমিক শিক্ষা ও সচেতনতা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কথাই যদি বলি, এখানে প্রতিদিন অসংখ্য নতুন রোগী আসছে, রোগীকে সহযোগিতা করার মতো অজ্ঞ-বিজ্ঞ দুই ধরনের লোকই পাওয়া যাবে। তারা কাছাকাছি কোনো নিরাময় কেন্দ্রে নিয়েও যাবেন। সমস্যার শুরুটা হয় এরপর থেকে। আমাদের একটা জাতীয় চরিত্র হলো, আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যের স্বার্থের বেলায় আন্তরিক, যতক্ষণ না তার সঙ্গে নিজ স্বার্থের সংযোগ ঘটে। আর এ কারণেই সমস্যার শুরু হয়- কেননা-এর পরবর্তী সময় ধাপগুলোই কারো না কারো স্বার্থসংশ্লিষ্ট।

উল্লেখযোগ্য কিছু অভিযোগ যা অনেক আগে থেকে করা হচ্ছে যেমন- বিভিন্ন হাসপাতালে নার্স এবং ডাক্তারের কাজ করে থাকে ওয়ার্ডবয় ও আয়ারা, যার ফলে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে। মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এধরনের কাজ যে শুধু সরকারি হাসপাতালেই লক্ষ্য করা যায় বিষয়টি এমন নয়, প্রাইভেট হাসপাতালে তা আরো ভয়াবহ অবস্থা।

প্রাইভেট হাসপাতালে ওযার্ডবয় গলার অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর মৃত্যুর মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। একই ইনস্টোম্যান কোনো ধরনের ভায়েল ছাড়াই একের অধিক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেও দেখা যায়। তারপরও বন্ধ হচ্ছে না এসব অনিয়ম। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে অভিযুক্ত হাসপাতাল কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে। কিছুদিন পর পুনঃযথারীতি উক্ত হাসপাতালের সব কার্যক্রম চালু করা হয়।

সমস্যার সমাধানে প্রস্তাবনা

১. একই ডাক্তার দিয়ে যাবতীয় জটিল রোগের চিকিৎসার সনাতনী পদ্ধতি পরিহার।
২. সঠিকভাবে সরকারি ওষুধ সরবরাহ এবং বিলি নিশ্চিত করা।
৩. ডাক্তারদের চাকরির বয়স এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে প্রমোশনের ব্যবস্থা করা।
৪. প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে অন্তত একজন পাবলিক রিলেসন্স অফিসার নিয়োগ।
৫. অনতিবিলম্বে দেশে প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত মেডিক্যল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। যেখান থেকে বেড়িয়ে আসবেন চিকিৎসক-নার্স যা আমাদের দেশের চিকিৎসক-নার্স এর ঘাটতি পূরণে করতে সক্ষম হবে। ৬. পরিচালনা ব্যাবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। ৭. জেলা, উপজেলা, গ্রাম পর্যায়ে অবস্থানরত ডাক্তারদের শহরের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। ৮. প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক-নার্স এবং মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টের ব্যবস্থা করা। ৯. প্রতিটি ডাক্তারকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এফসিপিএস ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তৈরি করা। ১০. সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্র ক্লোজ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ। যা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই সম্ভব। ১১. যেসব ব্যক্তিবর্গ হাসপাতাল পরিচালনা করেন, তাদের দেশের বাইরে চিকিৎসা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা উচিত। ১২. হাস্যকর মনে হলেও বলব, এলাকার প্রতিটি জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি অফিসারদের স্থানীয় সরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলো থেকে চিকিৎসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। ১৩. একটি হাসপাতালের রোগী থেকে শুরু করে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়সহ সবার সুযোগ-সুবিধা দেখা এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্য সেখানে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ১৪. একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বা পুরো স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ বাজেট কীভাবে কোথায় খরচ করতে হবে, সেটির পরিকল্পনা ও তদারকি করার দক্ষতা এ ব্যবস্থাপকের থাকতে হবে। ১৫. জবাবদিহিতা থাকতে হবে পরিকল্পনামাফিক কাজ ঠিকমতো না হলে তার ব্যাপারে জবাবদিহি করার পরিবেশ থাকতে হবে। ব্যবস্থাপকদের যেমন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, তেমনি কাজে ত্রুটি থাকলে সেই ব্যাপারে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। ১৬. চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যারা চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলবে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকদের রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানো জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

ঢামেকহা আশপাশের পরিবেশের কথা যদি বলি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে দেখা যায় নেশাখোরের অবস্থান। যেখানে সর্বসম্মুখে নেশা করে বেড়াচ্ছে ওষুধ, গ্লাভস, ক্যানোলা, সিরিঞ্জ ইত্যাদি ইকুইপমেন্ট খোলামেলা নিয়ে সাজিয়ে বসে আছে ক্রয়-বিক্রয়ও চলছে দিব্বি।

এই দিকেও নজর দিতে হবে কেন এসব হচ্ছে! এবং এর শেষ কোথায়! কি এর সমাধান। প্রতিটি হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতালগুলোর চারপাশে ভেতরে-বাইরে দালালের আনাগোনা রোগীদের পরতে হয় দালালের খপ্পরে।

বাইরে ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধি প্রাইভেট হাসপাতালগুলো ব্যয়বহুল যা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন, তবে এখানেও নিস্তার নেই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাত থেকে, এসব দেখে মনে হয় এখানে সেবা নয়, ব্যবসাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

সেবা নিতে আসা রোগীরা প্রশ্ন তুলছে

কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং এর পরিচালকদের এ পেশাটাকে মহৎ পেশা হিসেবে কি দেখেন না? সেবা দিয়ে সম্মানি নেবেন এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু সুদের কারবারিদের মতো সন্তানকে, রোগীকে আটকে রাখেন কি করে! এ সমাজ, এ দেশ আপনাদের কাছে কি কিছু দাবি করতে পারে না? কোনো দায়বদ্ধতাই কি আপনাদের নেই? রোগীদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্নভাবে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে-এর জন্য তারা দায়ী ভাবছেন এই ব্যবস্থাপনাকে। বাইরে এসে গালি দিচ্ছে এই দেশকে, দেশের সিস্টেমকে, হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত সবাইকে।

এক ভুক্তভোগী রোগীর বক্তব্য

আমরা লজ্জিত হই যখন দেখি যেসব ব্যক্তিবর্গ নিজেদের নিরাময় কেন্দ্রকে বিশ্বমানের বলে সারা বছর গলাবাজি করলেও নিজের স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার সময় নিজেই নিজের হাসপাতালের উপর আস্থা রাখতে পারেন না। ছুটে যান ভিনদেশে। এদের কি তখন লজ্জা করে না, যখন বিদেশি হাসপাতালগুলোর থেকেও এরা বেশি চার্জ ধার্য করেন? অথচ সেবার মানের ব্যাপারে নিজেরাই আস্থাশীল নন। আমাদের জানতে ইচ্ছে করে, এদের গায়ের চামড়া কতটা মোটা। চিকিৎসা তাদের কাছে সেবা নয়, ব্যবসা।

স্বাস্থ্য বা চিকিৎসাসেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সরকারের দায়িত্ব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে রোগীরা সেবা নিতে আসেন মূলত বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসার আশায়। গরিব রোগীদের শেষ আশ্রয়স্থল এই সরকারি হাসপাতাল। আর তাই প্রয়োজন যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা খাতের আমূল পরিবর্তন।

তৌফিক সুলতান – ইন্টার্ন শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
01746501454
towfiqsultan.help@gmail.com

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial